মহব্বত (পর্ব- ১)
এহইয়াউ উলুমিদ্দীন - ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
আল্লাহর মহব্বত:
আল্লাহ তা'আলার মহব্বত হচ্ছে সকল মকামের চূড়ান্ত সীমা এবং সর্বোচ্চ মর্তবা। কারণ, মহব্বতের পর 'শওক’ (আগ্রহ), 'উন্স'’ (অনুরাগ), ‘রিযা’ (সম্মতি) ইত্যাদি যত মকামই আসুক না কেন, সবই মহব্বতের অনুগামী ও ফল। মহব্বতের পূর্বে তওবা, সবর, যুহদ ও অন্যান্য যত মকাম রয়েছে, সবই মহব্বতের ভূমিকা। অন্যান্য মকামের অস্তিত্ব বিরল হলেও সব অন্তরে সেগুলোর সম্ভাবনা থাকে এবং সেগুলোর সম্ভাব্যতার বিশ্বাস থেকে কোন অন্তর শূন্য নয়। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার মহব্বতে বিশ্বাস স্থাপন করাই কঠিন। এমনকি, কোন কোন আলেম এর সম্ভাবনা অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন- অব্যাহতভাবে তাঁর আনুগত্য করে যাওযয়াই খোদায়ী মহব্বত। তার সাথে সত্যিকার মহব্বত অসম্ভব। কেননা, মহব্বত সমজাতি ও সমশ্রেণীর সাথে হয়ে থাকে। তারা মহব্বত অস্বীকার করার পর মহব্বতের অপরিহার্য বিষয়াবলী যেমন উত্স, শওক, রিযা ইত্যাদিও অস্বীকার করে বসেছেন। তাই আমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়োজন অনুভব করছি।
এ অধ্যায়ে দুটি পরিচ্ছেদ ও একটি পরিশিষ্ট বর্ণিত হয়েছে ।
প্রথম পরিচ্ছেদ —
আল্লাহর সাথে বান্দার মহব্বত ও মুসলিম উম্মাহর সবাই এ বিষয়ে একমত যে, আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়া-সাল্লাম) এর সাথে বান্দার মহব্বত থাকা ফরয। অতএব, আমাদের প্রশ্ন, যদি মহব্বতের অস্তিত্বই না থাকে, তবে তা ফরয কেমন করে হবে ? মহব্বতের ব্যাখ্যা যারা আনুগত্যের দ্বারা করেন, তা-ও কিরূপে সম্ভব ? কেননা, আনুগত্য তো মহব্বতের অনুগামী ও ফল। প্রথমে মহব্বত অস্তিত্ব লাভ করবে, এরপর প্রেমাস্পদের আনুগত্য হবে। মহব্বতের অস্তিত্বের প্রমাণ স্বরূপ আল্লাহ তা'আলার এই এরশাদ "আল্লাহ তাদেরকে মহব্বত করেন এবং তারা আল্লাহকে মহব্বত করে।"
অন্যত্র এরশাদ হয়েছে "যারা ঈমানদার তারা আল্লাহকে গভীরতর মহব্বত করে”।
এ দুটি আয়াত থেকে জানা যায়, মহব্বতের অস্তিত্ব রয়েছে এবং তাতে পার্থক্য হয়ে থাকে। রসূলে আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়া-সাল্লাম) অনেক হাদীসে আল্লাহর মহব্বতকে ঈমানের শর্ত বলেছেন।
ঈমান কি ? আবু রুযায়ন ওকায়লী (রঃ) এর এ প্রশ্নের জওয়াবে তিনি বলেন : তোমার কাছে দুনিয়ার সবকিছু অপেক্ষা আল্লাহ ও রসূল অধিকতর প্রিয় হওয়া।
এক হাদীসে আছে "তোমাদের মধ্যে কেউ মুমিন হবে না যে পর্যন্ত না তার কাছে আল্লাহ ও রসূল দুনিয়ার সবকিছু অপেক্ষা অধিকতর প্রিয় হবে"।
আরেক হাদীসে আছে- "বান্দা ঈমানদার হবে না যে পর্যন্ত না আমি তার কাছে তার পরিজন, ধন-সম্পদ ও সমস্ত মানুষের ছেয়ে অধিক প্রিয় হব"।
এক রেওয়ায়েতে - “তার নিজের ছেয়ে অধিক” বলা হযয়েছে।
আল্লাহ তা'আলার মহব্বত হচ্ছে সকল মকামের চূড়ান্ত সীমা এবং সর্বোচ্চ মর্তবা। কারণ, মহব্বতের পর 'শওক’ (আগ্রহ), 'উন্স'’ (অনুরাগ), ‘রিযা’ (সম্মতি) ইত্যাদি যত মকামই আসুক না কেন, সবই মহব্বতের অনুগামী ও ফল। মহব্বতের পূর্বে তওবা, সবর, যুহদ ও অন্যান্য যত মকাম রয়েছে, সবই মহব্বতের ভূমিকা। অন্যান্য মকামের অস্তিত্ব বিরল হলেও সব অন্তরে সেগুলোর সম্ভাবনা থাকে এবং সেগুলোর সম্ভাব্যতার বিশ্বাস থেকে কোন অন্তর শূন্য নয়। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার মহব্বতে বিশ্বাস স্থাপন করাই কঠিন। এমনকি, কোন কোন আলেম এর সম্ভাবনা অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন- অব্যাহতভাবে তাঁর আনুগত্য করে যাওযয়াই খোদায়ী মহব্বত। তার সাথে সত্যিকার মহব্বত অসম্ভব। কেননা, মহব্বত সমজাতি ও সমশ্রেণীর সাথে হয়ে থাকে। তারা মহব্বত অস্বীকার করার পর মহব্বতের অপরিহার্য বিষয়াবলী যেমন উত্স, শওক, রিযা ইত্যাদিও অস্বীকার করে বসেছেন। তাই আমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়োজন অনুভব করছি।
এ অধ্যায়ে দুটি পরিচ্ছেদ ও একটি পরিশিষ্ট বর্ণিত হয়েছে ।
প্রথম পরিচ্ছেদ —
আল্লাহর সাথে বান্দার মহব্বত ও মুসলিম উম্মাহর সবাই এ বিষয়ে একমত যে, আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়া-সাল্লাম) এর সাথে বান্দার মহব্বত থাকা ফরয। অতএব, আমাদের প্রশ্ন, যদি মহব্বতের অস্তিত্বই না থাকে, তবে তা ফরয কেমন করে হবে ? মহব্বতের ব্যাখ্যা যারা আনুগত্যের দ্বারা করেন, তা-ও কিরূপে সম্ভব ? কেননা, আনুগত্য তো মহব্বতের অনুগামী ও ফল। প্রথমে মহব্বত অস্তিত্ব লাভ করবে, এরপর প্রেমাস্পদের আনুগত্য হবে। মহব্বতের অস্তিত্বের প্রমাণ স্বরূপ আল্লাহ তা'আলার এই এরশাদ "আল্লাহ তাদেরকে মহব্বত করেন এবং তারা আল্লাহকে মহব্বত করে।"
অন্যত্র এরশাদ হয়েছে "যারা ঈমানদার তারা আল্লাহকে গভীরতর মহব্বত করে”।
এ দুটি আয়াত থেকে জানা যায়, মহব্বতের অস্তিত্ব রয়েছে এবং তাতে পার্থক্য হয়ে থাকে। রসূলে আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়া-সাল্লাম) অনেক হাদীসে আল্লাহর মহব্বতকে ঈমানের শর্ত বলেছেন।
ঈমান কি ? আবু রুযায়ন ওকায়লী (রঃ) এর এ প্রশ্নের জওয়াবে তিনি বলেন : তোমার কাছে দুনিয়ার সবকিছু অপেক্ষা আল্লাহ ও রসূল অধিকতর প্রিয় হওয়া।
এক হাদীসে আছে "তোমাদের মধ্যে কেউ মুমিন হবে না যে পর্যন্ত না তার কাছে আল্লাহ ও রসূল দুনিয়ার সবকিছু অপেক্ষা অধিকতর প্রিয় হবে"।
আরেক হাদীসে আছে- "বান্দা ঈমানদার হবে না যে পর্যন্ত না আমি তার কাছে তার পরিজন, ধন-সম্পদ ও সমস্ত মানুষের ছেয়ে অধিক প্রিয় হব"।
এক রেওয়ায়েতে - “তার নিজের ছেয়ে অধিক” বলা হযয়েছে।
তাই হওয়া দরকার। কেননা, আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন- "বলুন, যদি তোমাদের বাপ-দাদা, পুত্র-পৌত্র, ভাই-বেরাদর, স্ত্রী, জ্ঞাতিগোষ্ঠী, সঞ্চিত ধন-সম্পদ, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পছন্দনীয় বাসভবন তোমাদের কাছে অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ ও রসূলের ছেয়ে এবং তার পথে জেহাদের ছেয়ে, তবে তোমরা আল্লাহর (শাস্তির) আদেশ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর।"
বলা বাহুল্য, শাসনের সুরেই একথা বলা হয়েছে।
বলা বাহুল্য, শাসনের সুরেই একথা বলা হয়েছে।
রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া-সাল্লাম)-তিনিও এ মহব্বতের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া-সাল্লাম) ইরশাদ করেন : "আল্লাহকে মহব্বত কর এজন্যে যে, তিনি প্রতি সকালে তোমাদেরকে নিজের নেয়ামতে ভূষিত করেন, আর আমাকে মহব্বত কর এ কারণে যে, আল্লাহ আমাকে মহব্বত করেন"।
এক রেওয়ায়েতে আছে- এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া-সাল্লাম)-এর খেদমতে আরয করল। ইয়া রসূলাল্লাহ, আমি আপনাকে মহব্বত করি। তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া-সাল্লাম) বললেন : তা হলে দরিদ্রতার জন্যে প্রস্তুত থাক। লোকটি পুনরায় আরয করল : আমি আল্লাহকে মহব্বত করি। তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া-সাল্লাম) বললেন : তা হলে বিপদাপদের জন্যে তৈরী হয়ে যাও।
এক রেওয়ায়েতে আছে- এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া-সাল্লাম)-এর খেদমতে আরয করল। ইয়া রসূলাল্লাহ, আমি আপনাকে মহব্বত করি। তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া-সাল্লাম) বললেন : তা হলে দরিদ্রতার জন্যে প্রস্তুত থাক। লোকটি পুনরায় আরয করল : আমি আল্লাহকে মহব্বত করি। তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া-সাল্লাম) বললেন : তা হলে বিপদাপদের জন্যে তৈরী হয়ে যাও।
হযরত ওমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রসূলে আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়া-সাল্লাম) মুসআব ইবনে ওমায়রকে কোমরে একটি ভেড়ার চামড়া জড়িয়ে আসতে দেখে উপস্থিত লোকদেরকে বললেন : "এ লোকটিকে দেখ- আল্লাহ তা'আলা তার অন্তরকে উজ্জ্বল করে দিয়েছেন। আমি তাকে তার পিতা-মাতার কাছে দেখেছিলাম। তারা তাকে উদ্ধৃষ্ট খাদ্য ও সুপেয় পানি দিত। এখন আল্লাহ ও রসূলের মহব্বত তাকে এই স্তরে পৌঁছে দিয়েছে, যেমন দেখতে পাচ্ছ"।
বর্ণিত আছে, মালাকুল মওত হযরত ইবরাহীম (আঃ) -এর জান কবয্ করতে এলে তিনি বললেন : "আপনি কি এমন কোন দোস্তকে দেখেছেন, যে তার দোস্তের প্রাণ সংহার করে?" ! জওয়াবে আল্লাহ তা'আলা তার কাছে। ওহী পাঠালেন- "তুমি কি এমন কোন মহব্বতকারীকে দেখেছ, যে তার হাবীবের সাথে সাক্ষাতকে খারাপ মনে করে?" এরপর হযরত ইবরাহীম (আঃ) মালাকুল মওতকে বললেন : এখন কবয করুন। এ বিষয়টি সে বান্দার কাছেই স্পষ্ট হয়ে উঠে, যে আল্লাহকে সর্বান্তকরণে মহব্বত করে। সে যখন বুঝে, 'মৃত্যু' 'সাক্ষাতের সিঁড়ি', তখন তার অন্তর মৃত্যুর জন্যে ব্যাকুল হয়ে পড়ে। আল্লাহ ছাড়া মনোযাোগ দেয়ার জন্যে কোন প্রেমাস্পদ তার থাকে না। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া-সাল্লাম) দোয়া করতেন "হে আল্লাহ ! আমাকে দান করুন আপনার মহব্বত ও সে ব্যক্তির মহব্বত, যে আপনাকে মহব্বত করে এবং সে বিষয়ের মহব্বত, যা আমাকে আপনার মহব্বতের নিকটবর্তী করবে। আপনার মহব্বতকে আমার কাছে ঠাণ্ডা পানির চেয়েও অধিক প্রিয় করুন।"
জনৈক বেদুঈন রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহি ওয়া-সাল্লাম)-এর খেদমতে হাযির হয়ে আরয করল– ইয়া রসূলাল্লাহ, কেয়ামত কবে হবে ?
জনৈক বেদুঈন রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহি ওয়া-সাল্লাম)-এর খেদমতে হাযির হয়ে আরয করল– ইয়া রসূলাল্লাহ, কেয়ামত কবে হবে ?
তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া-সাল্লাম) বললেনঃ তুমি এর জন্যে কি প্রস্তুতি নিয়েছ ? লোকটি আরয করল : আমি অনেক নামায ও অনেক রোযার ভাণ্ডার গড়ে তুলিনি ঠিক; কিন্তু আমি আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রসূলকে মহব্বত করি। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া-সাল্লাম) বললেন : মানুষ যাকে মহব্বত করে, তার সঙ্গে থাকবে। হযরত আনাস (রাঃ) বললেন : আমি এর আগে মুসলমানদেরকে এতটুকু উৎফুল্ল হতে দেখিনি, যতটুকু এ কথা শুনে তারা উফুল্ল হয়।
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেন : যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার খাঁটি মহব্বতের স্বাদ পায়, সে স্বাদ তাকে দুনিয়াদারী থেকে বিরত রাখে এবং সমস্ত মানুষ থেকে তাকে দূরে রাখে।
হযরত ঈসা (আঃ) তিনটি লোকের কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তাদের দেহ ছিল ক্ষীণ এবং রং বিবর্ণ। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাদের এ দুরবস্থা কেন ? তারা আরয করল, দোযখের আগুনের ভয়ে। তিনি বললেন : যারা ভয় রাখে, আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই নিরাপদে রাখবেন। অতঃপর তিনি সামনের দিকে এগিয়ে আরও তিন ব্যক্তির নিকট দিয়ে গেলেন। তাদের দেহ আরও শীর্ণ ও রং আরও বিবর্ণ ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাদের এই দুর্দশা কেন? তারা আরয করল : জান্নাতের আগ্রহে আমাদের এ অবস্থা হয়েছে। তিনি বললেনঃ তোমরা যে জান্নাত আশা কর, আল্লাহ অবশ্যই তা দান করবেন। অতঃপর তিনি আরও এগিয়ে তিন ব্যক্তির কাছে গেলেন। তাদের অবস্থা পূর্বোক্ত দু’দলের ছেয়েও শোচনীয় ছিল। কিন্তু তাদের মুখমন্ডলে যেন স্বর্গীয় নূরের আভা ঝলমল করছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কি কারণে তোমরা এমন হয়ে গেছ? তারা আরয করল : আমরা আল্লাহ জাল্লা শানুহুকে মহব্বত করি। হযরত ঈসা (আঃ) এরশাদ করলেন : নৈকট্যশীল তোমরাই।
আবদুল ওয়াহেদ ইবনে যায়দ বলেন : আমি এক ব্যক্তির কাছ দিয়ে গমন করলাম। সে বরফের উপর শুয়ে ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম : তুমি কি বরফের শীতলতা অনুভব কর না? সে বলল : যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার মহব্বতে সদা গরম থাকে, সে শৈত্য অনুভব করে না।
হযরত সিররী সকতী (রহঃ) বলেন : যাদের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার মহব্বত প্রবল নয়, কেয়ামতের দিন তাদেরকে পয়গম্বরগণের নামে ডাকা হবে। উদাহরণতঃ বলা হবে- হে 'উম্মতে মূসা', হে 'উম্মতে ঈসা' এবং 'উম্মতে মুহাম্মদ' (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়া-সাল্লাম)। কিন্তু মহব্বতওয়ালাদেরকে এভাবে ডাকা হবে- হে আল্লাহর ওলী, আল্লাহর দিকে চল। এতে তাদের মন খুশীতে বাগবাগ হয়ে যাবে।
হযরত ইবনে হাইয়ান বলেন : ঈমানদার ব্যক্তি যখন তার পরওয়ারদেগারকে চেনে, তখন তাকে মহব্বত করে। যখন মহব্বত করে, তখন তার দিকে মনোযোগী হয়। যখন সে এই মনোযোগের স্বাদ পায়, তখন দুনিয়ার দিকে খাহেশের দৃষ্টিতে তাকায় না এবং আখেরাতের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে না। দেহের দিক দিয়ে সে দুনিয়াতে থাকলেও তার আত্মা থাকে আখেরাতে। মোট কথা, আল্লাহ তা'আলার মহব্বত সম্পর্কে হাদীস ও মনীষীগণের বাণী এত বেশী যে, সেগুলো গণনা করে শেষ করা যায় না। এটা একটা সুস্পষ্ট বিষয়। অস্পষ্টতা থেকে থাকলে তা রয়েছে মহব্বতের অর্থ ও স্বরূপ নিরূপণের ক্ষেত্রে। তাই আমরা সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।

