📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ৩১)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
পুনরুত্থানের জন্য সিঙ্গা ফুৎকারের বিবরণ-
তারপর আল্লাহ তা'আলা হযরত ইস্রাফীল (আঃ)-কে পুনরুত্থানের জন্য সিঙ্গা ফুৎকারের নির্দেশ দিবেন এবং সেই মুহূর্তে ঘোষণা করিবেন, “হে পরিত্যক্ত রূহ সকল! হে গলিত হাড়, মাংস ও দেহ কাঠামো! হে বিচ্ছিন্ন ইন্দ্ৰিয় ও শিরা-উপশিরা! হে গলিত চামড়া ও বিক্ষিপ্ত ত্বকসমূহ আজ ফয়সালা ও হিসাব নিকাশের জন্য সত্বর উত্থিত হও।”
সকলেই তখন গাত্রোত্থান করিবে। কবর হইতে পুনরুত্থিত হইয়া তাহারা আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবর্তিত, পাহাড়-পর্বতকে বিক্ষিপ্ত, গর্ভবর্তী উদ্ভিগুলিকে বিচ্ছিন্ন, হিংস্র জন্তুগুলিকে জড়ীভূত, সাগর-মহাসাগরগুলিকে বিশুষ্ক, রূহগুলির শরীরের সহিত সংযোজিত, আযাবের ফেরেশ্তাদিগকে সমীপবর্তী, সূর্যকে কিরণহীন, তুলাদন্ডকে সংস্থাপিত প্রত্যক্ষ করিবে।
সেদিন সকলেই নিজ নিজ আমল ও কর্ম অনুধাবন করিতে সক্ষম হইবে। যেমন আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ রহিয়াছে, "পাপীগণ সেইদিন চীৎকার করতঃ বলিবে, “হায়! আমাদের ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী, আজ কে আমাদিগকে নিদ্রোত্থিত করিল? পরম দয়াময় এই ওয়াদাই করিয়াছিলেন এবং রাসূলগণ যথার্থ সত্য বলিয়াছেন।” তারপর সবাই নগ্নপদে ও নগ্নদেহে কবর হইতে উত্থিত হইবে।
একদা জনৈক ব্যক্তি হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই আয়াতের অর্থ জিজ্ঞাসা করিল-“যেদিন সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হইবে, তোমরা সেদিন দলেবলে উপস্থিত হইবে।” ইহা শ্রবণান্তে আঁ হযরত (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কান্নায় ভাঙ্গিয়া পড়িলেন এবং চোখের পানিতে তাঁহার বসন সিক্ত হইয়া গেল।
অতঃপর তিনি বলিলেন, “হে প্রশ্নকর্তা! তোমার প্রশ্ন অত্যন্ত জটিল। শোন, রোজ কিয়ামতে আমার উম্মতগণ বারটি দলে বিভক্ত হইয়া পুনরুত্থিত হইবে।
(১) যাহারা জনসমাজে অশান্তি ও গোলযোগ সৃষ্টি করিয়াছে তাহাদিগকে বানরের আকারে হাশরের ময়দানে উত্থিত করা হইবে। যেমন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করিয়াছেন- ("আল্ ফিত্নাতু আশাদ্দু মিনাল ক্বাতুল”) অর্থাৎ "অশান্তি সৃষ্টি করা ব্যভিচার হইতে জঘন্যতর"।
(২) যাহারা হারাম খাদ্য দ্বারা শরীরের বৃদ্ধি সাধন করিয়াছে তাহাদিগকে শূকরের আকারে হাশরের মাঠে উত্থিত করা হইবে।
(৩) যে হাকীম বা সরদার ন্যায়বিচার করে নাই বরং অন্যায় হুকুম জারী করিয়াছে, তাহাদিগকে অন্ধ অবস্থায় হাশরের মাঠে উত্থিত করা হইবে। তাহারা অন্ধকারে ইতস্ততঃ ঘুরিতে থাকিবে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করিয়াছেন, “তোমরা যখন বিচারক হও, তখন ন্যায়ের ভিত্তিতে মীমাংসা করিও। অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা তোমাদিগকে শ্রেষ্ঠতম উপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।”
(৪) যাহারা নিজের এবাদত-বন্দেগীতে অহঙ্কার ও ফখর করিয়াছে, রোজ কিয়ামতে তাহাদিগকে বোবা ও বধির করিয়া উঠান হইবে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করিয়াছেন, “অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা গর্বকারীদিগকে ভালবাসেন না।”
(৫) যে আলেমগণের কাজে ও কথায় সঙ্গতি ছিল না রোজ হাশরে তাহাদের মুখ হইতে পুঁজ, রক্ত পড়িতে থাকিবে এবং তাহারা নিজের জিহ্বা কামড়াইবে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করিয়াছেন, “তোমরা কি মানুষকে নেককাজ করিতে আদেশ দাও, মূলতঃ নিজেরা নেককাজ হইতে ভুলিয়া থাক; তবে কি তোমরা বুদ্ধি রাখ না?”
(৬) আর যাহারা মিথ্যা-সাক্ষী দান করিয়াছে, রোজ হাশরে তাহাদের শরীর আগুনে দগ্ধ করিয়া উঠান হইবে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করিয়াছেন “যাহা সম্পর্কে তোমাদের জানা নাই, তাহা যখন তোমরা উচ্চারণ কর এবং ইহাকে তুচ্ছ মনে কর, মূলতঃ ইহা আল্লাহর নিকট জঘন্য অপরাধ। যখন তোমরা ইহা শ্রবণ কর, তখন কেন বল নাই যে, ইহা আমাদের জন্য অনুচিত। হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র ও মহান এবং মিথ্যা সাক্ষ্য জঘন্য অপরাধ।”
(৭) যাহারা নিজের লোভ-লালসা ও কু-ইচ্ছা-পরিপূর্ণ করতঃ জীবনের কাল কাটাইয়াছে, রোজ হাশরে তাহাদের পদদ্বয়কে মাথার চুল দ্বারা কপালের উপর কষিয়া বাঁধিয়া দেওয়া হইবে। তখন তাহাদের শরীর হইতে অত্যধিক দুর্গন্ধ নির্গত হইবে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করিয়াছেন, “ইহারাই সেই লোক, যাহারা আখেরাতের, বিনিময়ে দুনিয়াকে খরিদ করিয়াছে”।
(৮) আর যাহারা আল্লাহর হক আদায় করিতে গড়িমসি ও অবজ্ঞা করিয়াছে, রোজ হাশরে তাহাদিগকে পাগলের মত কম্পিত কলেবরে উঠান হইবে। যেমন, আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করিয়াছেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের পরিশ্রম- অর্জিত ও আমার প্রদত্ত পবিত্র বস্তু হইতে দান-খয়রাত কর।”
(৯) পরনিন্দাকারী, পরদোষ অন্বেষণকারী, দুর্নাম রটনাকারী ও চোগলখোরকে রোজ হাশরে গন্ধক অথবা কেতরানের বস্তু পরাইয়া হাশর ময়দানে উঠান হইবে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করিয়াছেন, “পরদোষ তালাস করিও না এবং কাহারও পশ্চাতে নিন্দা বা বদনাম করিও না। তোমাদের কেহ স্বীয় মৃত ভাইয়ের মাংস খাইতে পছন্দ করে কি? অতএব ইহাকেও তোমরা ঘৃণা কর।”
(১০) চোগলখোরদের জিহ্বাকে অনেক দীর্ঘ করিয়া হাশর ময়দানে উত্থিত করা হইবে।
(১১) যাহারা মসজিদে বসিয়া দুনিয়াদারীর কথাবার্তা বলিয়াছে তাহাদিগকে পাগলের মত করিয়া হাশরের মাঠে উঠান হইবে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করিয়াছেন,- (“ফাইন্নাল্ মাছাজ্বিদা লিল্লাহি ফামা তা মা আল্লাহি আহাদা”) অর্থাৎ "মসজিদ আল্লাহর এবাদতের নিমিত্ত; তাই উহাতে আল্লাহ তা'আলার সহিত অন্য কাহাকেও স্মরণ করিও না।
(১২) হাশরের ময়দানে সুদখোরদিগকে শূকরের আকৃতিতে উঠান হইবে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করিয়াছেন,- “তোমরা দ্বিগুণ হারে সুদ ভক্ষণ করিও না।”
হযরত মাআজ ইবনে জাবাল (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, হুযুর করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন, “অনন্ত দয়াময় আল্লাহ কিয়ামতের পরিতাপ ও অনুশোচনার দিন তাঁর উম্মতগণকে বারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করিয়া হাশর ময়দানে উপস্থিত করিবেন।
(১) প্রথম শ্রণীকে হাত, পা শূন্যভাবে কবর হইতে উত্থিত করা হইবে এবং আল্লাহর পক্ষ হইতে ঘোষণা করা হইবে যে, 'ইহারা প্রতিবেশীকে যাতনা-কষ্ট দিয়া তাওবাহ না করিয়া মরিয়াছে। এইজন্য পরিণামে তাহারা প্রজ্বলিত নরক মাঝে পতিত হইবে।' যেমন, আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করিয়াছেন, “তোমরা পাড়া-প্রতিবেশী, নিকটাত্মীয় ও দূর সম্পর্কীয় আত্মীয়দের সহিত সৌহার্দ বজায় রাখিও।”
(২) দ্বিতীয় শ্রেণী- যাহারা নামাযে শৈথিল্য প্রদর্শন করিয়াছে এবং বিনা তাওবায় মৃত্যু মুখে পতিত হইয়াছে। রোজ হাশরে তাহাদিগকে চতুষ্পদ জন্তু অথবা শূকরের আকৃতিতে হাশর ময়দানে উত্থিত করা হইবে এবং আল্লাহর পক্ষ হইতে ঘোষণা করা হইবে, “ইহাই তাহাদের উপযুক্ত দন্ড এবং পরিশেষে তাহারা দোযখে নিক্ষিপ্ত হইবে।” যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “যাহারা নিজের নামায আদায়ে শৈথিল্য প্রদর্শন করিয়াছে তাহাদের ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী।”
(৩) তৃতীয় শ্রেণীর উদর পাহাড়ের মত বিশাল ও বিস্তৃত এবং ইহা খচ্চরের মত ভীষণ ও প্রকান্ড সর্প ও বিচ্ছুতে ভরপুর থাকিবে। এমতাবস্থায় তাহারা হাশর ময়দানে উপস্থিত হইলে আল্লাহর তরফ হইতে উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করা হইবে যে, “ইহারা যাকাত আদায় না করিয়া তাওবাহ ব্যতীত মারা গিয়াছে। এইজন্য জ্বলন্ত নরকানলে প্রবেশ করাই তাহাদের পক্ষে শ্রেয়। যেমন, আল্লাহ পাক এরশাদ করিয়াছেন, “যাহারা সোনা-রূপা জমা করে কিন্তু উহা হইতে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তাহাদিগকে কঠিন আযাবের সুসংবাদ প্রদান কর।” সেই প্রতিদান দিবসে প্রতিটি অর্থকড়ি দোযখের আগুনে উত্তপ্ত করিয়া তাহাদের পার্শ্বদেশে, পৃষ্ঠে ও কপালে দাগ দেওয়া হইবে এবং বলা হইবে, “ইহাই তোমাদের সঞ্চিত ধনরাশি, এখন ইহার আযাব ভোগ কর।”
(৪) চতুর্থ শ্রেণীকে এমন অবস্থায় হাশর ময়দানে উত্থিত করা হইবে যে, তাহাদের মুখ হইতে রক্ত ও অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বাহির হইবে এবং পেটের নাড়িভূড়ি বিক্ষিপ্তভাবে ইতস্ততঃ পড়িয়া থাকিবে। আল্লাহর তরফ হইতে জনৈক ঘোষক ঘোষণা করিবে যে, “তাহারা বেচা-কিনায় মিথ্যার আশ্রয় লইয়া তাওবাহ ছাড়া মরিয়াছে। অতএব অনলকুন্ডে প্রবেশ করাই তাহাদের উপযুক্ত প্রতিফল ।” যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন “যাহারা স্বল্পমূল্যের বদলে আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজের ওয়াদাকে বিক্রয় করে, তাহাদের জন্য আখেরাতে নেকীর কোন অংশই থাকিবে না।”
(৫) পঞ্চম শ্রেণী এমনভাবে কবর হইতে উত্থিত হইবে যে, তাহাদের শরীর হইতে লাশের চেয়ে অধিক দুর্গন্ধ বাহির হইবে। তখন আল্লাহর তরফ হইতে ঘোষণা করা হইবে যে, “তাহারা প্রকৃতই আল্লাহকে ভয় না করিয়া মানুষের ভয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে গুনাহ করিয়া তাওবাহ ছাড়া মরিয়াছে। ইহাই তাহাদের জন্য উপযুক্ত প্রতিফল এবং পরিণামে তাহারা নরককুন্ডে প্রবিষ্ট হইবে।” যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “তাহারা গুনাহকে লোকচক্ষুর অন্তরাল করে কিন্তু আল্লাহর দৃষ্টি হইতে লুকাইতে সক্ষম হয় না, কেননা তিনি তাহাদের সঙ্গেই বিরাজমান।”
(৬) ষষ্ঠ শ্রেণীকে গলদেশ কাটা অবস্থায় হাশর ময়দানে উত্থিত করা হইবে। ইহারা মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়াছিল এবং তাওবাহ ছাড়া মৃত্যুবরণ করিয়াছিল। এইজন্য তাহাদের এই শাস্তি হইয়াছে এবং শেষকালে তাহারা দোযখে নিক্ষিপ্ত হইবে। যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “তোমরা মিথ্যাকথা হইতে বাঁচিয়া থাক এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপনের পর তাঁহার সহিত অংশী স্থাপন করিও না।” এই প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক আরও এরশাদ করিয়াছেন, “যাহারা মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে না এবং খেলাধূলার নিকটবর্তী হইলে পুণ্যবানদের পথ অনুসরণ করে” (তোমরাই প্রকৃত বিশ্বাসী)।
(৭) সপ্তম শ্রেণী এমতাবস্থায় কবর হইতে উত্থিত হইবে যে, তাহাদের মুখে জিহ্বা থাকিবে না এবং তাহাদের মুখ হইতে পুঁজ ও বমি নির্গত হইবে, তখন আল্লাহর তরফ হইতে ঘোষণা করা হইবে যে, “তাহারা সত্য সাক্ষ্য গোপন করিয়া তাওবাহ ছাড়া মরিয়াছিল। কাজেই ইহাই তাহাদের উপযুক্ত শাস্তি।” যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “তোমরা সত্য সাক্ষ্য গোপন করিও না আর যে গোপন করিল, সে যেন তাঁহার হৃদয়কে পাপে আচ্ছাদিত করিল, বস্তুতঃ আল্লাহ পাক তোমাদের কার্যাবলী সম্পর্কে পরিজ্ঞাত।”
(৮) অষ্টম শ্রেণী অবনত মস্তকে কবর হইতে উত্থিত হইবে এবং তাহাদের পদদ্বয় মাথার উপর দৃঢ়ভাবে বাঁধিয়া দেওয়া হইবে। তাহাদের যৌনাঙ্গ হইতে রক্ত, পুঁজ ও ছাদীদের স্রোতধারা প্রবাহিত হইবে। আল্লাহর পক্ষ হইতে ঘোষণা করা হইবে, "ইহারা ', ব্যভিচার করিয়া বিনা তাওবায় মরিয়াছিল।” এইজন্য দোযখে পতিত হওয়া ও এমতাবস্থায় হাশরে উঠা যথার্থ হইয়াছে।” যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “তোমরা জিনার সন্নিকটে যাইও না, নিশ্চয়ই ইহা লজ্জাকর কাজ এবং নিতান্ত মন্দ পথ।”
(৯) নবম শ্রেণী কৃষ্ণ মুখমন্ডল ও রক্তবর্ণ চক্ষুবিশিষ্ট আকারে হাশরে উপস্থিত হইবে এবং তাহাদের পেট আগুনে ভরপুর থাকিবে। তখন আল্লাহর অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করিয়া মরিয়াছিল, সুতরাং দোযখে প্রবিষ্ট হওয়া এবং এমতাবস্থায় হাশর হওয়া ঠিকই হইয়াছে । যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “অবশ্যই যাহারা এতীমদের ধন-রত্ন গর্হিতভাবে আত্মসাৎ করিয়াছে, তাহারা যেন আগুন দ্বারা নিজেদের পেট ভর্তি করিয়াছে এবং সত্বরই তাহারা দোযখে প্রবিষ্ট হইবে।”
(১০) দশম শ্রেণী কুষ্ট ও শ্বেত রোগাক্রান্ত হইয়া হাশর মাঠে উত্থিত হইবে। তখন আল্লাহর পক্ষ হইতে ঘোষণা করা হইবে যে, তাহারা পিতা-মাতার সহিত অসদ্ব্যবহার করিয়া বিনা তাওবায় মরিয়াছিল। অতএব ইহাই তাহাদের উপযুক্ত শাস্তি এবং পরিণামে তাহারা দোযখবাসী হইবে।” যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “তোমরা আল্লাহর এবাদত কর, তাঁহার সহিত কাহাকেও অংশী স্থাপন করিও না আর পিতা-মাতার সহিত সদাচরণ কর।”
(১১) একাদশ শ্রেণী এমতাবস্থায় হাশরে উত্থিত হইবে যে, তাহাদের দন্ডরাজি ষাড়ের শিং-এর ন্যায় দীর্ঘ ও তীক্ষ্ণ, ওষ্ঠদ্বয় বক্ষের উপর ঝুলানো, জিহ্বা পেট ও রানের উপর লম্বমান হইবে এবং উদর হইতে গলিত ধাতু নির্গত হইবে। তখন আল্লাহর তরফ হইতে ঘোষণা করা হইবে যে, “পৃথিবীতে তাহারা ছিল শরাবখোর। তাহারা বিনা তাওবায় মরিয়াছিল। এইজন্য ইহাই তাহাদের উপযুক্ত শাস্তি এবং পরিণামে তাহারা দোযখী হইবে।” যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “হে ঈমানদারগণ! শরাব, জুয়া, শরাঘাতে প্রাণীকে মারা ও আজলাম অপবিত্র। ইহা শয়তানের কুকর্ম মাত্র। অতএব তোমরা এই সকল হইতে দূরে থাক, তোমরা সফল হইবে।”
(১২) দ্বাদশ শ্রেণীকে এমতাবস্থায় হাশরে উত্থিত করা হইবে যে, তাহাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মত সমুজ্জ্বল হইবে। তাহারা চক্ষুর দৃষ্টি হরণকারী বিজলীর মত তীরবেগে পুরছিরাত পার হইবে। তখন আল্লাহর তরফ হইতে জনৈক ফেরেশতা ঘোষণা করিবে, “তাহারা পৃথিবীতে নেককাজ করিয়াছিল এবং সময় মত জামাতের সহিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায সম্পাদন করিয়াছিল আর তাওবাহ করিয়া মরিয়াছিল। অতএব ইহাই তাহাদের উপযুক্ত পুরস্কার। পরিণামে তাহারা বেহেশতে প্রবেশ করিবে।” যেমন, আল্লাহ পাক আরও ঘোষণা করিয়াছেন, “তোমরা ভয় ও চিন্তা করিও না এবং ওয়াদাকৃত জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর।" আল্লাহ পাক আরও ঘোষণা করিয়াছেন, “আল্লাহ তায়ালা তাহাদের উপর রাজী আছেন এবং তাহারাও আল্লাহর উপর পরিতুষ্ট থাকিবে । ইহা সেই ব্যক্তির জন্য, যে নিজ প্রতিপালককে ভয় করে।”
পরবর্তী পর্ব
প্রাণী জগতের কবর হইতে পুনরুত্থান