কোরআন মজীদে জ্ঞানের মাহাত্ম সম্পর্কিত আয়াতসমুহ —
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, –
"ফেরেশতা ও মধ্যপন্থী আলেমগণ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, আল্লাহ ছারা কোন উপাস্য নেই।" এই আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা প্রথম পর্যায়ে নিজের সত্তা, দ্বিতীয় পর্যায়ে ফেরেস্তাকুল এবং তৃতীয় পর্যায়ে জ্ঞানীদের কথা উল্লেখ করেছেন। জ্ঞানের শ্রেষ্টত্ব, মাহাত্ম্য ও মৌলিকতা বুঝার জন্য এতটুকুই যতেষ্ট।
তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, –
আল্লাহ আরো বলেন,- "যারা বিশ্বাসী এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের মর্তবা অনেক উচু করে দেন"।
হজরত ইবনে আব্বাস (র.) বলেন - সাধারণ মুমিনদের মর্তবা অপেক্ষা জ্ঞানী মুমিনদের মর্তবা সাতশ স্থর বেশী হবে এবং প্রত্যেক দু'স্থরের দূরত্ব হবে পাচ'শ বছরের সমান।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন, – "জিজ্ঞেস করুন, যারা জ্ঞানী এবং জ্ঞানহীন, তারা কি সমান হতে পারে?"
তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, –
"বলুন,আল্লাহ এবং কিতাবের জ্ঞানে জ্ঞানীরা আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষ্যদাতা রূপে যতেষ্ট।"
তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, –
"যার কাছে কিতাবের জ্ঞান ছিল, সে বলল: আমি তাকে এনে দিচ্ছি।" এতে ব্যক্ত করা হয়েছে সে লোকটি জ্ঞানের বলেই রাণী বিলকিসের সিংহাসন এনে দিতে সক্ষম হয়েছিল।
তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, –
"যারা জ্ঞানী ছিল, তারা বলল : তোমাদের ধ্বংশ হোক, আল্লাহ প্রদত্ত কল্যাণই বিশ্বাসী ও সৎকর্মীর জন্য উত্তম।"
এতে বলা হয়েছে, পরকালের মাহাত্ম্য শিক্ষার মাধ্যমে জানা যায়।
তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, –
"আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্য বর্ননা করি। এগুলি কেবল তারাই বুঝে, যারা জ্ঞাণী।"
তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, –
"যদি তারা বিষয়টি রাসুলের কাছে এবং গণ্যমান্যদের কাছে উপস্থাপন করত, তবে তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানান্বেষী, তারা জেনে নিতে পারত।"
এখানে আল্লাহ্ তা'আলা পারষ্পরিক ব্যপারাদিতে তাঁর নিজের বিধান শিক্ষিতদের ইস্তেহাদের উপর ন্যস্ত করেছেন। আল্লাহর বিধান জানার ব্যাপারে তাদের মর্তবাকে পয়গম্বরগণের মর্তবার সাথে মিলিয়ে দিয়েছেন।
তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, –
"হে বনী আদম ! আমি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছি পোষাক, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে। আর নাযিল করেছি পশম এবং পরহেযগারীসুলভ পোষাক, এটা সর্বোত্তম।"
এ আয়াতে তফসীরে কেউ কেউ বলেন: এখানে পোষাকের অর্থ শিক্ষা, পশমের অর্থ বিশ্বাস এবং পরহেযগারীসুলভ পোষাক বলে লজ্জা বুঝানো হয়েছে।
তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, –
"আমি তোমাদের কাছে কিতাব পৌছে দিয়েছি,যা জ্ঞান সহকারে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেছি।"
তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, –
"আমি সজ্ঞানে তাদের সকল অবস্থা বর্ননা করব।"
তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, –
"বরং এগুলু কোরআনের সুস্পষ্ট আয়াত, যা জ্ঞানপ্রাপ্তদের বক্ষে গচ্ছিত।
তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, –
"তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে বর্ননা শিক্ষা দিয়েছেন।" এ বিষয়টি অনুগ্রহ প্রকাশের স্থলে বর্ণিত হয়েছে।
পরবর্তী পর্ব —

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন