অন্তর বা হৃদয় (পর্ব- ২২)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন - ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন - ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
শয়তান যেসব বিষয়ে কুমন্ত্রণা দেয়
কুমন্ত্রণা তিন প্রকার। প্রথম, সত্য বিষয়কে সন্দিগ্ধ করে কুমন্ত্রণা দেয়া।
উদাহরণতঃ শয়তান এভাবে বুঝাবে যে, দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ত্যাগ করা উচিত নয়। জীবনের অনেক কামনা-বাসনা এতদিন বিসর্জন দেয়া আযাব বৈ নয়। এসময় যদি বান্দা আল্লাহ তা'আলার হক, তাঁর বিরাট পুরস্কার ও শাস্তিকে স্মরণ করে এবং নিজেকে বুঝায় যে, কামনা-বাসনা থেকে বিরত থাকা অবশ্যই কঠিন; কিন্তু জাহান্নামের অগ্নি সহ্য করা আরও অধিক কঠিন, তবে শয়তান প্রশ্রয় পাবে না, পালিয়ে যাবে।
কেননা, শয়তান এ কথা বলবে না যে, দোযখের কষ্ট গোনাহ্ থেকে বিরত থাকার কষ্টের তুলনায় হালকা এবং একথাও বলবে না যে, গোনাহের পরিণতি দোযখ ভোগ নয়। যদি বলেও, তবে কোরআনে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে বান্দা তার কথা শুনবে না। অনুরূপভাবে যদি আত্মম্ভরিতার জন্যে কুমন্ত্রণা দেয় এবং অন্তরে একথা জাগ্রত করে যে, আজ মারেফত ও এবাদতে তোমার সমতুল্য কেউ নেই, তবে শয়তান হটে যাবে। যদি বান্দা স্মরণ করে যে, তার মারেফত, অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমস্তই আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি করেছেন; সুতরাং আত্মম্ভরিতা কিসের? মোট কথা, এই প্রথম প্রকারের কুমন্ত্রণা সম্পূর্ণ বিদূরিত হয়ে যায়। যারা আরেফ এবং ঈমানের আলোকে আলোকিত, তাদের কাছে এই প্রকার কুমন্ত্রণা থাকতে পারে না।
দ্বিতীয়, কাম-প্রবৃত্তিকে গতিশীল করে কুমন্ত্রণা দেয়া। যদি কাম-প্রবৃত্তিকে এমন বিষয়ের প্রতি গতিশীল করে, যার সম্পর্কে বান্দা নিশ্চিতরূপে বিশ্বাস করে যে, এটা গোনাহ, তবে শয়তান কামভাব উত্তেজিত করা থেকে বিরত হবেনা ঠিক; কিন্তু এমন উত্তেজিত করবে না, যাতে গতিশীলতা থাকে। পক্ষান্তরে যদি এমন বিষয়ের প্রতি গতিশীল করে, যার গোনাহ হওয়ার ব্যাপারে বান্দা নিশ্চিত নয়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কুমন্ত্রণা প্রভাবশালী হবে এবং তা দূর করার জন্যে সাধনার প্রয়োজন হবে। এমতাবস্থায় কুমন্ত্রণা থাকবে; কিন্তু স্তিমিত অবস্থায় থাকবে।
তৃতীয়, অনুপস্থিত বিষয় স্মরণ করিয়ে কুমন্ত্রণা দেয়া। এতে অন্তর যখন যিকিরের প্রতি মনোনিবেশ করে, তখন কুমন্ত্রণা কিছুটা দূর হয়ে যায় এবং পুনরায় এসে পড়ে। আবার দূর হয়ে যায় এবং আবার আসে। এমনিভাবে যিকির ও কুমন্ত্রণা একের পর এক আসতে থাকে। ফলে ধারণা হতে থাকে যে, উভয়েরই একটি অব্যাহত ধারা সৃষ্টি হয়ে গেছে এবং যেন উভয় বিষয়ের ঠিকানা অন্তরে দুটি জায়গা। এ ধরনের কুমন্ত্রণা সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হওয়া সুকঠিন, তবে অসম্ভব নয়। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন : “যে ব্যক্তি দু'রাকআত এমনভাবে নামায পড়ে যে, তাতে তার মন দুনিয়ার কোন কথা না বলে, তার পূর্বেকার সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়।”
সুতরাং এটা অসম্ভব হলে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) তার উল্লেখ করতেন না। হাঁ, আল্লাহর মহব্বতে পরিবেষ্টিত অন্তরেই এটা সম্ভব। কেননা, অন্তর যে বিষয়ে পুরোপুরি ব্যস্ত থাকে, সে বিষয় ছাড়া অন্তরে অন্য কোন কিছু আসে না। যেমন আশেক ব্যক্তি এশকের চিন্তায় নিমজ্জিত থাকলে তার অন্তরে মাশুকের কথা ছাড়া অন্য কিছু আসে না। সুতরাং কুমন্ত্রণার উপরোক্ত প্রকারত্রয় থেকে বুঝা যায়, বর্ণিত পাঁচটি মাযহাবই বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সত্য।
সারকথা, এক মুহূর্ত অথবা কিছু সময়ের জন্যে শয়তান থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া অসম্ভব নয়; কিন্তু সারা জীবনের জন্যে তার কবল থেকে মুক্তি পাওয়া খুবই অবান্তর; বরং অসম্ভব। কেননা, এটা সম্ভবপর হলে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম)-এর কোন সময় কোন কুমন্ত্রণা হত না। অথচ কুমন্ত্রণা তাঁরও হয়েছে। হাদীসে বর্ণিত আছে- একবার নামাযে তিনি আপন বস্ত্রের কারুকার্যের দিকে দৃষ্টিপাত করেন। নামাযান্তে সেই বস্ত্র খুলে দূরে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন : “এটা আমাকে নামাযে বাধা দিয়েছে।” পুরুষের জন্যে স্বর্ণ হারাম হওয়ার পূর্বে একবার রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে একটি স্বর্ণের আংটি ছিল। খোতবা পাঠ করার সময় সেটির উপর দৃষ্টিপাত হলে তিনি তা খুলে দূরে নিক্ষেপ করেন এবং বলেন- “আমি একবার এর দিকে এবং একবার তোমাদের দিকে দেখি।”
বস্ত্রের কারুকার্য ও স্বর্ণের আংটির দিকে দৃষ্টিপাত করার কারণ ছিল কুমন্ত্রণা। তাই তিনি এগুলো দূরে নিক্ষেপ করলেন। এ থেকে বুঝা যায়, সাংসারিক আসবাবপত্র ও টাকা পয়সার কুমন্ত্রণা তখনই ছিন্ন হবে, যখন এগুলো আলাদা করে দেয়া হবে। যে পর্যন্ত মালিকানায় একটি টাকাও থাকবে, শয়তান তারই কুমন্ত্রণা দেবে। একে কিভাবে মানুষের দৃষ্টি থেকে গোপন রাখা যায়, কিভাবে ব্যয় করা যায় এবং কিভাবে প্রকাশ করে বড়লোকী ফুটানো যায় ইত্যাদি বহু প্রকার কুমন্ত্রণা অন্তরে আসতে থাকবে। সুতরাং দুনিয়ার কাজ-কারবারে জড়িত হয়ে যে ব্যক্তি আশা করে যে, সে শয়তান থেকে মুক্তি পাবে, তার অবস্থা সেই ব্যক্তির মত, যে সর্বাঙ্গে মধু মেখে মনে করতে থাকে যে, এর উপর মাছি বসবে না। এটা অসম্ভব।মোট কথা, দুনিয়া কুমন্ত্রণার একটি সুবৃহৎ ফটক। এতে গমন পথ একটি নয়- অসংখ্য।
জনৈক দার্শনিক বলেন : শয়তান প্রথমে মানুষের কাছে গোনাহের দিক থেকে আসে। এতে মানুষ অবাধ্য হলে উপদেশের ছলে আগমন করে এবং কোন বেদআতের সাথে জড়িত করে দেয়। এতেও মানুষ অবাধ্য হলে তাকে কঠোরতার আদেশ দিয়ে যা হারাম নয়, তাও হারাম করার প্রয়াস পায়। এতেও কাজ না হলে ওযু ও নামাযে সন্দেহ সৃষ্টি করে। যদি এতেও কার্য সিদ্ধি না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্যে সৎকর্ম সহজ করে দেয়। অতঃপর সৎকর্মপরায়ণতার সুবাদে মানুষ যখন তার প্রতি আকৃষ্ট হয়, তখন শয়তান তাকে আত্মম্ভরিতার বেড়াজালে ফাঁসিয়ে দিয়ে ধ্বংস করে দেয়। এ কাজে শয়তান তার সর্বশক্তি নিয়োগ করে এবং কোন ত্রুটির অবকাশ রাখে না। কেননা, শয়তান জানে, এ ফাঁদে আটকা না পড়লে সে সোজা জান্নাতে চলে যাবে।
উদাহরণতঃ শয়তান এভাবে বুঝাবে যে, দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ত্যাগ করা উচিত নয়। জীবনের অনেক কামনা-বাসনা এতদিন বিসর্জন দেয়া আযাব বৈ নয়। এসময় যদি বান্দা আল্লাহ তা'আলার হক, তাঁর বিরাট পুরস্কার ও শাস্তিকে স্মরণ করে এবং নিজেকে বুঝায় যে, কামনা-বাসনা থেকে বিরত থাকা অবশ্যই কঠিন; কিন্তু জাহান্নামের অগ্নি সহ্য করা আরও অধিক কঠিন, তবে শয়তান প্রশ্রয় পাবে না, পালিয়ে যাবে।
কেননা, শয়তান এ কথা বলবে না যে, দোযখের কষ্ট গোনাহ্ থেকে বিরত থাকার কষ্টের তুলনায় হালকা এবং একথাও বলবে না যে, গোনাহের পরিণতি দোযখ ভোগ নয়। যদি বলেও, তবে কোরআনে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে বান্দা তার কথা শুনবে না। অনুরূপভাবে যদি আত্মম্ভরিতার জন্যে কুমন্ত্রণা দেয় এবং অন্তরে একথা জাগ্রত করে যে, আজ মারেফত ও এবাদতে তোমার সমতুল্য কেউ নেই, তবে শয়তান হটে যাবে। যদি বান্দা স্মরণ করে যে, তার মারেফত, অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমস্তই আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি করেছেন; সুতরাং আত্মম্ভরিতা কিসের? মোট কথা, এই প্রথম প্রকারের কুমন্ত্রণা সম্পূর্ণ বিদূরিত হয়ে যায়। যারা আরেফ এবং ঈমানের আলোকে আলোকিত, তাদের কাছে এই প্রকার কুমন্ত্রণা থাকতে পারে না।
দ্বিতীয়, কাম-প্রবৃত্তিকে গতিশীল করে কুমন্ত্রণা দেয়া। যদি কাম-প্রবৃত্তিকে এমন বিষয়ের প্রতি গতিশীল করে, যার সম্পর্কে বান্দা নিশ্চিতরূপে বিশ্বাস করে যে, এটা গোনাহ, তবে শয়তান কামভাব উত্তেজিত করা থেকে বিরত হবেনা ঠিক; কিন্তু এমন উত্তেজিত করবে না, যাতে গতিশীলতা থাকে। পক্ষান্তরে যদি এমন বিষয়ের প্রতি গতিশীল করে, যার গোনাহ হওয়ার ব্যাপারে বান্দা নিশ্চিত নয়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কুমন্ত্রণা প্রভাবশালী হবে এবং তা দূর করার জন্যে সাধনার প্রয়োজন হবে। এমতাবস্থায় কুমন্ত্রণা থাকবে; কিন্তু স্তিমিত অবস্থায় থাকবে।
তৃতীয়, অনুপস্থিত বিষয় স্মরণ করিয়ে কুমন্ত্রণা দেয়া। এতে অন্তর যখন যিকিরের প্রতি মনোনিবেশ করে, তখন কুমন্ত্রণা কিছুটা দূর হয়ে যায় এবং পুনরায় এসে পড়ে। আবার দূর হয়ে যায় এবং আবার আসে। এমনিভাবে যিকির ও কুমন্ত্রণা একের পর এক আসতে থাকে। ফলে ধারণা হতে থাকে যে, উভয়েরই একটি অব্যাহত ধারা সৃষ্টি হয়ে গেছে এবং যেন উভয় বিষয়ের ঠিকানা অন্তরে দুটি জায়গা। এ ধরনের কুমন্ত্রণা সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হওয়া সুকঠিন, তবে অসম্ভব নয়। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন : “যে ব্যক্তি দু'রাকআত এমনভাবে নামায পড়ে যে, তাতে তার মন দুনিয়ার কোন কথা না বলে, তার পূর্বেকার সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়।”
সুতরাং এটা অসম্ভব হলে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) তার উল্লেখ করতেন না। হাঁ, আল্লাহর মহব্বতে পরিবেষ্টিত অন্তরেই এটা সম্ভব। কেননা, অন্তর যে বিষয়ে পুরোপুরি ব্যস্ত থাকে, সে বিষয় ছাড়া অন্তরে অন্য কোন কিছু আসে না। যেমন আশেক ব্যক্তি এশকের চিন্তায় নিমজ্জিত থাকলে তার অন্তরে মাশুকের কথা ছাড়া অন্য কিছু আসে না। সুতরাং কুমন্ত্রণার উপরোক্ত প্রকারত্রয় থেকে বুঝা যায়, বর্ণিত পাঁচটি মাযহাবই বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সত্য।
সারকথা, এক মুহূর্ত অথবা কিছু সময়ের জন্যে শয়তান থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া অসম্ভব নয়; কিন্তু সারা জীবনের জন্যে তার কবল থেকে মুক্তি পাওয়া খুবই অবান্তর; বরং অসম্ভব। কেননা, এটা সম্ভবপর হলে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম)-এর কোন সময় কোন কুমন্ত্রণা হত না। অথচ কুমন্ত্রণা তাঁরও হয়েছে। হাদীসে বর্ণিত আছে- একবার নামাযে তিনি আপন বস্ত্রের কারুকার্যের দিকে দৃষ্টিপাত করেন। নামাযান্তে সেই বস্ত্র খুলে দূরে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন : “এটা আমাকে নামাযে বাধা দিয়েছে।” পুরুষের জন্যে স্বর্ণ হারাম হওয়ার পূর্বে একবার রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে একটি স্বর্ণের আংটি ছিল। খোতবা পাঠ করার সময় সেটির উপর দৃষ্টিপাত হলে তিনি তা খুলে দূরে নিক্ষেপ করেন এবং বলেন- “আমি একবার এর দিকে এবং একবার তোমাদের দিকে দেখি।”
বস্ত্রের কারুকার্য ও স্বর্ণের আংটির দিকে দৃষ্টিপাত করার কারণ ছিল কুমন্ত্রণা। তাই তিনি এগুলো দূরে নিক্ষেপ করলেন। এ থেকে বুঝা যায়, সাংসারিক আসবাবপত্র ও টাকা পয়সার কুমন্ত্রণা তখনই ছিন্ন হবে, যখন এগুলো আলাদা করে দেয়া হবে। যে পর্যন্ত মালিকানায় একটি টাকাও থাকবে, শয়তান তারই কুমন্ত্রণা দেবে। একে কিভাবে মানুষের দৃষ্টি থেকে গোপন রাখা যায়, কিভাবে ব্যয় করা যায় এবং কিভাবে প্রকাশ করে বড়লোকী ফুটানো যায় ইত্যাদি বহু প্রকার কুমন্ত্রণা অন্তরে আসতে থাকবে। সুতরাং দুনিয়ার কাজ-কারবারে জড়িত হয়ে যে ব্যক্তি আশা করে যে, সে শয়তান থেকে মুক্তি পাবে, তার অবস্থা সেই ব্যক্তির মত, যে সর্বাঙ্গে মধু মেখে মনে করতে থাকে যে, এর উপর মাছি বসবে না। এটা অসম্ভব।মোট কথা, দুনিয়া কুমন্ত্রণার একটি সুবৃহৎ ফটক। এতে গমন পথ একটি নয়- অসংখ্য।
জনৈক দার্শনিক বলেন : শয়তান প্রথমে মানুষের কাছে গোনাহের দিক থেকে আসে। এতে মানুষ অবাধ্য হলে উপদেশের ছলে আগমন করে এবং কোন বেদআতের সাথে জড়িত করে দেয়। এতেও মানুষ অবাধ্য হলে তাকে কঠোরতার আদেশ দিয়ে যা হারাম নয়, তাও হারাম করার প্রয়াস পায়। এতেও কাজ না হলে ওযু ও নামাযে সন্দেহ সৃষ্টি করে। যদি এতেও কার্য সিদ্ধি না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্যে সৎকর্ম সহজ করে দেয়। অতঃপর সৎকর্মপরায়ণতার সুবাদে মানুষ যখন তার প্রতি আকৃষ্ট হয়, তখন শয়তান তাকে আত্মম্ভরিতার বেড়াজালে ফাঁসিয়ে দিয়ে ধ্বংস করে দেয়। এ কাজে শয়তান তার সর্বশক্তি নিয়োগ করে এবং কোন ত্রুটির অবকাশ রাখে না। কেননা, শয়তান জানে, এ ফাঁদে আটকা না পড়লে সে সোজা জান্নাতে চলে যাবে।
পরবর্তী পর্ব-
পরিবর্তনের দিক দিয়ে অন্তরের প্রকারভেদ-
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন