শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩

অন্তর বা হৃদয় (২৩) পরিবর্তনের দিক দিয়ে অন্তরের প্রকারভেদ



অন্তর বা হৃদয় (পর্ব- ২৩) 
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন - ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

পরিবর্তনের দিক দিয়ে অন্তরের প্রকারভেদ-
পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, অন্তর বিভিন্ন পথে প্রভাবিত হয়ে থাকে। তন্মধ্যে এক অন্তর এমন, যার উপর চতুর্দিক থেকে তীর বর্ষিত হতে থাকে। একদিক থেকে কোন কিছুর প্রভাব তার উপর পড়লে দ্বিতীয় দিক থেকে তার বিপরীত কোন প্রভাব এসে যায়। ফলে প্রথম প্রভাব পরিবর্তিত হয়ে যায়। উদাহরণতঃ যদি শয়তান অন্তরকে মানসিক খেয়াল-খুশীর দিক থেকে টানে, তবে ফেরেশতা এসে তাকে সেই বিষয় থেকে বিরত রাখে। যদি এক শয়তান একটি মন্দ কাজ করতে বলে, তবে অন্য শয়তান তাকে অন্য দিকে টেনে নেয়। যদি এক ফেরেশতা অন্তরকে এক বস্তুর দিকে আকৃষ্ট করে, তবে অন্য ফেরেশতা অন্য বস্তুর দিকে উৎসাহিত করে। সুতরাং অন্তর কখনও দু'ফেরেশতার টানা হেচঁড়ার মধ্যে থাকে, কখনও দু'শয়তানের এবং কখনও এক ফেরেশতা ও এক শয়তানের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের শিকার হয়, কিন্তু কোন সময়েই অবসর পায় না। নিম্নোক্ত আয়াতে এ বিষয়ের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে
>“আমি তাদের হৃদয় ও নয়নযুগল পাল্টে দেই।”
আল্লাহ তাআলা অন্তরকে এক অভিনব বস্তুরূপে সৃষ্টি করেছেন এবং একে অনেক আশ্চর্যজনক বস্তু দ্বারা পূর্ণ করে রেখেছেন। এসব আশ্চর্যজনক বস্তু ও তার পরিবর্তন সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম)-কে সম্যক অবহিত করা হয়েছিল। তাই তিনি প্রায়ই এভাবে কসম খেতেন : “অন্তর পরিবর্তনকারীর কসম।”
এছাড়া তিনি প্রায়ই এই দোয়া করতেন- “হে অন্তর পরিবর্তনকারী আল্লাহ! আমার অন্তরকে আপনার ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন।” 
সাহাবায়ে কেরাম আরজ করতেন- ইয়া রসূলাল্লাহ! (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) আপনিও অন্তরের ব্যাপারে ভীত? তিনি বলতেন- আল্লাহ ইচ্ছা করলে অন্তরকে সোজা রাখেন এবং বক্র করতে চাইলে বক্র করে দেন। 
এক রেওয়ায়েতে আছে— অন্তর চড়ুই পাখীর মত সর্বক্ষণ নাচানাচি করতে থাকে। হাদীসে অন্তরের আরও দুটি দৃষ্টান্ত বর্ণিত হয়েছে। এক জায়গায় বলা হয়েছে
>“পরিবর্তনের ব্যাপারে অন্তর ডেগের মত, যখন তাতে খুব স্ফুটন আসে।
অন্য এক জায়গায় বলা হয়েছে :
>“অন্তর জঙ্গলের পাখীর মত, যাকে ঝড়ের বায়ু ওলট পালট করতে থাকে”। 
যারা আপন আপন অন্তরের অবস্থা দেখা-শুনা করে এবং মোরাকাবায় মগ্ন থাকে, কেবল তারাই অন্তরের উপরোক্ত পরিবর্তন সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হতে পারে।
ভাল অথবা মন্দের উপর অন্তরের প্রতিষ্ঠিত থাকা এবং এতদুভয়ের মধ্যে দোদুল্যমান থাকার ব্যাপারে অন্তর তিন প্রকার। 
প্রথম প্রকার সেই অন্তর, যা তাকওয়া ও খোদাভীতিতে পূর্ণ, সাধনা দ্বারা পরিশোধিত এবং কুঅভ্যাস থেকে পাক পবিত্র। এরূপ অন্তরে অদৃশ্যের ভাণ্ডার ও ঊর্ধ্বজগত থেকে প্রেরণা আসে এবং জ্ঞান-বুদ্ধি সেই প্রেরণা নিয়ে চিন্তা-ভাবনায় ব্যাপৃত হয়, যাতে তার কল্যাণ ও উপকারিতার রহস্য অবগত হওয়া যায়। এরপর অন্তর্দৃষ্টির নূর দ্বারা যখন রহস্য অবগত হয়ে যায়, তখন জ্ঞান-বুদ্ধি বলে দেয় যে, এ কাজটি করা জরুরী। ফেরেশতা এই অন্তরের প্রতি দৃষ্টিপাত করে দেখে, এর মূল উপাদান পরিষ্কার, বুদ্ধিমত্তার নূরে আলোকিত এবং ফেরেশতাদের থাকার যোগ্য। তখন বহু ফেরেশতা তার সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে এবং একের পর এক অসংখ্য সৎকাজের প্রতি তাকে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। এসব সৎকাজ তার জন্যে সহজও করে দেয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
“অতঃপর যে দান করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং উত্তমকে গ্রহণ করে আমি তার জন্যে সুখকর পরিণামের পথ সহজ করে দেই”।
এই প্রকার অন্তরে মারেফতের সূর্য উদিত হয়, যার কিরণে গোপন শেরকও অদৃশ্য থাকে না। অথচ গোপন শিরক অন্ধকার রাতে কাল পিঁপড়ার গতির চেয়েও অধিক রহস্যাবৃত থাকে। এমনিভাবে অন্যান্য গোপন বিষয়ও এই অন্তরের কাছে গোপন থাকে না। ফলে শয়তানের কোন চক্রান্ত সফল হয় না। শয়তান দাঁড়িয়ে প্রতারণার অনেক মাসআলাযুক্ত কথা বলে; কিন্তু অন্তর সেদিকে ভ্রূক্ষেপও করে না। এই প্রকার অন্তর যখন বিনাশকারী বিষয়াদি থেকে পাক সাফ হয়ে যায়, তখন শোকর, সবর, ভয়, আশা, সংসারের প্রতি অনাসক্তি, মহব্বত, সন্তুষ্টি, আগ্রহ, তাওয়াক্কুল, চিন্তাভাবনা, আত্মজিজ্ঞাসা ইত্যাদি উদ্ধারকারী গুণাবলী দ্বারা বিভূষিত হয়ে যায়। এরূপ অন্তরের প্রতিই আল্লাহ তাআলা অভিনিবেশ করেন এবং এরই নাম 'কলবে মুতমাইন্নাহ' তথা প্রশান্ত অন্তর, যা এই আয়াতে বুঝান হয়েছে- 
>“খবরদার, আল্লাহর যিকির দ্বারা অন্তর প্রশান্তি লাভ করে”।
নিম্নোক্ত আয়াতে এই অন্তরই উদ্দেশ্য : 
>“হে প্রশান্ত মন, তুমি তোমার পরওয়ারদেগারের দিকে প্রত্যাবর্তন কর”।
দ্বিতীয় প্রকার অন্তর প্রথমটির বিপরীত। অর্থাৎ, খেয়াল-খুশীতে পরিপূর্ণ। বদভ্যাস দ্বারা কলুষিত। এই প্রকার অন্তরের সামনে শয়তানের দরজা থাকে উন্মুক্ত এবং ফেরেশতাদের দরজা তালাবদ্ধ। এরূপ অন্তরে অনিষ্টের সূচনা এভাবে হয় যে, প্রথমে তার মধ্যে মানসিক খেয়াল-খুশীর একটি শংকা জাগরিত হয়। সে শাসক জ্ঞান-বুদ্ধির কাছে উপযোগিতা জিজ্ঞেস করে। কিন্তু জ্ঞান-বুদ্ধি পূর্ব থেকেই খেয়াল-খুশীর সেবায় অভ্যস্ত থাকে, সর্বদা তার খাতিরে কৌশল আবিষ্কারে রত থাকে এবং তারই মর্জি অনুযায়ী কাজ করে। তাই এখনও নফসেরই সহযোগিতা করে এবং তদনুযায়ী জওয়াব দেয়।ফলে খেয়াল-খুশীর বক্ষ উন্মোচিত হয়ে যায় এবং তার তমসা বিস্তৃতি লাভ করে। জ্ঞান-বুদ্ধি পরাভূত হয়ে যায়। শয়তান সুযোগ পেয়ে খুব পা ছড়ায় এবং বাহ্যিক সাজসজ্জা, প্রতারণা, দীর্ঘ আশা এবং এমনি ধরনের অসার বিষয়সমূহের প্রতি উৎসাহিত করতে থাকে। অবশেষে ঈমানের শাসন দুর্বল এবং বিশ্বাসের প্রদীপ নির্বাপিত হয়ে যায়। অর্থাৎ, আল্লাহর ওয়াদা, শাস্তি ও পরকাল ভীতির বিশ্বাস অবশিষ্ট থাকে না। কেননা, খেয়াল-খুশীর একটি কাল ধূম্র নির্গত হয়ে অন্তরের চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তরের নূরকে নিষ্প্রভ করে দেয়। জ্ঞান-বুদ্ধির অবস্থা তখন এমন হয়ে যায়, যেমন কারও চোখ তীব্র ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ হয়ে গেলে সে দেখতে পারে না। কামভাবের প্রাবল্যের দরুন অন্তরের অবস্থা এমনি হয়ে যায়। হিতাহিত জ্ঞান ও সুমতি মোটেই থাকে না। সদুপদেশ হৃদয়ঙ্গম করে না এবং তৎপ্রতি কানও লাগায় না । এমতাবস্থায় শয়তান হামলা করে। কামভাবে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খেয়াল-খুশীর ইচ্ছানুযায়ী গতিশীল হয়। এই প্রকার অন্তরের প্রতিই নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে ইশারা করা হয়েছে, 
>“আপনি কি সেই ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশীকে আপন উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? আপনি কি তার দায়িত্ব নেবেন? না, আপনি ধারণা করেন যে, তাদের অধিকাংশ লোক শ্রবণ করে অথবা বুঝে? তারা চতুষ্পদ জন্তু বৈ নয়; বরং তাদের পথ আরও অধিক ভ্ৰষ্ট”।
>“তাদের অধিকাংশের জন্যে আল্লাহর শাস্তিবাণী অবধারিত হয়ে গেছে। অতএব তারা ঈমান আনবে না। তাদেরকে সতর্ক করা এবং না করা তাদের জন্যে সমান। তারা ঈমান আনবে না।”
কতক অন্তরের অবস্থা সকল প্রকার কাম-বাসনার ক্ষেত্রে এরূপই হয়ে থাকে এবং কোন কোন অন্তর কতক কাম-বাসনার বেলায় এরূপ হয়। 
উদাহরণতঃ কতক লোক কতক গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে; কিন্তু যখন কোন সুশ্রী চেহারার উপর দৃষ্টি পতিত হয়, তখন সংযম হারিয়ে ফেলে, বুদ্ধি-বিবেচনা বিদায় হয়ে যায় এবং অন্তরের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না। কিছু লোক জাঁকজমক, প্রতিপত্তি ও অহংকারের সামগ্রী দেখলে তা অর্জন করার জন্যে পাগলপারা হয়ে যায়। আবার কতক লোক নিজের সম্পর্কে কোন অপমানজনক উক্তি ও সমালোচনা শুনলে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে যায়। কেউ কেউ টাকা-পয়সা নেয়ার সময় এমন রূঢ় হয়ে যায় যে, ভদ্রতা ও খোদাভীতির রীতিনীতি সম্পূর্ণ ভুলে যায়। এ সবের কারণ, অন্তর খেয়াল-খুশীর কাল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং অন্তর্দৃষ্টির নূর ঘোলাটে হয়ে যায়। ফলে লজ্জা-শরম, ঈমান ও ভদ্রতাকে শিকায় রেখে শয়তানী অভিপ্রায় অর্জনের চেষ্টায় লেগে যায়।
তৃতীয় প্রকার অন্তর এমন, যার মধ্যে খেয়াল-খুশীর প্রবণতা প্রকাশ পায় এবং তাকে অনিষ্টের দিকে আকৃষ্ট করে। তখনই ঈমানের প্রবণতা আসে এবং তাকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। কামপূজারী নফস তখন অনিষ্টের প্রবণতার পক্ষপাতিত্ব করতে তৎপর হয়ে উঠে। এ সময় কামভাব কিছুটা প্রবল হয় এবং ভোগবিলাস ও আনন্দ ভাল মনে হতে থাকে। অতঃপর জ্ঞান-বুদ্ধি কল্যাণমুখী প্রবণতার প্রশংসা করে এবং কামপ্রবৃত্তির অনিষ্ট বর্ণনা করে বলে : এটা মূর্খতার কাজ এবং চতুষ্পদ ও হিংস্র জন্তুদের আচরণের অনুরূপ, যারা পরিণামের পরওয়া করে না এবং কুকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নফস জ্ঞান বুদ্ধির এই উপদেশের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এ সময় শয়তান জ্ঞান-বুদ্ধির উপর হামলা চালায় এবং বলে : শুষ্ক বৈরাগ্য কেমন? তুমি কাম-প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে বিরত হও কেন? দুনিয়ার আরও মানুষ কি ভোগবিলাসে মত্ত নয়? তোমার ভাগ্যে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদ ছাড়া কিছু নেই। মানুষ তোমাকে দেখে হাসবে। দেখ, অমুক অমুক ব্যক্তি ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়ে কেমন সুখে দিন যাপন করছে। তুমি মর্তবায় তাদেরকে ডিঙ্গিয়ে যাও না কেন? অমুক আলেম ব্যক্তিও তো তাই করে।নিষিদ্ধ হলে সে এরূপ করত না। এ ধরনের কথা শুনে নফস শয়তানের দিকে ঝুঁকে পড়ে।তখন ফেরেশতা শয়তানের উপর চড়াও হয় এবং অন্তরকে এভাবে বুঝায়- যে ব্যক্তি ভোগ-বিলাসের পেছনে পড়ে এবং পরিণামের প্রতি লক্ষ্য করে না, সে ধ্বংস হয়ে যায়। তুমি কি ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসে সন্তুষ্ট হয়ে চিরস্থায়ী বেহেশতী সুখ বর্জন করতে চাও? তুমি কি দোযখের আযাবের ভয়াবহতা কল্পনা করে কামপ্রবৃত্তিতে সবর করার কষ্ট সহ্য করতে পার না? অপরের অনুকরণে তুমি নিজের ব্যাপারে গাফেল হয়ে যাচ্ছ। এটা মস্ত বড় ধোঁকা। অপরের গোনাহ তোমার আযাব হালকা করবে না। অন্য মানুষ যদি জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রখর রৌদ্রতাপে চলাচল করে এবং তোমার একটি শীতল গৃহ থাকে, তবে তুমি অন্যদের সাথে রৌদ্র তাপের কষ্ট ভোগ করবে, না আপন গৃহে সুখে থাকবে? যদি অপরের সাথে রৌদ্রতাপে দাঁড়িয়ে থাকতে তোমার ভয় লাগে, তবে অপরের সাথে দোযখের আযাবে প্রবেশ করতে ভয় কর না কেন? এই উপদেশের ফলে নফস ফেরেশতার দিকে ঝুঁকে পড়ে। এভাবে সে শয়তান ও ফেরেশতা উভয়ের দ্বন্দ্বে জড়িত থাকে। এমতাবস্থায় যদি অন্তরে শয়তানী স্বভাব প্রবল থাকে, তবে শয়তানেরই অনুগত হয়ে যায়। পক্ষান্তরে যদি ফেরেশতার স্বভাব প্রবল থাকে, তবে শয়তানী প্ররোচনাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এবং আখেরাতের উপর দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রতি বিন্দুমাত্রও আকৃষ্ট হয় না; বরং আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করে নেয় এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে এমন কাজই প্রকাশ পায়, যদ্দ্বারা আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। এটি তাকদীরগত ব্যাপার। কেননা, হাদীস অনুযায়ী মুমিনের অন্তর আল্লাহ তা'আলার দু'অঙ্গুলির ফাঁকে অবস্থিত। অর্থাৎ শয়তান ও ফেরেশতা এই উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায়ই দ্বন্দ্ব লেগে থাকে এবং অন্তর এদিক-ওদিক পরিবর্তিত হতে থাকে। কিন্তু এক পক্ষের দিকে চিরকাল অটল থাকা খুবই কম। আল্লাহ তা'আলা বলেন : 
>“আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষ ইসলামের জন্যে উন্মুক্ত করে দেন। আর যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তার বক্ষ সংকীর্ণ করে দেন, যেন সে সজোরে আকাশে আরোহণ করে”।
অন্য আয়াতে বলেন ; 
>“যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে কেউ তোমাদের উপর প্রবল হবে না। আর যদি তিনি তোমাদেরকে ত্যাগ করেন, তবে তাঁর পরে তোমাদের সাহায্য কে করবে?”
এ থেকে জানা গেল, পথ প্রদর্শন ও পথভ্রষ্টকরণ তাঁরই কাজ। তাঁর আদেশ কেউ এড়িয়ে যেতে পারে না এবং তাঁর ফয়সালা কেউ বিলম্বিত করতে পারে না । তিনিই জান্নাত সৃষ্টি করে তার জন্যে কিছু লোককে সৃষ্টি করেছেন এবং তেমনি কাজে নিয়োজিত করেছেন। দোযখও তাঁরই তৈরী এবং এর জন্যে কিছু লোক সৃজিত হয়েছে। তাদেরকেও তেমনি কাজে লাগানো হয়েছে। মোটকথা, আল্লাহর ব্যাপার অনেক ঊর্ধ্বে- তিনি যা করেন, তজ্জন্যে কারও কাছে জিজ্ঞাসিত হবেন না। কিন্তু মানুষ জিজ্ঞাসিত হবে।
এ পর্যন্ত অন্তরের আশ্চর্যজনক অবস্থাসমূহের সামান্যই বর্ণিত হল। এর পূর্ণ বর্ণনা এলমে মোয়ামালায় সমীচীন নয়; বরং এলমে মোয়ামালার সূক্ষ্ম বিষয়াদি বুঝার জন্যে যতটুকু দরকার ততটুকু বর্ণনা করেই এ আলোচনা সমাপ্ত করা হচ্ছে।

(সমাপ্ত)
প্রথম পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...