আল্লাহর প্রতি মহব্বতের দ্বিবিধ কারণ
প্রথম, মানবের প্রতি পরম করুণাময় আল্লাহর ইহলৌকিক ও পারলৌকিক দানের কারণে মহব্বত; দ্বিতীয়, কেবল আল্লাহর জন্যই আল্লাহ্কে ভালবাসা। কোন বস্তু বা উদ্দেশ্যের সহিত উহার আদৌ কোন সংশ্রব নাই। ইহা অতি উচ্চ স্তরের মহব্বত। এই গ্রন্থের পরিত্রাণ খণ্ডে ‘মহব্বত' অধ্যায়ে ইহার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হইবে। মোট কথা, ঈমানের বল অনুপাতে আল্লাহর মহব্বত প্রবল হইয়া থাকে। ঈমান যত বলবান হইবে মহব্বতও ততই প্রবল ও প্রগাঢ় হইয়া উঠিবে। তৎপর ইহা আল্লাহর প্রিয়জনের মধ্যে সঞ্চারিত হইবে। স্বার্থ ও উপকারের কারণে ভালবাসার উদ্রেক হইলে পূর্বকালীন নবী ও ওলীগণের প্রতি কাহারও ভালবাসা জন্মিত না। অথচ তাঁহাদের প্রতি ভালবাসা সকল মুসলমানের অন্তরেই রহিয়াছে। সুতরাং ধর্মপথের দিশারী আলিম, সূফী, সংসারবিরাগী এবং তাঁহাদের খাদিম ও বন্ধুগণের প্রতি যে ভালবাসা জন্মে, তাহা আল্লাহর উদ্দেশ্যেই হইয়া থাকে বলিতে হইবে। কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় মান-সম্ভ্রম ও ধন-দৌলত উৎসর্গ করার পরিমাণ দ্বারাই তাঁহার প্রতি মহব্বতের পরিমাণ নির্ণয় করা চলে। কাহারও ঈমান ও মহব্বত এত প্রবল যে, তিনি নিজের যথাসর্বস্ব একবারেই আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করিয়া দিয়া থাকেন। যেমন হযরত আবূবকর সিদ্দীক (রাঃ) তাঁহার যথাসর্বস্ব একবারেই আল্লাহর রাস্তায় দান করিয়াছিলেন। আবার কেহ এইরূপও হইয়া থাকেন যে, তাঁহার অর্ধেক ধন-সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করেন। যেমন, হযরত উমর (রাঃ) এইরূপ করিয়াছিলেন। আবার কেহ কেহ অল্প ধন-সম্পদই আল্লাহর রাস্তায় দান করিয়া থাকে। অল্পই হউক আর অধিকই হউক, কোন মুসলমানের হৃদয়ই এরূপ নিঃস্বার্থ ভালবাসা হইতে একবারে মুক্ত থাকিবে না।
পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন