রবিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৪

সিদক (পর্ব- ১) সিদকের ফযীলত



সিদক (পর্ব- ১)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দীন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

সিদকের ফযীলত: 
আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন :
>“তারা এমন মানুষ, যারা আল্লাহর সাথে কৃত চুক্তিকে সত্যে পরিণত করেছে”।
সিদকের শ্রেষ্ঠত্বের জন্যে এতটুকুই যথেষ্ট যে, ‘সিদ্দীক’ শব্দটি এ থেকেই উদগত ! আল্লাহ তা'আলা পয়গম্বরগণের প্রশংসায় তাদেরকে সিদ্দীক বলেছেন। বলা হয়েছে-
> “কিতাবে ইবরাহীমের আলোচনা করুন। সে ছিল সিদ্দীক তথা সাচ্চা নবী। 
> “কিতাবে ইদ্রীসের আলোচনা করুন। সে ছিল সিদ্দীক ও নবী”।
রসূলে আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন,- 
>“সত্যবাদিতা পূণ্যের পথ দেখায় আর পুণ্য জান্নাতে নিয়ে যায়। মানুষ সত্য বলতে থাকে। অবশেষে সে আল্লাহর কাছে সিদ্দীক হিসাবে লিখিত হয় মিথ্যা পাপাচারের পথ দেখায়। পাপাচার জাহান্নামে নিয়ে যায়। মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে। অবশেষে সে আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী হিসাবে লিখিত হয়”।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন : চারটি বিষয় এমন রয়েছে, যেগুলোর উপকার সে-ই পায়, যার মাঝে এগুলো থাকে- সত্যবাদিতা, লজ্জা, সচ্চরিত্রতা ও শোকর। 
বিশর ইবনে হারেছ (রহঃ) বলেন : “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে নিষ্ঠা সহকারে আচরণ করে, সে মানুষকে ঘৃণা করে”। 
এক ব্যক্তি জনৈক দার্শনিককে বলল : আমি কোন সাচ্চা মানুষ দেখিনি। দার্শনিক বলল : যদি তুমি সাচ্চা হতে, তবে সাচ্চাদেরকে চিনতে। 
জনৈক ব্যক্তি হযরত শিবলী (রঃ)-এর মজলিসে চিৎকার দিয়ে উঠল। অতঃপর সে দজলা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। হযরত শিবলী (রঃ) বললেন : যদি সে সাচ্চা হয়, তবে আল্লাহ তা'আলা তাকে বাঁচিয়ে দেবেন, যেমন হযরত মূসা (আঃ)-কে বাঁচিয়েছিলেন। আর যদি সে মিথ্যুক হয়, তবে তাকে নিমজ্জিত করে দেবেন, যেমন ফেরাউনকে নিমজ্জিত করেছিলেন।
আলেম ও ফেকাহবিদগণ এ বিষয়ে একমত যে, তিনটি বিষয় সঠিক হয়ে গেলে মানুষ মুক্তি পেয়ে যাবে- 
(১) বেদআত ও খেয়ালখুশীমুক্ত ইসলাম, 
(২) আমলসমূহে আল্লাহ তা'আলার নিষ্ঠা এবং 
(৩) হালাল খাদ্য । 
ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বেহ (রহঃ) বলেন : আমি তাওরাতের প্রান্তটীকায় বাইশটি বাক্য দেখেছি যা বনী ইসরাঈলের সাধু বক্তিরা সমবেত হয়ে পাঠ করত। বাক্যগুলো এই : 
(১) কোন ভাণ্ডার জ্ঞানের চেয়ে অধিক উপকারী নয়। 
(২) কোন ধন সহনশীলতা অপেক্ষা অধিক ফলদায়ক নয়। 
(৩) কোন স্বভাব ক্রোধের চেয়ে অধিক নীচ নয়। 
(৪) কোন সঙ্গী আমলের চেয়ে বেশী শোভাদায়ক নয়। 
(৫) কোন সহচর মূর্খতার চেয়ে অধিক দোষী নয়। 
(৬) কোন গৌরব খোদাভীতি অপেক্ষা অধিক প্রিয় নয়। 
(৭) কোন বীরত্ব বাসনা বর্জনের চেয়ে বেশী পূর্ণাঙ্গ নয়। 
(৮) কোন আমল চিন্তা-ভাবনা অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠ নয়। 
(৯) কোন পুণ্য কাজ সবর অপেক্ষা উচ্চ নয়। 
(১০) কোন দোষ অহংকার অপেক্ষা অধিক অপমানকর নয়। 
(১১) কোন ঔষধ নম্রতার চেয়ে অধিক নরম নয়। 
(১২) কোন ব্যাধি বোকামি অপেক্ষা অধিক কষ্টদায়ক নয়। 
(১৩) কোন রসূল সত্য বিমুখ নয়। 
(১৪) সত্যবাদিতার চেয়ে অধিক কোন হিতাকাংখী নেই। 
(১৫) কোন ফকীর-লোভের চেয়ে অধিক লাঞ্ছিত নয়। 
(১৬) কোন প্রাচুর্য সম্পদ আগলে রাখার চেয়ে অধিক হতভাগা নয়। 
(১৭) কোন জীবন সুস্থতার চেয়ে উৎকৃষ্টতর নয়। 
(১৮) সাধুতার চেয়ে অধিক সহনীয় কোন পাপ নেই। 
(১৯) খুশুর চেয়ে উত্তম কোন এবাদত নেই। 
(২০) অল্পে তুষ্টির চেয়ে ভাল কোন বৈরাগ্য নেই। 
(২১) চুপ থাকার চেয়ে অধিক কোন হেফাযতকারী নেই। 
(২২) কোন অদৃশ্য বস্তু মৃত্যুর চেয়ে অধিক নিকটবর্তী নয়।
মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ মরুযী (রঃ) বলেন: যখন তুমি আল্লাহ তা'আলাকে নিষ্ঠার সাথে অন্বেষণ করবে, তখন তিনি তোমার হাতে একটি আয়না দিবেন, যার মধ্যে তুমি দুনিয়া ও আখেরাতের অত্যাশ্চর্য বিষয়সমূহ দেখতে পাবে।

পরবর্তী পর্ব-
সিদকের স্বরূপ 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...