নফল নামায - (পর্ব - ২৩)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
সালাতুত্তাসবীহ্
এ নামাযটি রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হুবহু বর্ণিত আছে। এটা কোন সময় ও কারণের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এ নামায একবার পড়া থেকে কোন সপ্তাহ অথবা মাস খালি না থাকা মোস্তাহাব। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পিতৃব্য আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে বললেন : আমি আপনাকে একটি বস্তু দিচ্ছি, একটি বিষয় শেখাচ্ছি। আপনি যখন এটা করবেন, তখন আল্লাহ তাআলা আপনার ভূত-ভবিষ্যৎ, পুরাতন ও নতুন, জানা ও অজানা এবং প্রকাশ্য ও গোপন সকল গোনাহ্ মাফ করে দেবেন। বিষয়টি এই,
আপনি চার রাকআত নামায পড়বেন। প্রত্যেক রাকআতে আলহামদু ও একটি সূরা পাঠ করবেন। যখন প্রথম রাকআতের কেরাআত শেষ হয়, তখন দন্ডায়মান অবস্থায় সোবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার পনর বার, এরপর রুকু করে রুকুতে দশ বার এই কলেমা পড়বেন, এর পর দাঁড়িয়ে এই কলেমা দশ বার, এর পর সেজদা করে সেজদায় দশ বার, মাথা তুলে বসা অবস্থায় দশ বার, এভাবে প্রতি রাকআতে মোট পঁচাত্তর বার এই কলেমা পাঠ করে চার রাকআত নামায সম্পন্ন করবেন। সম্ভব হলে এ নামায প্রত্যেক দিন পড়ুন, নতুবা প্রত্যেক জুমআর দিনে একবার, এটাও সম্ভব না হলে মাসে একবার পড়ুন।
এক রেওয়ায়েতে আছে, শুরুতে সানা পড়বেন, এর পর পনের বার উপরোক্ত তসবীহ্ কেরাআতের পূর্বে এবং দশ বার কেরাআতের পরে পাঠ করবেন; রাকআতের অবশিষ্টাংশে প্রথম রেওয়ায়েতের অনুরূপ পাঠ করবেন; কিন্তু দ্বিতীয় সেজদার পর কিছুই পাঠ করবেন না। এই রেওয়ায়েত উত্তম। উভয় রেওয়ায়েত অনুযায়ী চার রাকআত এক সালামে এবং রাতের বেলায় চার রাকআত দু'সালামে পড়বে। কেননা, হাদীসে আছে- (রাতের নফল নামায দু'রাকআত করে)। উপরোক্ত, কলেমার পরে وَلَا حَولَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيُّ الْعَظِيمِ কলেমা যোগ করা উত্তম। কতক রেওয়ায়েতে এ কলেমাও বর্ণিত হয়েছে।
উপরে বর্ণিত নফল নামাযসমূহের মধ্যে তাহিয়্যাতুল মসজিদ, গ্রহণের নামায ও বৃষ্টির নামায ছাড়া অন্য কোন নামায মাকরূহ ওয়াক্তে পড়া মোস্তাহাব নয়। ওযুর দু'রাকআত, সফরের দু'রাকআত, গৃহ থেকে বের হওয়ার নামায এবং এস্তেখারার নামায মাকরূহ ওয়াক্তে পড়া যাবে না। কেননা, এসবের কারণ দুর্বল এবং মাকরূহ ওয়াক্তে নামায পড়ার নিষেধাজ্ঞা জোরদার। অতএব এসব নামায প্রথমোক্ত তিন প্রকার নামাযের মর্তবায় পৌঁছে না। আমি কতক সূফীকে মাকরূহ ওয়াক্তে ওযুর দু'রাকআত নামায পড়তে দেখেছি। অথচ এটা নীতিবিরুদ্ধ। কেননা, ওযু নামাযের কারণ নয়; বরং নামায ওযুর কারণ হয়। কাজেই নামায পড়ার জন্যে ওযু করা উচিত। এটা নয় যে, নামায পড়বে ওযু করার জন্যে। যেব্যক্তি মাকরূহ ওয়াক্তে তার ওযু নামায থেকে খালি রাখতে চায় না, তার উচিত ওযুর পরে দু'রাকআত কাযার নিয়ত করা। কেননা, তার যিম্মায় কোন কাযা নামায থাকা সম্ভবপর। কাযা নামায মাকরূহ ওয়াক্তেও মাকরূহ নয়। কিন্তু মাকরূহ ওয়াক্তে নফলের নিয়ত করার কোন কারণ নেই। এসব ওয়াক্তে নফল নামায পড়তে নিষেধ করার পেছনে তিনটি বিষয় উদ্দেশ্য।
প্রথম, সূর্যপূজারীদের সাথে সামঞ্জস্য থেকে আত্মরক্ষা করা।
দ্বিতীয়, শয়তান থেকে আত্মরক্ষা করা। হাদীস শরীফে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: যখন সূর্যোদয় হয় তখন তার সাথে শয়তানের মস্তকের একটি প্রান্ত সংযুক্ত থাকে। সূর্য উপরে উঠে গেলে তা পৃথক হয়ে যায়। যখন ঠিক দ্বিপ্রহর হয় তখন আবার মিলিত হয়ে যায়। যখন ঢলে পড়ে তখন চলে যায়। এর পর যখন সূর্য অস্ত যেতে থাকে, তখন শয়তানের মাথা আবার সংযুক্ত হয় এবং অস্ত যাওয়ার পর আলাদা হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এ তিন সময়ে পড়তে নিষেধ করে তার কারণ বলে দিয়েছেন।
তৃতীয়, আধ্যাত্ম পথের পথিক সর্বদা নিয়মিত নামায পড়ে। এবাদত একই প্রকারে নিয়মিত করা পরিণামে বিষণ্ণতা সৃষ্টি করে। যদি এক ঘন্টা এবাদত বন্ধ রাখা হয় তবে প্রসন্নতা বৃদ্ধি পায় এবং ইচ্ছা নতুনতর হয়।
(সমাপ্ত)
************
প্রথম পর্বের লিংক

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন