শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৪

মারেফতের মর্মকথা (১৫) দরিদ্র্যতা : দরবেশী

 

📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ১৫)  ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)

দরিদ্র্যতা : দরবেশী
আল্লাহর কাছে দরিদ্র এবং দরবেশের মর্যাদা খুবই উন্নত। হুজুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) দোআ করতেন, – “হে আল্লাহ ! আমাকে দরিদ্র অবস্থায় জীবিত রাখুন, দরিদ্র অবস্থায় মৃত্যু দান করিয়েন এবং দরিদ্রের সাথেই আমাকে হাশরের মাঠে উঠাইয়েন।”
হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করবেন: “আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিবেন -আমার বন্ধুগণকে আমার নিকটে পেশ ফর। ফেরেশতাগণ জিজ্ঞেস করবেন, আপনার বন্ধু কারা? আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করবেন, ফকির ও মিসকিন।”

কিন্তু ফকির এবং মিসকিন বলতে ঐসব ব্যক্তিকে বুঝায় যারা আল্লাহর উপর নির্ভর করে দুনিয়া লাভের চিন্তা-ভাবনা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর কাজ দাসত্বের জন্য আত্মোৎসর্গ করে থাকেন। যেমন ‘আসহাবে সুফ্ফা’ সর্বক্ষণ মসজিদে নববিতে থেকে মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর নির্দেশ পালনে প্রস্তুত থাকতেন। তাঁরা প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য যাবতীয় আসবাব উপকরণ পরিত্যাগ করে আল্লাহতে আত্মসমর্পিত থাকেন এবং তাঁরই সাথে প্রেমপ্রীতির বাঁধন দৃঢ় করেন। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন বন্ধু তাদের থাকে না।
এ জাতীয় লোকের উদ্দেশ্যেই আল্লাহ্  তায়ালা এরশাদ করেছেন,- “তোমাদের আল্লাহর ওয়াস্তের দান এবং খেদমত পাওয়ার যোগ্য ঐসকল দরিদ্র ব্যক্তি যারা আল্লাহর কাজে এমনভাবে আবদ্ধ যে চলে ফিরে দৌড় ঝাঁপ দ্বারা নিজেদের জীবিকা অর্জনে অসমর্থ। তাদের ব্যক্তিত্ব দেখে সাধারণ লোকেরা মনে করবে যে তারা খুব সম্পদশালী।” (সূরা: আল-বাকারা- ২৭৩)

এসব লোকদের ব্যাপারেই আল্লাহ তার রাসূলকে এরশাদ করেছেন: - “যারা রাতদিন স্বীয় প্রভুর ইবাদত বন্দেগিতে আত্মনিয়োজিত এবং তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে তাদের আপনার নিকট থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না।” (সূরা: আল-আনআম-৫২)

ফকিরীর আসল সম্পদ বৈরাগ্য অথচ পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়। বরং দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত এবং অমুখাপেক্ষী হওয়া। যেহেতু তাসাউফের পরিভাষায় সুফি ঐ ব্যক্তি যে জাগতিক বিষয়বস্তু হতে অমুখাপেক্ষী। তার নিকট কিছু থাকুক কিংবা না থাকুক উভয় অবস্থায়ই তার মধ্যে যেন কোন প্রকার পরিবর্তন না আসে। তার কাছে কোন সম্পদ না থাকলেও যেন সে তাকে নিঃসম্বল মনে না করে এবং সম্পদ থাকা সত্ত্বেও যেন নিজেকে ধনী মনে না করে। বরং নিঃস্ব অবস্থায় আরও সন্তুষ্ট থাকবে। কারণ, ফকির যতটাই দরিদ্র হবে তার হাল’ ততটাই প্রকাশ লাভ করবে- অলসতা কম হবে। তাই মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন: “অনাহারী ব্যক্তি আল্লাহ্ তা’আলার নিকট সত্তর জন জ্ঞানবান দরবেশ অপেক্ষাও উন্নত পর্যায়ের প্রিয় ব্যক্তি।” 
আরো বলা হয়েছে – “ক্ষুধা এই দুনিয়ায় আল্লাহর আহার্য বস্তু।”

পরবর্তী পর্ব-
প্রকৃত ফকির 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...