মানবীয় জ্ঞানের পরিধি
📚 কাশফুল মাহজুব (পর্ব–১২) ✍🏻 দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)
কোন ব্যক্তি কিংবা পৃথিবীর সকল মানুষ মিলেও—নিজের এবং অপরের নিকট যতই জ্ঞানী হিসেবে পরিচিত হোক না কেন, তার সেই জ্ঞানের একটি সীমা বা পরিধি রয়েছে। যে মূল জ্ঞান আল্লাহ তায়ালার নিকটে সংরক্ষিত, তার সামনে মানুষের জ্ঞানের কোনো মূল্যই নেই।
মানবীয় জ্ঞানের অবস্থা এমন যে, সমস্ত মানুষ একত্রিত হয়েও আল্লাহর সৃষ্ট পৃথিবীর একটি অণু পরিমাণ বিষয় সম্পর্কেও পূর্ণ জ্ঞানলাভের দাবি করতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে মানুষের জ্ঞানের পূর্ণতা এখানেই যে, সে উপলব্ধি করুক—মোটের উপর সে কিছুই জানে না।
যেমন মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দরবারে বিনীতভাবে আরজ করেছিলেন—
“হে আল্লাহ! আমি সম্পূর্ণরূপে আপনার গুণগান করতে অক্ষম।”
আল্লাহ তায়ালা তাঁর নেয়ামত ও বাণী সম্পর্কে বলেন—
وَإِن تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا ۗ
উচ্চারণ: ওয়া ইন তা’ুদ্দু নি‘মাতাল্লা-হি লা তুহসূহা।
অর্থ: “তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামতসমূহ গণনা করতে চাও, তবে তা গুনে শেষ করতে পারবে না।”
(সূরা ইব্রাহীম – আয়াত ৩৪)
আরও বলেন—
قُل لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَن تَنفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا
উচ্চারণ: কুল্ লাও কা-নাল-বাহরু মিদা-দান লি-কালিমা-তি রবি লানাফিদাল-বাহরু কাবলা আন্না-তানফাদা কালিমা-তু রবি, ওয়ালাও জি’না বিমিসলিহি মাদাদা।
অর্থ: “বল, যদি সাগরসমূহ আমার প্রভুর বাণী লেখার জন্য কালিতে পরিণত হয়, তবুও আমার প্রভুর বাণী শেষ হবে না, যদিও তেমন আরও অনেক সাগর তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।”
(সূরা আল-কাহফ – আয়াত ১০৯)
অতএব, মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা অনস্বীকার্য। আল্লাহর জ্ঞানের সামনে মানবজ্ঞান নিতান্তই তুচ্ছ। মানুষ যতই শিখুক, বুঝুক বা গবেষণা করুক—আল্লাহর অসীম জ্ঞানের গভীরতা কখনোই স্পর্শ করতে পারবে না।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন