বিসমিল্লাহ এবং নিয়তের পরিশুদ্ধতা —
📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ১)
✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)
✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে আমরা যেন বিসমিল্লাহ বলে আল্লাহর সাহায্য ও সহানুভূতি কামনা করে প্রতিটি কাজ শুরু করি। কেননা কাজের পরিণতি স্বীয় ইচ্ছা এবং চেষ্টার উপর নয় বরং আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা এবং আল্লাহ প্রদত্ত সামর্থ্য দ্বারা হয়ে থাকে। ফলে আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় রাসূল ও তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন-
“যখন তোমরা কুরআন তেলাওয়াত কর তখন বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর”। (সূরা: আন্-নাহল : ৯৮)
আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে আমরা যেন বিসমিল্লাহ বলে আল্লাহর সাহায্য ও সহানুভূতি কামনা করে প্রতিটি কাজ শুরু করি। কেননা কাজের পরিণতি স্বীয় ইচ্ছা এবং চেষ্টার উপর নয় বরং আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা এবং আল্লাহ প্রদত্ত সামর্থ্য দ্বারা হয়ে থাকে। ফলে আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় রাসূল ও তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন-
“যখন তোমরা কুরআন তেলাওয়াত কর তখন বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর”। (সূরা: আন্-নাহল : ৯৮)
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন এবং সূরা সমূহ বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা শিক্ষা দিয়েছেন। হুজুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তিনিও তাঁর অনুসারীদের ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে কাজ শুরু করা শিক্ষা দিয়েছেন। বান্দা যখন আল্লাহর নাম, তাঁর সাহায্য এবং নির্দেশ কামনা করে কাজ শুরু করে তখনই সে আল্লাহর সাহায্য, সহানুভূতি এবং সন্তুষ্টি অর্জন করে থাকে।
তাছাড়া নিয়মের বিশুদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হুজুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন- “কাজের পরিণতি নিয়তের উপর নির্ভরশীল”। কাজের মধ্যে নিয়ত এতটা কার্যকরী যে নিয়তের বিভিন্নতার কারণে একই কাজের পরিণতি বিভিন্ন রকম হয়ে দাঁড়ায়। অথচ কাজের আকৃতি একই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন কোন মুসাফির মুকীম হওয়ার নিয়ত করা ব্যতীত বহু দিন ধরে একই শহরে অবস্থান করলে সে মুসাফিরই থাকবে। কিন্তু সে যদি থাকার নিয়ত করে কোন শহরে উপস্থিত হয় তবে তার বাহ্য কাজকর্ম একই ধরনের হওয়া সত্ত্বেও সে মুকিম হিসেবে পরিগণিত হবে। তেমনি নিয়ত ছাড়া কোন ব্যক্তি রোযা থেকে সারাদিন পানাহার করা হতে বিরত থাকলেও সে রোযাদারের মধ্যে পরিগণিত হবে না, কোন প্রকার পুণ্যের অংশীদারী হবে না। আর যদি রোযার নিয়তে পানাহার করা হতে বিরত থাকে তবে সে আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করবে।
কোন ব্যক্তি যদি বিশুদ্ধ নিয়তে কোন কাজ শুরু করে কিন্তু কোন প্রকার ভুল-ভ্রান্তি বা ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য কাজ সম্পাদন করতে না পারে তবে তাকে অপারগ মনে করা হবে এবং সে তার কাজের প্রতিদান পাবে।
হুজুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন- জানা মোমেনের নিয়ত তার কাজ সম্পাদন করা অপেক্ষা উত্তম। কাজ সম্পাদন করা ছাড়াও নিয়ত করায় উপকার হতে পারে। কিন্তু নিয়ত ব্যতীত কোন কাজ কোন উপকারেই আসে না। তদুপরি নিয়তের জন্য যতটা বিশুদ্ধতা এবং সরলতা থাকবে উক্ত কাজের প্রতিদানও ততটা বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়ার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি-বিধান সম্মুখে রেখে কাজ করে যাওয়া। কু-প্রবৃত্তির তাড়না না থাকা। মনে রেখো যে কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের উদ্দেশ্য না থাকে এবং কু-প্রবৃত্তির তাড়না থাকে উক্ত কাজে কোন প্রকার বরকত থাকে না এবং মানুষের মন সরল পথ থেকে দূরে সরে যায়। কু-প্রবৃত্তি দোযখের চাবি। কারণ, কু-প্রবৃত্তির অনুসরণ করেই মানুষ দোযখের দিক এগিয়ে যায়। অপরদিকে স্বীয় নফসকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করার পথে পরিচালনা করা এবং নিজের খেয়াল খুশিমতো না চলা। বেহেশতের চাবি এ কারণে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন-
“যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমান, পরকালের চেয়ে পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিবে তার ঠিকানা দোযখ। আর যে স্বীয় প্রভুর কাছে উপস্থিত হতে ভয় পায় এবং (এই ভয়ে) নফসকে তার ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা হতে বিরত রাখে তার স্থান বেহেশত।” (সূরা: আন্-নাযিয়াত- ৩৭-৪১)
তাই লোকের দেখা কর্তব্য- সে যে কাজ করতে যাচ্ছে তাতে কী সে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সন্ধান করে. না তাতে কোন প্রকার কু-প্রবৃত্তির তাড়না আছে। যদি দ্বিতীয় প্রকার উদ্দেশ্য থাকে তাহলে সে কাজ করা হতে বিরত থাকবে। অথবা তাতে যতটা কু-প্রবৃত্তির তাড়না থাকে তা হতে স্বীয় ইচ্ছা এবং নিয়তকে পরিশুদ্ধ করে নিবে।
পরবর্তী পর্ব
নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়ার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি-বিধান সম্মুখে রেখে কাজ করে যাওয়া। কু-প্রবৃত্তির তাড়না না থাকা। মনে রেখো যে কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের উদ্দেশ্য না থাকে এবং কু-প্রবৃত্তির তাড়না থাকে উক্ত কাজে কোন প্রকার বরকত থাকে না এবং মানুষের মন সরল পথ থেকে দূরে সরে যায়। কু-প্রবৃত্তি দোযখের চাবি। কারণ, কু-প্রবৃত্তির অনুসরণ করেই মানুষ দোযখের দিক এগিয়ে যায়। অপরদিকে স্বীয় নফসকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করার পথে পরিচালনা করা এবং নিজের খেয়াল খুশিমতো না চলা। বেহেশতের চাবি এ কারণে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন-
“যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমান, পরকালের চেয়ে পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিবে তার ঠিকানা দোযখ। আর যে স্বীয় প্রভুর কাছে উপস্থিত হতে ভয় পায় এবং (এই ভয়ে) নফসকে তার ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা হতে বিরত রাখে তার স্থান বেহেশত।” (সূরা: আন্-নাযিয়াত- ৩৭-৪১)
তাই লোকের দেখা কর্তব্য- সে যে কাজ করতে যাচ্ছে তাতে কী সে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সন্ধান করে. না তাতে কোন প্রকার কু-প্রবৃত্তির তাড়না আছে। যদি দ্বিতীয় প্রকার উদ্দেশ্য থাকে তাহলে সে কাজ করা হতে বিরত থাকবে। অথবা তাতে যতটা কু-প্রবৃত্তির তাড়না থাকে তা হতে স্বীয় ইচ্ছা এবং নিয়তকে পরিশুদ্ধ করে নিবে।
পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন