মানব দেহের বৈচিত্র
মানবাত্মা সম্বন্ধে উপরে যাহা বলা হইল তাহাই এ গ্রন্থে যথেষ্ট। কেহ ইহার অধিক জানিতে চাহিলে আমা কর্তৃক লিখিত 'আজায়েযুল কুলুব' গ্রন্থ পাঠ করিবেন। কিন্তু এই দুই গ্রন্থ পাঠ করিলেই যে পূর্ণ আত্মপরিচয় লাভ হইবে, তাহা নহে। কারণ আত্মা পুরা মানুষের এক অংশ ; অপর অংশ শরীর এবং উক্ত গ্রন্থদ্বয়ে আত্মার গুণসমূহের কতকগুলি মাত্র বর্ণিত হইয়াছে। দেহ নির্মাণের মধ্যেও বহু বৈচিত্র্য রহিয়াছে। মানুষের প্রতিটি বাহ্য অঙ্গ ও প্রতিটি আভ্যন্তরিক যন্ত্রের মধ্যে অসংখ্য বৈচিত্র্য ও অনন্ত কৌশল রহিয়াছে। মানব দেহে বহু সহস্র শিরা, স্নায়ু ও অস্থিখণ্ড আছে । ইহাদের প্রতিটির আকৃতি ও গুণ বিভিন্ন প্রকার এবং প্রতিটির উদ্দেশ্য বিভিন্ন। তোমরা অনেকেই এই বিষয়ে অবগত নও। কেবল এতটুকু জান যে, ধারণ করিবার জন্য হস্ত, চলিবার জন্য পদ এবং বলিবার জন্য জিহ্বার সৃষ্টি হইয়াছে। কিন্তু জানিয়া রাখ, আল্লাহ্ তা'আলা দশটি পর্দা দিয়া চক্ষু তৈয়ার করিয়াছেন এবং দশটি পর্দা বিভিন্ন প্রকারের। এই দশটির মধ্যে শুধু একটির অভাব হইলে দৃষ্টিশক্তির ব্যাঘাত ঘটে। এই সকল পর্দা কেন সৃষ্ট হইয়ছে এবং ইহাদের একটির অভাবে দৃষ্টিশক্তির কেন ব্যাঘাত ঘটে, তাহা হয়ত তোমরা জান না। এখন ভাবিয়া দেখ, চক্ষু একটি বাহিরের অঙ্গ এবং এ সম্বন্ধে বহু বিদ্বান লোক অনেক গ্রন্থ প্রণয়ন করিয়াছেন। এমতাবস্থায় এই বাহ্য অঙ্গের অবস্থাও যখন সম্পূর্ণরূপে অবগত হইতে পার না তখন হৃদপিণ্ড, প্লীহা, যকৃৎ, ফুসফুস প্রভৃতি আভ্যন্তরিক যন্ত্রাদি কেন প্রস্তুত হইয়াছে, তাহা না জানাতে কি বিস্ময়ের কারণ আছে? আমাদের ভুক্তদ্রব্য পাকস্থলীতে পরিপক্ক হয় এবং উহাকে রক্তে পরিণত করত সমস্ত দেহের গঠন ও রক্ষণের উপযোগী করিবার জন্য হৃদপিণ্ডের সৃষ্টি হইয়াছে। হৃৎপিণ্ডে রক্ত বিশোধিত হওয়ার সময় নিচে কিছু গাদ সঞ্চিত হয় এবং এই গাদ শ্লেষ্মায় পরিণত হয়। প্লীহা এই শ্লেষ্মা লইয়া ইহাকে একপ্রকার হরিদ্রবর্ণ ফেনায় পরিণত করে। ইহাই পিত্তরস। যকৃত এই পিত্তরস ছাঁকিয়া রক্তকে পরিষ্কার করে। হৃদপিণ্ড হইতে রক্ত বাহির হওয়ার সময় ইহাকে বিভিন্ন উপাদানের সমতা থাকে না এবং উহা খুব পাতলা থাকে। ফুসফুস হইতে পানি ছাঁকিয়া লয় এবং রক্ত তখন গাদ ও পিত্তরস হইতে বিমুক্ত সমতাপ্রাপ্ত হইয়া শিরায় শিরায় সমস্ত শরীরে প্রবাহিত হয়। যকৃতে পীড়া হইলে ইহা আর রক্ত ছাঁকিয়া পরিষ্কার করিতে পারে না। এই কারণেই পাণ্ডুরোগ ও নানারূপ পিত্তরোগ জন্মে। প্লীহার কোন রোগ দেখা দিলে রক্তের সহিত গাদ থাকিয়া যায় । তখন ইহার রক্তের সহিত সমস্ত শরীরে প্রবেশ করিয়া নানারূপ রোগের উৎপন্ন করে। ফুসফুসের কোন বিকার দেখা দিলে রক্তে পানি থাকিয়া যায় এবং এই কারণেই জলন্দর রোগের উৎপন্ন হয়। একই প্রকার মানবদেহের বাহ্য ও আভ্যন্তরিক প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহ্ তা'আলা পৃথক পৃথক কার্যের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিয়াছেন। ইহাদের মধ্যে একটির অভাব হইলেই সমস্ত দেহ বিগড়াইয়া যায়৷
মানবদেহে বিশ্বজগতের নমুনা

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন