সাঈর নিয়ম —
প্রথম সাফা পাহাড়ে যাইবে এবং এত উপরে আরোহণ করিবে যেন কা'বা শরীফ দেখা যায়। (এখানে কোন পাহাড় চোখে পড়বেনা শুধু উচ্চস্থান পরিলক্ষিত হবে) তথায় কা'বাগৃহের দিকে মুখ করিয়া এই দু'আ পড়িবে-
(لا إِلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ لَا يَمُوْتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَعَلَى كُلَّ شَيْءٍ قَدِيرٌ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ وَصَدَقَ وَعْدَهُ
وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَاَعَزَّ جُنْدَهُ وَهَزَمَ الاَحْزَابَ وَحْدَهُ لا اله الاهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَفِرَوْنَ -)
অর্থাৎ “আল্লাহ্, ব্যতীত কেহই উপাসনার যোগ্য নাই। তিনি একক, তাঁহার কোন শরীক নাই। সমস্ত বিশ্বের আধিপত্য একমাত্র তাঁহারই এবং তাঁহার জন্যই সকল প্রশংসা। তিনিই জীবিত করেন ও প্রাণসংহার করেন; অথচ তিনি চিরজীবী, কখনই মরিবেন না। তাঁহারই হস্তে সর্ববিধ মঙ্গল এবং তিনি সকল পদার্থের উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ্ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই। তিনি একক, তাঁহার অঙ্গীকার সত্য। তিনি তাঁহার বান্দাকে সাহায্য করেন এবং তিনি তাঁহার সৈন্যদলকে পরাক্রমশালী করেন। তিনি একাকী বহু বিরোধী সেনাদলকে ধ্বংস করিয়াছেন। আল্লাহ্ ছাড়া কোন মাবুদ নাই। বিশ্বাসিগণ অকপটতার সহিত তাঁহার বন্দেগী করিয়া থাকে যদিও কাফিরগণ ইহা পছন্দ করে না।” এতদ্ব্যতীত মনোবাঞ্ছা (আশা) পূরণের জন্য দু'আ করিবে।
তৎপর সাফা পাহাড় হইতে অবতরণ করত মারওয়ার দিকে অগ্রসর হইবে। প্রথমে আস্তে আস্তে চলিবে এবং এই দু'আ পড়িবে।
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَتَجَاوَزْ عَمَّ تَعْلَمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِحَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ -
অর্থাৎ 'হে আল্লাহ্, ক্ষমা করুন, দয়া করুন এবং আমার যাহাকিছু পাপ আপনি জানেন তাহা ছাড়িয়াদেন। অবশ্যই আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাপেক্ষা মহান। হে আল্লাহ্, হে আমাদের প্রভু, ইহকালীন মঙ্গল ও পরকালীন মঙ্গল আমাদিগকে দান করুন এবং আমাদিগকে দোযখের আগুন হইতে রক্ষা করুন।”
এই দু'আ পড়িতে পড়িতে মসজিদের পার্শ্বে সবুজ খুঁটি পর্যন্ত ধীরে ধীরে চলিবে। ইহা হইতে ছয় গজ সম্মুখের দিকে অনুরূপ আর একটি খুঁটি আছে। উভয় খুঁটির মধ্যবর্তী ছয় গজ ভূমি খুব তাড়াতাড়ি দৌড়াইয়া অতিক্রম করিবে।(বর্তমানে সবুজ আলো দিয়ে স্থানটি দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে) দ্বিতীয় খুঁটিটি অতিক্রম করত আস্তে আস্তে চলিয়া মারওয়া পাহাড় পর্যন্ত যাইবে। মারওয়া পাহাড়ে আরোহণপূর্বক সাফা পাহাড়ের দিকে মুখ করিয়া সাফা পাহাড়ে যে দু'আ পড়া হইয়াছে, এখানেও তাহাই পড়িবে। এই নিয়মে সাফা হইতে মারওয়া পর্যন্ত গেলে একবার দৌড় হইল। আবার মারওয়া হইতে সাফা পৌছিলে আর একবার দৌড় হইল। এইরূপে সাতবার দৌড়াইবে।
এই পর্যন্ত কার্যগুলি সমাপ্ত হইলে তওয়াফে কুদূম ও তওয়াফে সাঈ করিবে। হজ্জের মধ্যে এই তওয়াফ সুন্নত। হজ্জের অপরিহার্য অঙ্গস্বরূপ নির্ধারিত তওয়াফ আরাফার ময়দানে অবস্থানের পর করিতে হয়। সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মধ্যে দৌড়ের সময় ওযু-গোসল দ্বারা শরীর পবিত্র করিয়া লওয়া ওয়াজিব। এ পর্যন্ত যাহা বর্ণিত হইল তাহা সাঈর জন্য যথেষ্ট। কারণ আরাফার অবস্থানে পর সাঈ করিতে হইবে বলিয়া কোন শর্ত নাই। কিন্তু তওয়াফের পরে হওয়া আবশ্যক, যদিও এই তওয়াফ সুন্নত হইয়া থাকে।
আরাফার ময়দানে অবস্থানের নিয়ম

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন