রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫

হজ্জ (৩) হজ্জ ফরয হওয়ার শর্ত



হজ্জ (পর্ব – ৩)
📚সৌভাগ্যের পরশমনি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী(রহ.) 

হজ্জ ফরয হওয়ার শর্ত —

(মুসলমান হওয়া, (বালেগ হওয়া, (আযাদ হওয়া  (সামর্থ্য থাকা। এই সামর্থ্য দুইপ্রকার-(সুস্থ দেহে শরীর খাটাইয়া স্বয়ং হজ্জ করিবার শক্তি থাকা। এই শক্তি আবার তিন জিনিসে লাভ হয়- (সুস্থ শরীর, (নিরাপদ রাস্তা অর্থাৎ পথিমধ্যে ভয়সঙ্কুল সমুদ্র এবং শত্রু কর্তৃক জান মাল নাশের আশংকা না থাকা এবং (এই পরিমাণ ধন থাকা যদ্দ্বারা সমস্ত ঋণ পরিশোধ করত যাতায়াতের যানবাহন  থাকা খাওয়ার ব্যয় স্বাচ্ছন্দ্যে চলে এবং তদুপরি সফর হইতে দেশে ফিরিয়া আসা পর্যন্ত পরিবারস্থ সকলের ভরণ-পোষণ স্বাচ্ছন্দ্যে নির্বাহ হয় (যে ব্যক্তি নিজের শরীর খাটাইয়া হজ্জ করিতে পারে নাযেমন শরীর অবশ হইয়া পড়িল বা পীড়াগ্রস্ত হইয়া এমনভাবে শয্যাশায়ী হইল যেপুনরায় আরোগ্য লাভের আশা নাই তাহার সামর্থ্য এইতাহার এই পরিমাণ ধন থাকা আবশ্যক যাহাতে সে অন্য একজনকে যাবতীয় খরচ  মজুরি দিয়া তাহার প্রতিনিধিস্বরূপ পাঠাইয়া তাহার পক্ষ হইতে হজ্জ করাইতে পারে। অচল ব্যক্তির পুত্র পিতা হইতে কোন খরচ গ্রহণ নাকরিয়া নিজ ব্যয়ে পিতার হজ্জ করিয়া দিতে চাহিলে ইহাতে সম্মতি হওয়া পিতার কর্তব্য। কারণপিতার খেদমত করা মর্যাদা  সম্মানের বিষয়। কিন্তু পুত্র নিজে হজ্জে না যাইয়া যদি বলেআমি যাবতীয় খরচ  মজুরি দিতেছিআপনি অপর কাহাকেও প্রতিনিধিস্বরূপ প্রেরণ করত আপনার হজ্জ-করাইয়া লউন তবে এরূপ প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া পিতার অবশ্য কর্তব্য নহে। কারণ ইহাতে ইবাদত-কার্যে পুত্রের অনুকম্পা গ্রহণ করা হয়। এইরূপ কোন অনাত্মীয় যদি অচল ব্যক্তি হইতে খরচাদি গ্রহণ না করিয়া প্রতিনিধিরূপে তাহার হজ্জ করিয়া দিতে ইচ্ছা করে তবে এইরূপ অনুকম্পা গ্রহণ করাও আবশ্যক নহে।


হজ্জ সম্পাদনের সামর্থ্য হওয়ামাত্র অবিলম্বে হজ্জ সম্পাদন করা উচিত। বিলম্ব করাও দুরস্ত আছে।পরবর্তী কোন বৎসরে হজ্জ করিয়া থাকিলে তো মঙ্গলকিন্তু বিলম্ব করিতে করিতে হজ্জ করিবার পূর্বেই মৃত্যু হইলে গুনাহগার হইয়া মরিতে হইবে। কেহ ফরয হজ্জ আদায় না করিয়া মরিলে মৃত ওসিয়ত করুক বা না করুক তাহার পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে প্রতিনিধি প্রেরণ করত হজ্জ করাইয়া লওয়া তাহার উত্তরাধিকারিগণের কর্তব্য। কারণ ইহা মৃত ব্যক্তির ঋণস্বরূপ। হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- "যে শহরের অধিবাসী হজ্জের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করেআমার ইচ্ছা হয় যে তাহাদের নিকট হইতে জিযিয়া আদায় করিবার জন্য আমার অধীনস্ত শাসনকর্তাদিগকে আদেশ দেই।" (নিজেদের জানমাল রক্ষার্থে অমুসলমান প্রজাবৃন্দ মুসলিম রাষ্ট্রকে যে কর প্রদান করে তাহাকে জিযিয়া বলে)


পরবর্তী পর্ব –
হজ্জের অবশ্য করণীয় কার্যাবলী 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...