আল্লাহর মা'রিফাতে আত্মার পরম তৃপ্তি
এখন অবশ্যই বুঝিতে পারিয়াছ যে , জ্ঞানের মধ্যে আত্মার তৃপ্তি নিহিত আছে। ইহাও জানিয়া রাখ, যে বস্তু যত উৎকৃষ্ট ও মহৎ হইবে তৎসম্বন্ধীয় জ্ঞান আত্মার নিকট তত আনন্দদায়ক হইবে। এইজন্যই কেহ মন্ত্রিত্বের রহস্য জানিতে পারিলে আনন্দিত হয়। তৎ পর সেই ব্যক্তির নিকট যদি বাদশাহের রহস্য উদ্ঘাটিত হইয়া পড়ে এবং সে রাজ্যসংক্রান্ত সব বিষয়ের জ্ঞান লাভ করে তবে তাহার আনন্দ আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাইবে। দাবা খেলায় পটুতা প্রদর্শন অপেক্ষা যে ব্যক্তি গণিতশাস্ত্রের সাহায্যে গ্রহ-নক্ষত্রাদির আকার, আয়তন ইত্যাদি নির্ণয় করিতে পারে সে অধিক আনন্দ উপভোগ করিয়া থাকে। যে ব্যক্তি দাবা খেলায় পটু সে দাবার গুটিস্থাপনে সক্ষম ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক আনন্দ পাইয়া থাকে। এইরূপ পরিজ্ঞাত বিষয় যত অধিক উৎকৃষ্ট হইবে তৎসম্বন্ধীয় জ্ঞানও তত অধিক উৎকৃষ্ট ও আনন্দদায়ক হইবে। আল্লাহ্ সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট। তাহার কারণেই সৃষ্টি মর্যাদা লাভ করিয়াছে এবং তিনি সমস্ত বিশ্বের বাদশাহ। বিশ্বের সমস্ত আশ্চর্য বস্তু তাঁহারই শিল্প নৈপুণ্যের নিদর্শন। সুতরাং অন্য কোন বিষয়ের জ্ঞান তাঁহার মা'রিফাতের তুল্য উৎকৃষ্ট ও আনন্দদায়ক হইতে পারে না। তাঁহার দীদার অপেক্ষা উৎকৃষ্ট দীদার আর নাই এবং আত্মা তাঁহার দীদার লাভের জন্যই উৎসুক। কারণ, যে উদ্দেশ্যে যে বস্তু সৃষ্ট হইয়াছে সেজন্যই উহা উৎসুক হইয়া থাকে। যাহার হৃদয়ে আল্লাহর মা'রিফাত লাভের আগ্রহ নাই সে এমন পীড়িত ব্যক্তির ন্যায় যাহার আহারে ইচ্ছা নাই এবং রুটি অপেক্ষা মাটিই তাহার নিকট অধিক ভাল লাগে। চিকিৎসা করাইয়া এমন রোগীর মাটিভক্ষণের ইচ্ছা বিদূরিত করত আহারে রুচি পুনরায় জন্মাইতে না পারিলে সে দুনিয়াতে বড় হতভাগ্য এবং সে ক্রমশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হইবে। এইরূপ, যে হৃদয়ে আল্লাহর মা'রিফাত অপেক্ষা অপর বস্তুর আগ্রহ অধিক সে হৃদয়ও পীড়াগ্রস্ত। এমন আত্মা দুর্ভাগা হইয়া পরকালে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইবে।
মা'রিফাতের অবিনশ্বর

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন