মানুষকে পশুর প্রকৃতি দিবার উদ্দেশ্য
তোমাকে চতুষ্পদ জন্তু ও হিংস্র প্রাণীর স্বভাব কেন দেওয়া হইয়াছে, এ কথা ভালরূপে বুঝিয়া না উঠা পর্যন্ত তুমি চিন্তা করিতে থাক। এ জন্য কি দেওয়া হইয়াছে যে, সেই সকল প্রবৃত্তি তোমাকে অধীন করিয়া দিবারাত্র বিনা মজুরীতে দাসত্বে নিযুক্ত রাখিবে ? বরং এইজন্য দেওয়া হইয়াছে যে, ইহাদিগকে তুমি সম্পূর্নরূপে বশীভূত করিয়া রাখিবে এবং পরকালের যে সফরে তুমি প্রবৃত্ত রহিয়াছ ইহার সহায়করূপে তোমার তাবেদার গোলাম বানাইয়া লইবে- একটিকে বাহন ও অপরটিকে হাতিয়ার বানাইবে এবং যতদিন তুমি গন্তব্যপথে অগ্রসর হইতে থাকিবে ততদিন ঐ সকল প্রবৃত্তিকে নিজ কর্মে নিযুক্ত রাখিয়া উহাদের সাহায্যে সৌভাগ্যের বীজ সংগ্রহ করিয়া লইবে। তুমি নিকৃষ্ট প্রবৃত্তিসমূহকে চড়িবার ঘোড়া বানাইয়া জানুদ্বয়ের মধ্যে দাবাইয়া রাখিয়া সৌভাগ্যের উন্নত স্থান লক্ষ্য করত ক্রমশঃ অগ্রসর হইতে থাকিবে। বুযুর্গগণ এই উন্নত স্থানকে "আল্লাহর সান্নিধ্য" বলিয়া থাকেন। এবং সাধারণ লোকে ইহাকে বেহেশত বলে। উপরে যাহা বলা হইল তাহা বুঝিতে পারিলে তুমি নিজের হাকীকত জানিতে পারিবে। যে ব্যক্তি এই সকল বিষয় বুঝিতে না পারে, ধর্ম-কর্ম তাহার নিকট বিরক্তিকর বলিয়া বোধ হয়। ধর্মের মূলতত্ব হইতে সে বহুদূরে পর্দার অন্তরালে পড়িয়া থাকে।
মানব সৃজনের দ্বিবিধ উপকরণ:

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন