আত্মা আল্লাহর সৃষ্ট এবং আলমে আমরের অন্তর্ভুক্ত। ইহার অধিক বলার অনুমতি নাই। আল্লাহ অন্যত্র বলেন “অবগত হও, সৃষ্টি ও হুকুম করার অধিকার একমাত্র তাঁহারই আছে।”আলমে খালক ও আলমে আমর দুইটি স্বতন্ত্র জগত। যে সলক বস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা এবং সংখ্যা আছে উহাকে আলমে খালক (জড়জগত) বলে। এই জন্য আরবী অভিধানে 'খালক' শব্দের অর্থ আন্দাজ বা পরিমাপ করা লিখিত আছে। আত্মার আকার বা পরিমাপ নাই এবং এইজন্যই ইহাকে ভাগ করা যায় না। আত্মা যদি ভাগ করার উপযুক্ত হইত তবে ইহার এক অংশে কোন পদার্থ সম্বন্ধে জ্ঞান থাকিত এবং অপর অংশ এই সম্বন্ধে অজ্ঞ থাকিত। তাহা হইলে আত্মা একই সময়ে একই বিষয়ে জ্ঞানী ও অজ্ঞ উভয়ই হইত। কিন্তু এরূপ হওয়া অসম্ভব। আত্মা বিভাজ্য নহে এবং ইহা পরিমাপেরও যোগ্য নহে; অথচ আত্মা সৃষ্ট পদার্থ - আল্লাহ ইহাকে সৃজন করিয়াছেন। 'খালক’ শব্দের অর্থ যেমন সৃজন করা দ্রুপ ইহার অপর অর্থ আন্দাজ বা পরিমাপ করা। প্রথম অর্থে আত্মা আলমে খালকের অন্তর্ভুক্ত এবং দ্বিতীয় অর্থে ইহা আলমে খালকের অন্তর্ভুক্ত নহে; বরং আলমে আমূরের অন্তর্গত। যে সকল বস্তুর আকার নাই, পরিমাণ নাই এবং বিভক্ত হইতে পারে না, তৎসমুদয় আলমে আমরের অন্তর্ভুক্ত।
আত্মা অনাদি নহে। যাঁহারা ইহাকে অনাদি বলিয়া মনে করেন তাহারা ভুল করিয়াছেন। আবার যাঁহারা আত্মাকে আরয বা গুণপদার্থ বলেন তাঁহারাও ভ্রমে পড়িয়াছেন। কারণ, গুণ পদার্থ স্বয়ং বিদ্যমান থাকিতে পারে না। গুণাধার পদার্থের আশ্রয়ে অবস্থান করে। আত্মা যখন মানুষের আসল জিনিস এবং সমস্ত দেহ ইহার অধীন তখন আত্মা কিরূপে গুণপদার্থ হইতে পারে। আবার যাঁহারা আত্মাকে সাকার বা শরীরী বস্তু বলেন তাঁহারা ভুল করিয়াছেন। কেননা, শরীরের অংশ হইতে পারে; কিন্তু আত্মা বিভক্ত হইতে পারে না।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন