রবিবার, ২১ মে, ২০২৩

বিবাহের ফযীলত:— (পর্ব– ১)



 বিবাহের ফযীলত:— (পর্ব– ১)

প্রকাশ থাকে যে, বিবাহ ধর্ম কাজে সহায়ক, শয়তানের চক্রান্ত থেকে আত্মরক্ষার সুদৃঢ় প্রাচীর এবং উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান উপায়। এই সংখ্যাবৃদ্ধির মাধ্যমে নবী করীম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) অন্যান্য পয়গম্বরের মোকাবিলায় গর্ব করবেন। এ দিক দিয়ে বিবাহের কারণাদি অনুসন্ধান, সুন্নতসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আদব সম্পর্কে আলোচনা খুবই সমীচীন। আমরা এর উদ্দেশ্য, প্রকার ও প্রয়োজনীয় বিধানাবলী তিনটি পরিচ্ছেদে বর্ণনা করছি। প্রথম পরিচ্ছেদে বিবাহের ফযীলত ও বিবাহের প্রতি বিমুখতা।
বিবাহের ফযীলত—
বিবাহের ফযীলত ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কেউ কেউ এর ফযীলত এমনি বর্ণনা করেন যে, বিবাহ করা আল্লাহর এবাদতের জন্যে নির্জনবাস অপেক্ষা উত্তম। কেউ ফযীলত স্বীকার করেন, কিন্তু নারী সহবাসের উদ্দীপনা না থাকলে এবাদতের জন্যে নির্জনবাসকে উত্তম বলেন। কেউ কেউ বলেন : আমাদের এ যুগে বিবাহ না করাই শ্রেয়ঃ। আগেকার যুগে এর ফযীলত ছিল। তখন মহিলাদের বদভ্যাস ছিল না। এখন বাস্তব সত্য কি, তা পক্ষ ও বিপক্ষের হাদীস বর্ণনা এবং বিবাহের উপকারিতা ও অপকারিতা ব্যাখ্যা করার পরই জানা যাবে। তাই আমরা এ পরিচ্ছেদটি চার ভাগে বিভক্ত করছি।
বিবাহের ফষীলত সম্পর্কিত আয়াত:—
> “তোমাদের বিধবাদেরকে বিবাহ দাও।” এখানে (বিবাহ দাও) ব্যবহৃত হয়েছে, যাতে বিবাহ ওয়াজিব বুঝা যায়।
> “স্বামীদেরকে বিয়ে করে নিতে তাদেরকে বাধা দিয়ো না”।
এখানে বিয়েতে বাধাদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পয়গম্বরগণের প্রশংসা ও গুণকীর্তনে এরশাদ হয়েছে :
> “আমি আপনার পূর্বে অনেক রসূল প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান সন্ততি দিয়েছি”।
একথা অনুগ্রহ ও কৃপা প্রকাশের স্থলে বলা হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা তাঁর ওলীগণের প্রশংসাও করছেন,
> “তারা তাঁর কাছে সন্তান সন্ততির জন্যে আবেদন করেন”। সেমতে বলা হয়েছে যারা বলে, পরওয়ারদেগার,
> “আমাদেরকে আমাদের স্ত্রী ও সস্তান-সন্ততির তরফ থেকে চক্ষুর শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে পরহেযগারদের অগ্রদূত করুন”।
বলা হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে সেই পয়গম্বরগণেরই উল্লেখ করেছেন, যারা সপত্নীক ছিলেন। হাঁ, দুজন পয়গম্বর হযরত ইয়াহইয়া ও হযরত ঈসা (আঃ) এর ব্যতিক্রম। তাঁদের মধ্যে ইয়াহইয়া (আঃ) সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি বিবাহ করেছিলেন; কিন্তু সহবাস করেননি। কেবল বিবাহের ফযীলত অর্জন ও বিবাহের পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে বিবাহ করেছিলেন। হযরত ঈসা (আঃ) যখন পুনরায় পৃথিবীতে আগমন করবেন, তখন বিবাহ করবেন এবং সন্তানাদিও হবে।

—————-
(পরবর্তী পর্ব– বিবাহের ফযীলত সম্পর্কিত হাদীস)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...