রবিবার, ২১ মে, ২০২৩

মহব্বত (পর্ব- ৩) মহব্বতের যোগ্য একমাত্র আল্লাহর সত্তা



মহব্বত (পর্ব- ৩)
এহইয়াউ উলুমিদ্দীন - ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

মহব্বতের যোগ্য একমাত্র আল্লাহর সত্তা 
এহইয়াউ উলুমিদ্দীন - ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

মহব্বতের উপরোক্ত পাঁচটি কারণ আল্লাহ তা'আলার সত্তা ছাড়া অন্য কারও মধ্যে একত্রে পাওয়া যাওয়া সম্ভব নয়। তাই বাস্তবে মহব্বতের যোগ্যও তাঁর সত্তা অন্য কেউ নয়। কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে মহব্বত করে এবং এ মহব্বতকে আল্লাহর সাথে কোনরূপে সংযুক্ত না করে, তবে এটা হবে মূর্খতা। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওআলিহী ওয়া-সাল্লাম))-এর মহব্বত উত্তম। কেননা, এটা হুবহু আল্লাহর মহব্বত। আলেম ও মুত্তাকী লোকদের মহব্বতও তদ্রূপ। কেননা, প্রেমাস্পদের প্রেমাস্পদও প্রেমাস্পদ হয়ে থাকে। সুতরাং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের মতে আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্য কেউ মাহবুব কিংবা মহব্বতের যোগ্য নয়। এর ব্যাখ্যার জন্যে আমরা উল্লিখিত পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে প্রমাণ করব, এগুলো সব আল্লাহ তা'আলার মধ্যেই একত্রে পাওয়া যায়, অন্য কারও মধ্যে একটি অথবা দু'টি পাওয়া যায় মাত্র এখন

আল্লাহ্ ই মহব্বতের যোগ্য কারণ– ১
প্রথম কারণ সম্পর্কে চিন্তা করুন–
মানুষ নিজের সত্তাকে মহব্বত করে এবং তার স্থায়িত্ব কামনা করে— ধ্বংস, নাস্তি ও ত্রুটি চায় না। এটা প্রত্যেক জীবিত মানুষের মজ্জাগত বিষয়। কেউ এ থেকে মুক্ত নয়। এটাই আল্লাহর মহব্বত দাবী করে। কেননা, যে ব্যক্তি নিজ সত্তা ও পালনকর্তাকে চেনে, সে নিশ্চিতরূপেই জানে, তার অস্তিত্ব তার নিজের পক্ষ থেকে নয়; বরং তার সত্তার অস্তিত্ব, স্থায়িত্ব ও পূর্ণতা আল্লাহর পক্ষ থেকে। তিনিই তার অস্তিত্বের স্রষ্টা এবং তিনিই পূর্ণতার গুণাবলী সৃষ্টি করে তাকে পূর্ণতা দান করেছেন। অন্যথায় মানুষ নিজ সত্তার দিক দিয়ে নিছক নাস্তি। আল্লাহ তা'আলা নিজ কৃপায় অস্তিত্ব দান না করলে এবং অস্তিত্বের পর তাঁর অনুগ্রহ সঙ্গে না থাকলে মানুষ নিঃসন্দেহে নাস্তনাবুদ হয়ে যাবে। অতএব পালনকর্তা, মারেফত অর্জনকারী ব্যক্তি যখন নিজের সত্তাকে মহব্বত করবে, তখন সে সত্তাকেও অবশ্যই মহব্বত করবে, যার দ্বারা তার সত্তা অস্তিত্ব লাভ করেছে। যদি সে সত্তাকে মহব্বত না করে, তবে সে নিজের সত্তা ও পালনকর্তা উভয়টি সম্পর্কেই অজ্ঞ। কেননা, মহব্বত মারেফত তথা চেনা ও জানার ফল। মারেফত না হলে মহব্বতও হবে না। মারেফত দুর্বল হলে মহব্বতও দুর্বল হবে এবং মারেফত শক্তিশালী হলে মহব্বতও শক্তিশালী হবে। এ কারণেই হযরত হাসান বসরী (রহঃ) বলেন : যে ব্যক্তি নিজের রবকে চিনবে, সে তাঁকে মহব্বত করবে এবং যে ব্যক্তি দুনিয়াকে চিনবে, সে তাঁর প্রতি অনাসক্ত হবে। একথা কল্পনাও করা যায় না যে, মানুষ নিজের সত্তাকে মহব্বত করবে, অথচ রবকে মহব্বত করবে না। কারণ, রবের মাধ্যমেই তার সত্তার প্রতিষ্ঠা।
যে ব্যক্তি প্রখর সূর্যকিরণে অতিষ্ঠ হয়ে ছায়াকে মহব্বত করে, সে বৃক্ষকেও মহব্বত করবে, যার মাধ্যমে ছায়া প্রতিষ্ঠা পায়। ছায়ার সাথে বৃক্ষের যে সম্পর্ক, প্রত্যেক বিদ্যমান বস্তুরও আল্লাহর সাথে সে সম্পর্ক।
আল্লাহ্ ই মহব্বতের যোগ্য কারণ– ২
দ্বিতীয় কারণ, এমন ব্যক্তিকে মহব্বত করা, যে টাকা-পয়সা ও কথার মাধ্যমে সাহায্য করে এবং শত্রুর শত্রুতা দূরীকরণে ও অনিষ্ট প্রতিহরণে সহায়তা করে। বলা বাহুল্য, এরূপ ব্যক্তি মহব্বতের পাত্র না হয়ে পারে না। এ কারণটি দাবী করে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে মহব্বত করা যাবে না। কেননা, বাস্তবে আল্লাহ তা'আলাই অনুগ্রহকারী। কোন ব্যক্তি যদি তোমাকে তার সমস্ত ধন-ভাণ্ডার দিয়ে দেয় এবং যেভাবে ইচ্ছা ব্যয় করার অধিকার প্রদান করে, তবে তুমি ধারণা করবে, এটা এই ব্যক্তির তরফ থেকে তোমার প্রতি অনুগ্রহ। অথচ এটা ভ্রান্ত। কেননা, এ অনুগ্রহের পেছনে কয়েকটি বিষয় রয়েছে। এক, স্বয়ং অনুগ্রহকারীর অস্তিত্ব। দুই, তার ধন-সম্পদ থাকা। তিন, ধনের উপর তার অধিকার থাকা। চার, বিশেষভাবে তোমাকে দেয়ার তার ইচ্ছা। এখন প্রশ্ন, এই অনুগ্রহকারীকে কে সৃষ্টি করেছে? তার ধন-সম্পদ কে সৃষ্টি করেছে? তার ক্ষমতা ও ইচ্ছার সৃষ্টিকর্তা কে? তার মনে এ প্রেরণা কে সৃষ্টি করেছে যে, ‘তোমাকে দান করার মধ্যে তার কোন পার্থিব অথবা পারলৌকিক উপকার আছে? এক কথায়, সব প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, আল্লাহ্ তা'আলাই সব সৃষ্টি করেছেন। তিনিই তার অন্তরে এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছেন যে, তোমাকে দান করার মধ্যেই তার ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ নিহিত। সুতরাং সে তোমাকে দান করতে বাধ্য এবং এর বিপরীত করতেই পারে না। সুতরাং সে সত্তাই প্রকৃত অনুগ্রহকারী যিনি তাকে তোমার জন্যে বাধ্য করেছেন। হাঁ, ধন-ভাণ্ডার সে ব্যক্তির অধিকারে থাকাটা অবশ্য ইঙ্গিত দেয় যে, সম্ভবত অনুগ্রহকারী সে-ই। এ সম্পর্কে জানা দরকার, ব্যক্তি দান করে আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহের মাধ্যম হয় মাত্র। অর্থাৎ, তোমাকে দেয়ার জন্যেই আল্লাহ তাকে ধন-ভাণ্ডার দিয়েছেন। সুতরাং সে না দিয়ে কি করবে? সে তো পয়ঃপ্রণালীর অনুরূপ। পয়ঃপ্রণালী নিজের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করতে বাধ্য। এ ছাড়া মানুষ যখন অনুগ্রহ করে, তখন নিজের প্রতিই অনুগ্রহ করে। অন্য কোন সৃষ্টির প্রতি তার অনুগ্রহ করা অসম্ভব। কারণ, মানুষ যখন দান করে, তখন তার বিনিময় পূর্বেই আন্দাজ করে নেয়- আখেরাতে সওয়াবের আকারে অথবা দুনিয়াতে দানশীলতার সুখ্যাতি অর্জন করা কিংবা অপরের মন জয় করে তাকে অনুগত ও বশীভূত করা ইত্যাদি। মানুষ কখনও তার ধন-সম্পদ পানিতে ফেলে দেয় না। কারণ, এতে কোন লাভ নেই। এমনিভাবে সে তার অর্থ-কড়ি অন্যের হাতে বিনা লাভেই তুলে দেয় না। তোমাকে যখন সে ধন দেয়, তখন তার উদ্দেশ্য তুমি নও; বরং তুমি তার অর্থ গ্রহণ করে তার উদ্দেশ্য হাসিলের ওসিলা হও মাত্র। অতএব, সে অনুগ্রহ তোমার প্রতি নয়— নিজের প্রতিই করে। তোমাকে দান করে সে বিনিময়ে যা পাবে, সেটা যদি তার কাছে প্রধান ও অগ্রগণ্য না হত, তবে সে কখনও তোমার হাতে ধন তুলে দিত না। অতএব, মহব্বত ও শোকরের যোগ্য সে নয়।

আল্লাহ্-ই মহব্বতের যোগ্য কারণ- ৩
তৃতীয় কারণ অর্থাৎ, কোন ব্যক্তিসত্তাকে অনুগ্রহ না পেয়েও মহব্বত করা। এটাও মানুষের স্বভাবে নিহিত। উদাহরণতঃ এক বাদশাহ সম্পর্কে খবর পাওয়া গেল, সে এবাদতকারী, ন্যায়পরায়ণ, প্রজাহিতৈষী ও বিনম্র স্বভাব বিশিষ্ট। অপরদিকে অন্য এক বাদশাহ সম্পর্কে সংবাদ পাওয়া গেল, সে অত্যাচারী, অহংকারী, পাপাচারী এবং প্রজার অধিকার খর্বকারী। তুমি উভয় বাদশাহ থেকে এতদূরে অবস্থান করছ যে, তাদের কোন অনুগ্রহ অথবা যুলুম তোমা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। এতদসত্ত্বেও তুমি প্রথম বাদশাহকে মহব্বত এবং দ্বিতীয় বাদশাহকে ঘৃণা করবে। তোমার এই মহব্বতও আল্লাহ তা'আলার মহব্বত দাবী করে, এমনকি চায়, তুমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে মহব্বত না কর। কেননা, সর্বস্তরের মানুষের প্রতি অনুগ্রহ ও কৃপাকারী তিনিই। তিনিই প্রথমে বাদশাহকে সৃষ্টি করে তাকে প্রয়োজনীয় সাজ-সরঞ্জাম সরবরাহ করেছেন।
আল্লাহ্-ই মহব্বতের যোগ্য কাণ– ৪
চতুর্থ কারণ অর্থাৎ , সৌন্দর্যশালীকে মহব্বত করা। এখানে মহব্বতকারী সৌন্দর্য ছাড়া অন্য কোন উপকারের ভিত্তিতে মহব্বত করে না। এটাও মানুষের স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। সৌন্দর্য দু’প্রকার । এক, বাহ্যিক, যা চর্মচক্ষে দেখা যায় । দুই, অভ্যন্তরীণ, যা অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা অনুভব করা যায়। সৌন্দর্য মাত্রই অনুভবকারীর কাছে প্রিয়। যদি অন্তর্দৃষ্টির দ্বারা অনুভব করা হয়, তবে মহব্বত আন্তরিক হবে । যেমন, পয়গম্বর, ওলী ও সচ্চরিত্রবানদের মহব্বত। এক্ষেত্রে মহব্বত হয়; কিন্তু এই মাহবুবদের মুখমণ্ডল দৃষ্টির অন্তরালে থাকে। তবে অভ্যন্তরীণ মুখমণ্ডল অর্থাৎ, তাদের গুণাবলী দৃষ্টির সামনে থাকে। উদাহরণতঃ কেউ রসূল অথবা সিদ্দীকে আকবর অথবা ইমাম শাফেঈকে মহব্বত করলে এর কারণ হবে, তাঁদের গুণাবলী তথা জ্ঞান-গরিমা তাকে মুগ্ধ করেছে। অথচ তাঁদের গুণাবলী আল্লাহ তা'আলার গুণাবলীর সামনে অসম্পূর্ণ। অতএব, আল্লাহর গুণাবলীর কারণে মহব্বত আরও বেশী হবে।
আল্লাহ্-ই মহব্বতের যোগ্য কারণ- ৫
পঞ্চম কারণ অর্থাৎ, পারস্পরিক মিল হওয়া। মহব্বতের মধ্যে এরও দখল রয়েছে। কেননা, যে বস্তু যে বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যশীল, সে সেদিকেই আকৃষ্ট হয়। এ কারণেই ছোটরা ছোটদেরকে এবং বড়রা বড়দেরকে মহব্বত করে। মিল কখনও বাহ্যিক বিষয়ের হয়ে থাকে। যেমন, ছোটদের মিল ছোটদের সাথে। আবার কখনও গোপন বিষয়ে হয়ে থাকে, যা অন্যেরা জানে না । যেমন, ঘটনাক্রমে দু’ব্যক্তির মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়, অথচ তার পূর্বে কখনও একে অপরকে দেখে না এবং তাদের মধ্যে স্বার্থের কোন আদান-প্রদান থাকে না। এ গোপন মিলও মানুষ এবং আল্লাহ তাআলার মধ্যে মহব্বত দাবী করে। কেননা, আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে এমন অভ্যন্তরীণ বিষয়সমূহে মিল রয়েছে, যার কিছু অংশ পুস্তকে লিপিবদ্ধ করা যায় এবং কিছু লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়; বরং সেগুলো যবনিকার অন্তরালে গোপন থাকতে দেয়াই সমীচীন, যাতে সাধকরা সাধনায় সিদ্ধিলাভের পর নিজেরাই জেনে নেয়। যে মিল লিপিবদ্ধ করার যোগ্য, তা হচ্ছে যেসব গুণ অনুসরণ করার আদেশ আল্লাহ তা'আলা দিয়েছেন, সেগুলোতে তাঁর নিকটবর্তী হওয়া। আল্লাহ পাক এরশাদ করেছেন : “তোমরা আল্লাহর চরিত্রে চরিত্রবান হয়ে যাও”। অর্থাৎ, জ্ঞান-গরিমা, সহনশীলতা, অনুগ্রহ, কৃপা, অপরের কুল্যাণ সাধন, জীবে দয়া, অপরের হিতাকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি খোদায়ী গুণসমূহ অর্জন কর। কেননা, এগুলোর প্রত্যেকটি গুণ মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে। পক্ষান্তরে যে মিল পুস্তকে লেখা যায় না, তা এমন বিশেষ মিল, যা কেবল মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় — ফেরেশতাদের মধ্যে নয়। এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে এই আয়াতে— “তারা আপনাকে রূহ্ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বলে দিন — রূহ্ আমার পালনকর্তার আদেশের অংশ।” এতে বলা হয়েছে যে, রূহ মানুষের
জ্ঞান-বুদ্ধির সীমার বাইরে। নিম্নোক্ত আয়াতে আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে : “অতঃপর আমি যখন তাকে সুগঠিত করব এবং তার মধ্যে আমার রূহ্ ফুঁকে দেব”) বলা বাহুল্, এই গোপন মিলের কারণেই আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিলেন আদমকে সেজদা করতে। এই মিলের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে এ আয়াতে : “হে আদম, আমি আপনাকে পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি করেছি”।
বলা বাহুল্য, মানুষ কেবল এ মিলের কারণেই আল্লাহ তা'আলার প্রতিনিধিত্ব করার অধিকারী হয়েছে। নিম্নোক্ত হাদীসেও এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে : “আল্লাহ আদম (আঃ)-কে নিজের আকৃতিতে সৃজন করেছেন।” এ থেকে কোন কোন স্বল্প- জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি আল্লাহর জন্যে দেহ ও আকৃতি গড়ে নিয়েছেন (নাউযুবিল্লাহ)। নিম্নোক্ত হাদীসে কুদসীতেও এই মিলের প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আল্লাহ পাক হযরত মূসা (আঃ)-কে বললেন : আমি অসুস্থ হয়েছি, তুমি আমার কুশল জিজ্ঞাসা করনি। হযরত মূসা (আঃ) আরয করলেন : ইলাহী, এটা কিরূপে সম্ভব? উত্তর হল : আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল। তুমি তার অবস্থা জিজ্ঞাসা করনি। তুমি যদি তার অবস্থা জিজ্ঞাসা করতে, তবে আমাকে তার কাছে পেতে। বলা বাহুল্য, আল্লাহ ও মানুষের মধ্যকার এই মিল তখন প্রকাশ পায়, যখন মানুষ ফরয কর্মসমূহ পালন করার পর নফল এবাদতে মশগুল হয়। যেমন, অন্য একটি হাদীসে কুদসীতে বলা হয়েছে : “বান্দা সর্বদা নফল এবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। অবশেষে আমি তাকে মহব্বত করি। যখন মহব্বত করি, তখন তার কান হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে শুনে, তার চোখ হয়ে যাই, যার দ্বারা সে দেখে এবং তাঁর জিহ্বা হয়ে যাই, যাতে সে কথা বলে।” মোটকথা, মিল ও মহব্বতের একটি বড় কারণ, যা অধিক শক্তিশালী, উৎকৃষ্ট ও অচিন্তনীয়। এর অস্তিত্ব খুবই বিরল। মহব্বতের উপরোক্ত পাঁচটি কারণই আল্লাহ তা'আলার মধ্যে আক্ষরিক অর্থে একত্রিত রয়েছে এবং সবগুলো উচ্চস্তরে রয়েছে। এমতাবস্থায় অন্তর্দৃষ্টি বিশিষ্ট মনীষীগণের মতে একমাত্র আল্লাহর মহব্বতই গ্রহণযোগ্য হতে পারে। মানুষের মধ্যে কোন ব্যক্তি যদি এগুলোর মধ্য থেকে কোন এক কারণে মাহবুব হয়, তবে অন্য ব্যক্তিরও সে কারণে মাহবুব হওয়া সম্ভব। এটা অংশীদারিত্ব, যা মহব্বতের ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণতার প্রমাণ। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার সাথে তাঁর চূড়ান্ত প্রতাপ ও সৌন্দর্যের গুণাবলীতে কোন শরীক বর্তমানেও নেই, ভবিষ্যতেও সম্ভব নয়। সুতরাং প্রমাণিত হল যে, আসল মহব্বতের হকদার সেই সত্তা, যাতে কখনও অপরের অংশীদারিত্ব নেই।
============
(পরবর্তী পর্ব– খোদায়ী মহব্বত শক্তিশালী হওয়ার উপায়)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...