বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন, ২০২৩

স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য – ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

 স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য 



স্বামীর উপর স্ত্রীর প্রচুর হক ও অধিকার রয়েছে। স্বামী স্ত্রীর প্রতি সদা সদয় ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার করবে। স্ত্রীর কোন আচরণ অপছন্দ হলে ছবর ও ধৈর্য ধারণ করবে; কারণ বুদ্ধি-বিবেকের দিক থেকে তারা অপূর্ণ। আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন  : 

“আর তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন কর”। (নিসা : ১৯

আল্লাহ্ তা'আলা স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার ও হক আদায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে ইরশাদ করেন : 

“আর এই নারীগণ তোমাদের নিকট হতে এক দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে রেখেছে”। (নিসা  : ২১) 

আরও ইরশাদ করেছেন  

“(তোমরা সদ্ব্যবহার কর ) সহচরদের সাথেও”। ( নিসা : ৩৬

এক ব্যাখ্যা অনুযায়ী ‘সহচরদের’ দ্বারা স্ত্রীদেরকে বুঝানো হয়েছে।


হুযূর আকরাম (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) দুনিয়া যাপনের  অন্তিম সময় যখন তাঁর জবান মুবারক আড়ষ্ট ও আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে আসছিল তখন ওসীয়ত করেছিলেন  : “নামায, নামায । তোমাদের অধীনস্থ দাস-দাসীকে তাদের শক্তি-সামর্থের বাইরে কখনও বোঝা চাপিয়ো না। স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার ও তাদের হক আদায়ের বিষয়ে আল্লাহ্‌কে ভয় কর; তারা বস্তুতঃ তোমাদের হাতে বন্দী”।


স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করার বিশেষ তাৎপর্য হচ্ছে, আল্লাহর বিধান ও আমানতের অধীনে তাদেরকে গ্রহণ করা হয়েছে এবং আল্লাহর দেওয়া বাক্যের মাধ্যমেই তাদের গোপনাঙ্গ তোমাদের জন্য হালাল হয়েছে। 

হুযূর আকরাম (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আরও ইরশাদ করেছেনঃ “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর কষ্টদায়ক আচরণে ধৈর্য ধারণ করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে মুসীবতের উপর হযরত আইয়ূব আলাইহিস্ সালামের ছবর-সমতুল্য সওয়াব দান করবেন। আর যে স্ত্রীলোক তার স্বামীর অসদাচরণে ধৈর্যধারণ করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ফেরাউনের স্ত্রী হযরত আছিয়ার সমতুল্য সওয়াব দান করবেন”। 


মনে রেখো- স্ত্রীকে শুধু কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার নাম স্ত্রীর সাথে সদ্ব্যবহার ও তার হক আদায় নয়; বরং প্রকৃত হক আদায় ও সদ্ব্যবহার হচ্ছে, স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনরূপ অসদ্ব্যবহার ও কষ্ট প্রদান হলে তাতে ধৈর্যধারণ করা, সে ক্রোধান্বিত হলে বা উত্তেজিত হলে তা অম্লান বদনে সয়ে নেওয়া। এ ব্যাপারে হযরত নবী করীম (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার আদর্শের অনুকরণ করা চাই। তাঁর বিবিগণ কখনও তাঁর সাথে তর্ক করতেন কিংবা তাদের কেউ তাঁর থেকে পৃথক একাকীত্বেও রাত্রি যাপন করেছেন । 


একদা হযরত উমর (রঃ)-এর স্ত্রী তাঁর সাথে তর্কে লিপ্ত হলে তিনি যখন বললেন- কিহে ! তুমি আমার সাথে তর্ক করছো ? হযরত উমরের স্ত্রী বললেন  : রাসূলুল্লাহ্ ( সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার বিবিগণ যে ক্ষেত্রে তাঁর সাথে তর্ক করেন; অথচ তিনি আপনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আমি কেন অপরাধী হবো? হযরত উমর (রঃ) বল্‌লেন  : বড় দুর্ভাগ্য হবে হাবসা যদি সে হুযূরের সাথে তর্ক করে থাকে। অতঃপর তিনি (আপন কন্যা) হযরত হাবসাকে বল্‌লেন  : “আবূ কুহাফার পুত্র আবূ বকরের কন্যার (আয়েশার) প্রতি তোমার অন্তরে যেন কোনরূপ হিংসার উদ্রেক না হয়। মনে রেখো- সে রাসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর পরম প্রিয় ও ভালবাসার পাত্র- এমনিভাবে তিনি হযরত হাবসাকে রাসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে তর্কের বিষয়ে সতর্ক করে আরও উপদেশ দিয়েছেন। 


বর্ণিত আছে, একদা হুযূরের কোন স্ত্রী তাঁর বুকে জোরে হাত মেরে ধাক্কার ন্যায় দিয়েছিলেন। এ জন্যে স্ত্রীর মাতা তাকে শাসন করে ধমক দিচ্ছিলেন। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বল্‌লেন  :  তাকে ছেড়ে দিন তারা তো আমার সাথে এর চেয়ে আরও অধিক করে থাকে। 

একদা হযরত আয়েশা (রঃ) এবং হুযূর আকরাম (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর মাঝে বাদানুবাদ হয়। তাঁরা দু'জনেই হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রঃ)–কে মধ্যস্থ (সালিস-বিচারক) সাব্যস্ত করে তাঁকে খবর দিলে তিনি উপস্থিত হলেন। হুযূর বলেন  : হে আয়েশা ! তুমি আগে বলবে না আমি আগে বলবো ? হযরত আয়েশা বলেন  : আপনিই আগে বলুন এবং দেখুন : সত্য ছাড়া কিছু বলবেন না। এ কথা শুনে হযরত আবূ বকর (রঃ) ক্রোধান্বিত হয়ে তাকে পদাঘাত করলেন, ফলে তাঁর মুখ থেকে রক্ত বের হয়ে এল। আর বললেন  : ওহে নিজের দুশমন ! রাসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কি কখনও অসত্য বলতে পারেন ? হযরত আয়েশা (রঃ) ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরই আশ্রয় নিলেন এবং তাঁর পিছন পার্শ্বে গিয়ে বসে রইলেন। তখন হুযূর আকরাম (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বল্‌লেন  : হে আবূ বকর ! তোমাকে আমরা এই কাজ করার জন্য ডাকি নাই এবং এটা আমার পছন্দও নয়। 


একদা হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রঃ) রাগ হয়ে কথার ভিতর বলে ফেলেছেন  : আপনি তো মনে করেন যে, খুব আল্লাহর নবী হয়ে গেছেন। এ কথা শুনেই তিনি (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) হেসে দিলেন। এ ছিল তাঁর স্ত্রীর সাথে সুন্দর সদ্ব্যবহার ও উন্নত চরিত্রের আদর্শ। ( এ সব ক্ষেত্রে নুবুওয়তের শানে বে-আদবী, অস্বীকৃতি, কিংবা অন্য কোন ধরণের প্রশ্নই উঠে না; এ ছিল তাদের মধ্যকার অম্ল-মধুর সম্পর্কের অভিব্যক্তি, খাঁটী ঈমানদারের জন্য তা উপলব্ধি করা মোটেই কঠিন কিছু নয়। হুযূর আকরাম (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) হযরত আয়েশা (রঃ) কে বল্‌তেন  :  আমি তোমার সন্তোষ কি ক্রোধের অবস্থা পূবাহ্নেই আঁচ করতে পারি। হযরত আয়েশা আরজ করলেন; আপনি কিরূপে তা বুঝতে পারেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! তিনি বললেনঃ তুমি যখন খুশী থাক, তখন কথা বলতে গিয়ে বল  : না, মুহাম্মদের প্রভুর কসম, আর যখন রাগান্বিত থাক তখন বল  : না ,ইব্রাহীমের প্রভুর কসম। হযরত আয়েশা (রঃ) বলেন  : ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! তখন আমি কেবল আপনার নামটাই উচ্চারণ করি না। (কিন্তু আপনার মহব্বত ও প্রেম-ভক্তি আমার অন্তঃকরণে গেঁথে থাকে) হুযূর আকরাম (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর অন্তরে তাঁর বিবিগণের মধ্যে প্রথম হযরত আয়েশার মহব্বতই হয়েছে। তিনি বলতেন  ; “হে আয়েশা ! আবূ যরা’ তার স্ত্রীর জন্য যেমন ছিল, আমিও তোমার পক্ষে তদ্রূপ । তবে আমি তোমাকে তালাক দিবো না”। 

হুযূর আলাইহিস্ সালাম তাঁর অন্যান্য বিবিগণকে বলতেন  : তোমরা আয়েশার ব্যাপারে আমাকে কোনরূপ কষ্ট দিও না; কেননা, আল্লাহর কসম তোমাদের মধ্যে একমাত্র তাঁরই সাথে শয্যাগ্রহণ অবস্থায় আমার প্রতি ওহী নাযিল হয়েছে। (সুতরাং তাঁর মর্তবা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট খুবই উঁচু) 


হযরত আনাস (রঃ) বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) স্ত্রীলোকদের প্রতি এবং ছোটদের প্রতি সকল মানুষ অপেক্ষা দয়ার্দ্রচিত্ত ছিলেন” ।রাসূলুল্লাহ্ (সসল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বিবিগণের সাথে নেহাৎ সরল-সহজ ও সাদাসিধা আচার-আচরণে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি তাঁদের সাথে কথা, কার্যে ও চরিত্রে উদার নীতি অবলম্বন করে চলতেন। তিনি তাদের সাথে কৌতুক-আনন্দও করতেন। একদা তিনি হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রঃ)-এর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলেন। এতে হযরত আয়েশা (রঃ) অগ্রগামী হয়ে যান। পরবর্তী সময়ে পুনরায় একবার যখন প্রতিযোগিতা হয়, তখন তিনি অগ্রসর হয়ে গেলেন। এবার তিনি বলেন  : দেখ হে আয়েশা ! আমি কিন্তু পূর্বেরটা শোধ করে দিলাম। বিবিদের মনে আনন্দ আনয়নের জন্য তিনি এরূপ করতেন। 

বর্ণিত আছে, তিনি আপন স্ত্রীদের সাথে সর্বজন অপেক্ষা কৌতুকী ছিলেন। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রঃ) বর্ণনা করেন যে, হাবাশার কিছু লোক আশূরার দিনে খেলা-ধূলা করছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বল্‌লেন  : তুমি কি এদের খেলা-ধূলা দেখবে? আমি সম্মতিসূচক উত্তর দিলে তিনি তাদেরকে ডেকে পাঠালেন। দরজায় দাঁড়িয়ে দু’দিকে দু’হাত দরাজ করে তা ধরে রাখলেন। আমি তাঁর এক হাতের উপর চিবুক রেখে তাদের খেলা দেখছিলাম। কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন  : বস্ বস্, এখন শেষ কর। আমি বল্লাম - না, আরও কিছুক্ষণ দেখবো। এভাবে কিছুক্ষণ পর পর দু'তিনবার তিনি আমাকে ক্ষান্ত করতে বলেন। অবশেষে আরও একবার যখন বলেন, তখন আমি ক্ষান্ত করলে তিনি তাদেরকে যেতে বললেন; তারা চলে গেল। 


হযরত রাসূলে আকরাম (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন সমস্ত মু'মিনদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা পূর্ণ ঈমানের অধিকারী, সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী এবং আপন স্ত্রীদের সাথে সর্বাপেক্ষা অমায়িক ও বিনম্র স্বভাবের অধিকারী। তিনি বলেছেন  : “তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট তারা যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহারে উৎকৃষ্ট। আমি আমার স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহারে তোমাদের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট”। 

হযরত উমর (রঃ) কঠিন হওয়া সত্ত্বেও বল্‌ছেন  : তোমরা নিজ গৃহে স্ত্রীদের সাথে শিশুসুলভ মন নিয়ে থাক; পুরুষোচিত যোগ্যতার যেখানে প্রয়োজন সেখানে তা দেখাবে”। 

হযরত লুকমান (রহঃ) বলেন  ; “বুদ্ধিমানের উচিত সে যেন ঘরের পরিবেশে বাচ্চার মত থাকে, আর সমাজে পুরুষের ন্যায় থাকে” ।হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, “আল্লাহ্ তা'আলা রুক্ষ স্বভাবসম্পন্ন পাষাণ হৃদয় লোককে পছন্দ করেন না”। এর অর্থ হচ্ছে, যারা আপন স্ত্রীদের সাথে এরূপ স্বভাবের আচরণ করে এবং মনের দিক থেকে দাম্ভিক ও অহংকারী হয়। কুরআনে ব্যবহৃত- (উতুল) শব্দের মর্মও তাই, অর্থাৎ স্ত্রীদের সাথে রুক্ষ আচরণকারী। 

হযরত জাবের (রঃ) জনৈকা বিধবা স্ত্রীলোককে বিবাহ করলে পর রাসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)  তাঁকে বলেছেন “তুমি কুমারী কন্যা বিবাহ করলে না কেন ? তুমি তার সাথে কৌতুক করতে এবং সেও তোমার সাথে কৌতুক করতো”।

এক বেদুঈন মরুচারীনি স্ত্রীলোক স্বামীর মৃত্যুর পর তার প্রশংসা করে বলছিল  : “গৃহে প্রবেশ করার পর তিনি সদা হাস্যমুখ থাকতেন আর বাইরে সমাজে তিনি থাকতেন স্বল্পভাষী ও গাম্ভীর্যের অধিকারী। ঘরে যৎকিঞ্চিৎ যা–ই পেতেন খেয়ে নিতেন, ঘরের কোন বস্তু হারিয়ে গেলে তেমন কোন যোগ-জিজ্ঞাসা করতেন না। 

”স্ত্রীর প্রতি সদ্ব্যবহার ও শিষ্টাচারের মধ্যে এটিও একটি যে, খোলা মেলা, সরলতা ও বিনম্র স্বভাবের আতিশয্যে তাদের বাসনা পূরণে সীমা লংঘন না করা চাই, যার ফলে তাদের নৈতিক চরিত্র বিনষ্ট হয়ে যায় এবং তোমার প্রতি ভক্তি-প্রযুক্ত ভয় দূর হয়ে যায়। বরং ন্যায়-পরায়ণ ও মধ্যপন্থী থাকা চাই এবং ভক্তি-শ্রদ্ধা কায়েম থাকে- এরূপ আচরণ করা চাই। যদি তাদের থেকে শরীয়তের খেলাফ বা ইসলামী রীতি-নীতি বিরোধী কার্যকলাপ সংঘটিত হয়, তবে সাথে সাথে প্রতিবাদ ও শাসন করা চাই। 


হযরত হাসান (রঃ) বলেনঃ “আল্লাহর কসম, সর্ববিষয়ে যে ব্যক্তি স্ত্রীর কামনা-বাসনার পায়রবী করে, পরিণামে সে দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে”। 

হযরত উমর (রঃ) বলেনঃ “অনেক সময় স্ত্রীদের কথা বা পরামর্শের বিপরীত করার মধ্যেই কল্যাণ নিহিত থাকে”। 

জনৈক জ্ঞান-তাপসের উক্তি হচ্ছে, স্ত্রীদের সাথে তোমরা পরামর্শ কর, আবার (অনেক ক্ষেত্রে) পরামর্শের বিপরীতও কর”। 

হুযূর আকরাম (সল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ “স্ত্রী বশীভূত পুরুষ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়”। এর কারণ হচ্ছে, ক্রমান্বয়ে সে তার দাসে পরিণত হয়; অবশেষে স্ত্রীর আজ্ঞাবহ হয়ে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে ধ্বংসের গহ্বরে গিয়ে পড়ে। অথচ আল্লাহ্ তা'আলা পুরুষকে নারীর কর্তা বানিয়েছেন; কিন্তু সে তা উল্টিয়ে দেয়। ফলে, সে শয়তানের অনুসারী হয়, যেমন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে  : “(শয়তান বলে) আমি তাদেরকে আরও শিক্ষা দিবো, যেন তারা আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতিকে বিকৃত করে দেয়”। ( নিসা ১১৮ ) পুরুষের উচিত ছিল, সে কর্তা হয়ে থাকবে, না অধীন। আল্লাহ্ পাক পুরুষদের সম্বন্ধে বলেছেন  : “পুরুষগণ নারীদের শাসনকর্তা”। ( নিসা : ৩৪

আল্লাহ্ তা'আলা সূরা ইউসুফে স্বামীকে ‘সর্দার’ বলে অভিহিত করেছেন, ইরশাদ হয়েছে : “এবং উভয়ে সেই রমনীর সর্দার (স্বামী)-কে দরজার নিকট দাঁড়ানো অবস্থায় পেল”। (ইউসুফ  : ২৫

ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেছেন  ; “তিনটি শ্রেণী এমন রয়েছে যদি তাদের সম্মান কর, তবে তারা তোমাকে হেয় করবে (১) স্ত্রী, (২) খাদেম (চাকর), (৩) ঘোড়া”। 

এ উক্তির দ্বারা হযরত ইমামের উদ্দেশ্য হলো, যদি কেবল সম্মান আর সদয় ব্যবহারই করা হয়, সেইসাথে সময় সময় প্রয়োজনে কোনরূপ প্রতিবাদ ও শাসন না করা হয়, তবে পরিণতি এরূপই দাড়ায়।



স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...