বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন, ২০২৩

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য – ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)



 স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য
📚আত্মার আলোকমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

এ সম্পর্কিত মৌলিক ও সারকথা এই যে, বিবাহ-বন্ধন প্রকৃতপক্ষে দাসত্ব-অধীনতারই একটি প্রকার। বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর স্ত্রী স্বামীর জন্যে এক প্রকার আজ্ঞাবহ দাসীরূপ হয়ে যায়। তখন তার কর্তব্য হয়— স্বামীর অভীপ্সিত প্রতি কাজে আনুগত্য করা। তবে শর্ত এই যে, তা কোনরূপ আল্লাহর অবাধ্যতা ও পাপকার্য না হওয়া চাই। স্বামীর আনুগত্যে স্ত্রীর কর্তব্য ও দায়িত্ব— এ সম্পর্কিত প্রচুর রেওয়ায়াত হাদীসগ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন  : “যে স্ত্রীলোক তার স্বামীকে খুশী রেখে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে”। 

এক ব্যক্তি সফরে (প্রবাসে) গমনকালে তার স্ত্রীর কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিল যে, সে তার অনুপস্থিতির সময় কালে উপর (তলা) থেকে নীচে অবতরণ করবে না। নীচে স্ত্রীর পিতা অবস্থান করতেন। একদা তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। নীচে নেমে পিতাকে দেখা ও সেবা-শুশ্রূষার জন্য অনুমতি চেয়ে স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার  নিকট লোক পাঠালো। তিনি বললেন  : তাকে বল, সে যেন স্বামীর অনুগতই থাকে। এরপর পিতা মারা যান। পুনরায় অনুমতি চেয়ে লোক পাঠালে হুযূর বললেন  : তাকে বল, সে যেন স্বামীর অনুগতই থাকে। অতঃপর পিতার দাফনকার্য সম্পন্ন হলে রাসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) স্ত্রীর নিকট পয়গাম পাঠালেন যে, “স্বামীর আনুগত্যের কারণে আল্লাহ্ তা'আলা তোমার পিতাকে মাফ করে দিয়েছেন”। (বিধানটি স্বতন্ত্র ; কেননা ক্ষেত্রবিশেষে এ হুকুমের তারতম্যও হতে পারে।) 

হুযূর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন  : “যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, রমযানের রোযা রাখে, আপন সতীত্ব রক্ষা করে এবং স্বামীর বাধ্য থাকে, সে তার প্রভুর জান্নাতে প্রবেশ করবে”।

প্রণিধানযোগ্য যে, এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) স্বামীর বাধ্যতার বিষয়টিকে ইসলামের বুনিয়াদী বিষয়াবলীর সাথে উল্লেখ করে তৎপ্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।


হুযূর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) স্ত্রীলোকদের প্রসঙ্গে বলেছেন  : “গর্ভধারীনি স্ত্রীলোক, সন্তানের মা, সন্তানকে দুধ পান করানোর কষ্ট স্বীকারকারীনি, সস্তানের প্রতি দয়া ও স্নেহ প্রদর্শনকারীনি- এরা যদি স্বামীর প্রতি অবাধ্যতার আচরণ না করে, যা সাধারণতঃ করে থাকে, তাহলে তাদের মধ্যে নিয়মিত নামাযী মহিলারা অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে”। 

হুযুর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন  : “আমি জাহান্নামে দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছি; দেখি- সেখানের অধিকাংশ অধিবাসী নারী সমাজ। তারা জিজ্ঞাসা করলো কেন এমন হবে ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি বললেনঃ তারা অতি মাত্রায় অভিশাপ বর্ষণ করে এবং স্বামীদের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে”।

অন্য এক রেওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)  ইরশাদ করেন  : “আমি জান্নাতে দৃষ্টিপাত করেছি; দেখি- নারী সমাজ সেখানে খুবই কম । (বর্ণনাকারী বলেন ) আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এর কারণ কি ? তিনি বললেন স্বর্ণ ও যাফরান (রঙ্গিন পোষাক) এ দুই লালের আকর্ষণ ও মোহ তাদেরকে বিমুখ করে রেখেছে”।  হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রঃ) বলেন  : একজন যুবতী মেয়েলোক রাসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করলো  : “ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আমার এখন উঠতি বয়স বিয়ের জন্যে আমার পয়গাম আসছে; কিন্তু আমি বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনকে অপছন্দ করছি। আপনি বলুন ; স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য কি রয়েছে? তিনি বললেনঃ আপাদমস্তক স্বামীর শরীর পীড়িত হয়ে যদি পুঁজে ভরে যায় আর স্ত্রী তার সেবা-শুশ্রুষায় আপন জিহ্বা দ্বারা লেহন করে, তবু তার কৃতজ্ঞতা আদায় হবে না। মেয়েলোকটি বললো  : তাহলে কি আমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবো না? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম বললেননা, তুমি বিবাহ বস; কারণ এতেই মঙ্গল নিহিত রয়েছে।


হযরত ইবনে আব্বাস (রঃ) বর্ণনা করেন যে, খাস্আম গোত্রের এক মহিলা হুযুর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করলো : ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আমি একজন বিধবা স্ত্রীলোক; আমার বিবাহ বসার ইচ্ছা আছে, আপনি বলুন- স্বামীর হক কি? তিনি বললেন : “স্ত্রীর ঊপর স্বামীর হক হচ্ছে, সে যখন তার স্ত্রীকে শয্যায় আহ্বান করে, তখন সে উটের পিঠে উপবিষ্ট থাকলেও যেন তার কাছে এসে উপস্থিত হয়। স্বামীর আরও হক হচ্ছে যে, তার অনুমতি ব্যতীত স্ত্রী গৃহের কোন বস্তু কাউকে দিবে না। যদি দেয় তবে গুনাহ্ স্ত্রীর হবে আর সওয়াব স্বামীর হবে। স্বামীর আরেকটি হক হচ্ছে, তার অনুমতি ব্যতীত স্ত্রী নফল রোযা রাখবে না। যদি এরূপ করে তবে এটা অযথা পানাহার থেকে বিরত থেকে কষ্ট করা হবে; কোনরূপ সওয়াব হবে না। স্ত্রী যদি স্বামীর অনুমতি ব্যতীত ঘর থেকে বের হয়, তবে পুনরায় ঘরে ফিরে না আসা পর্যন্ত অথবা তওবা না করা পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তাকে অভিশাপ দিতে থাকে। হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : “আমি যদি অন্য কাউকে সেজদা করতে আদেশ করতাম তাহলে নারীদেরই বলতাম তাদের স্বামীদের সেজদা করতে”। কারণ স্ত্রীদের উপর স্বামীদের হক গুরুতর। 

তিনি আরও ইরশাদ করেছেনঃ স্ত্রীলোকেরা আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত নিকটতর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত হয় তখন, যখন তারা আপন গৃহের অভ্যন্তরে অবস্থান করে।গৃহের আঙ্গিনায় আদায়কৃত তাদের নামায মসজিদে আদায়কৃত নামায হতে উত্তম।গৃহাভ্যন্তরে আদায়কৃত নামায গৃহের আঙ্গিনায় আদায়কৃত নামায হতে উত্তম। গৃহের অন্দর কুঠরীতে আদায়কৃত নামায (সাধারণ) গৃহাভ্যন্তরে আদায়কৃত নামায হতে উত্তম”। পর্দার হেফাযতের জন্যেই এ হুকুম হয়েছে। এ জন্যেই তিনি ইরশাদ করেছেন  : “স্ত্রীলোক স্বয়ং পর্দা; ঘর থেকে বের হলেই শয়তান উকি-ঝুকি মারতে থাকে”।

 তিনি আরও ইরশাদ করেছেন  : “স্ত্রীলোকের পর্দা এগারটি, বিবাহের পর স্বামী তার জন্যে একটি পর্দা; মৃত্যুর পর কবর তার জন্যে দশটি পর্দা”। মোটকথা, স্ত্রীর উপর স্বামীর অনেক হক রয়েছে; তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হক হচ্ছে দুটি : - (এক) আপন সতীত্বরক্ষা ও পর্দা পালন। (দুই) প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু স্বামীর কাছে দাবী না করা। 

আদর্শ পূর্বসূরীগণের নীতি ছিল, তাদের কেউ যখন জীবিকার জন্য ঘর থেকে বের হতেন, তখন তাদের স্ত্রী-কন্যাগণ বলতেন “অবৈধ উপার্জন

থেকে বেঁচে চলবেন; আমরা ক্ষুধার যন্ত্রণা ও অন্যান্য কষ্ট সহ্য করে নিবো। তবুও দোযখের আগুন সহ্য করতে পারবো না”


তাঁদেরই মধ্যকার একজনের ঘটনা,– একদা সফরের এরাদা করলেন। পাড়া-প্রতিবেশী কেউ তার এ সফর কামনা করছিল না; তারা সে লোকের স্ত্রীকে বললো  : আপনি তার এ সফরে সম্মতি দিচ্ছেন কেন, অথচ তিনি তার অনুপস্থিতিকালীন খরচাদি আপনাদেরকে দিয়ে যাচ্ছেন না ? স্ত্রী জবাব দিলেন  :  আমি তার সাথে পরিচিত হওয়ার পর থেকে তাকে শুধু একজন ভোজন-বিলাসীই পেয়েছি; রিযিকদাতা হিসাবে তাকে পাই নাই, বরং প্রকৃত রিযিকদাতা একমাত্র আল্লাহ্ পাকই; এ কথার উপর আমি পূর্ণ ঈমান রাখি। তিনি যাচ্ছেন; যান, কিন্তু আসল রিযিকদাতা তো রয়েছেন। 


হযরত রাবেয়া বিনতে ইসমাঈল (রহঃ) হযরত আহ্‌মদ ইব্‌নে আবী হওয়ারী (রহঃ)-এর নিকট বিবাহের পয়গাম পাঠিয়েছিলেন। তিনি ইবাদত— বন্দেগীতে মগ্ন থাকতেন। তাই অসম্মতি প্রকাশ করে জবাব দিয়ে পাঠিয়েছেন যে, আমার কর্মমগ্নতার (ইবাদত-বন্দেগীর) কারণে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা বাদ দিয়ে রেখেছি। হযরত রাবেয়া বল্‌লেন আমিও আপনার ন্যায় কাজে (ইবদাতে) মগ্ন থাকি; তদুপরি আমার বিবাহের খাহেশও নাই, কিন্তু আমার পূর্ববর্তী স্বামী থেকে আমি যে প্রচুর সম্পদ পেয়েছি; আমার ইচ্ছা হয় আপনি সেগুলো আপনার অন্যান্য বন্ধুজন ও তাপস্যগণের মধ্যে খরচ করুন। আর সে সঙ্গে আমিও তাঁদের পরিচিতি লাভে ধন্য হই। এ ভাবে খোদা-প্রাপ্তির একটি পথ আমার জন্যে হয়ে যায়। এ কথা শুনে তিনি বল্‌লেন  :  তাহলে আমার শায়খ-গুরুজনের নিকট পরামর্শ করে নিই। তাঁর শায়খ হযরত আবূ সুলাইমান দারানী (রহঃ) এতকাল তাকে বৈবাহিক জীবন অবলম্বন করতে নিষেধ করতেন, আর বলতেন আমাদের লোকদের মধ্যে যারাই বিবাহ করেছে, তাদের অবস্থা অন্য রকম হয়ে গেছে (অর্থাৎ পার্থিব ঝামেলায় পড়ে কিছু যিকির-আযকার ও ধ্যান-সাধনা ছেড়ে দিয়েছে)। হযরত সুলাইমান দার্রানী (রহঃ) উক্ত মহিলার উক্তি ও অবস্থা জেনে তাকে পরামর্শ দিলেন, তুমি তাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করে নাও তিনি আল্লাহর ওলী সিদ্দীকীনদের ন্যায় উক্তি করেছেন। 

আহ্‌মদ ইব্‌নে আবী হাওয়ারী (রহঃ) বলেন  : অতঃপর আমি তাঁকে বিবাহ করে নিলাম। কিন্তু ঘরে আমার; বসবাস করার মত কিছুই ছিলনা। এমন ছিল যে, গোসল করা তো দূরের কথা, খাওয়া-দাওয়ার পর হাত ধোয়ার ফুরসৎ পায় না এমন ব্যক্তির ন্যায় শীঘ্র বের হয়ে আসতাম। পরবর্তীতে আমি আরও বিবাহ করেছি। কিন্তু এই প্রথমা স্ত্রী আমাকে উন্নত খাওয়া-দাওয়া করাতো সব সময় উৎফুল্ল রাখতো আর বলতো- যান, সদা আনন্দিত থাকুন এবং অন্যান্য স্ত্রীদের জন্য শক্তি সঞ্চয় করুন। 


শ্যাম দেশের এ হযরত রাবেয়া (রহঃ) -এর সেই মর্তবা ছিল, যে মর্তবা ছিল বসরা নিবাসী হযরত রাবেয়া বসরিয়া (রহঃ) -এর। 

স্ত্রীলোকের পক্ষে এটা অপরিহার্য কর্তব্য যে, স্বামীর সম্মতি না জেনে তার সম্পদে কিছুমাত্র এদিক-সেদিক করবে না। হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ হচ্ছে, স্ত্রীলোক স্বামীর বিনা অনুমতিতে অন্য কাউকে কিছু খাওয়াবে না। হ্যাঁ, কোন খাদ্যবস্তু বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিলে তা ভিন্ন কথা। স্বামীর অনুমতি নিয়ে কোন অভাবীকে অন্ন দান করলে, স্বামীর সমপরিমাণ সওয়াব সে পাবে। পক্ষান্তরে, বিনা অনুমতিতে এরূপ করলে সে গুনাহগার হবে আর স্বামীর আমলনামায় সওয়াব লিপিবদ্ধ হবে। কন্যার প্রতি মাতা-পিতার কর্তব্য হচ্ছে, মাতা-পিতা তাদের প্রতিটি কন্যা-সন্তানকে পূর্বাহ্নেই শিষ্টাচার শিক্ষা দিবে। উন্নত আচার-ব্যবহার ও সুন্দর আচরণনীতি, স্বামীর সাথে ঘর - সংসার করার প্রয়োজনীয় ও সুন্দর তরতীব ও নিয়ম-পদ্ধতি শিখাবে। বর্ণিত আছে, হযরত উসামাহ্ বিনৃতে খারেজাহ্ ফাযারী ( রঃ ) তার কন্যাকে স্বামীর সোপর্দ করার সময় উপদেশ দিয়েছিলেনএতদিন তুমি পাখীর বাসার ন্যায় একটি ক্ষুদ্র পরিসরে অবস্থান করছিলে। এখন তুমি একটি অপরিচিত প্রশস্ত পরিবেশে যাচ্ছ— তোমাকে এমন এক শয্যা গ্রহণ করে নিতে হবে যেটি সম্পর্কে তোমার কোনই পরিচিতি নাই। এমন সাথীকে আপন করে নিতে হবে, যার সাথে পূর্ব থেকে কোনই সম্পর্ক নাই। সম্পূর্ণ নূতন সম্পূর্ণ অপরিচিত। কাজেই তুমি তার জন্যে যমীনস্বরূপ হয়ে যাও, সে তোমার জন্য আসমানস্বরূপ হবে। তুমি তার জন্য বিছানাস্বরূপ হয়ে যাও, সে তোমার জন্য সুদৃঢ় স্তম্ভস্বরূপ হবে। তুমি তার বাদী হয়ে যাও, সে তোমার গোলাম হয়ে যাবে। কোন কাজে বা কথায় খোঁচা দিওনা বা অতিরজ্ঞন করো না, সে তোমাকে সরিয়ে দিবে। তুমি তাকে দূরে রেখো না, সে তোমাকে দূর করে দিবে। সে তোমার নিকটবর্তী হলে, তুমি তার আরও নিকটবর্তী হও। আর সে যদি তোমাকে পরিহার করে চলে, তবে তুমি তার থেকে সরে পড়। সর্বদা লক্ষ্য রাখবে— তোমা থেকে সে যেন সব সময় ভাল শুনে, ভাল দেখে, ভাল আঁচ করে। বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত এক হাদীসে আছে, হযরত মায়মূনাহ্ (রঃ) হুযূরের অনুমতি না নিয়ে নিজের বাঁদীকে আযাদ করে দিয়েছিলেন । নির্ধারিত দিনে তার নিকট উপস্থিত হয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি জানতে পেরে বলেছিলেন : “তোমার ভাই - বোনদেরকে যদি বাঁদীটি দান করে দিতে তবে তুমি অধিক সওয়াবের ভাগী হতে” 

জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি তার স্ত্রীকে উপদেশ দিয়েছেন “মার্জনার দৃষ্টি রাখ, তাহলে ভালবাসা স্থায়ী হবে। আমার অসন্তোষের মুহূর্তে নিশ্চুপ থেকো, তাহলে কল্যাণ হবে, ঢোলের ন্যায় আমাকে আঘাত করো না, কারণ জানা নাই অদৃশ্যের অন্তরালে কি লুকিয়ে রয়েছে। অধিক মাত্রায় অভিযোগ করো না, এতে ভালবাসা হ্রাস পায় ; অন্তর তোমায় অস্বীকার করতে পারে ; অন্তরের উপর আমারও হাত নাই। অস্তঃকরণে আমি যেমন ভালবাসা লক্ষ্য করেছি, তেমনি তাতে শত্রুতাও অবস্থান করে, তবে ভালবাসা শত্রুতাকে দূর করতে সক্ষম।



স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...