রবিবার, ২৫ জুন, ২০২৩

জিহ্বার বিপদাপদ - (পর্ব - ১২) মিথ্যা ওয়াদা



জিহ্বার বিপদাপদ - পর্ব - ১২
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন - ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

মিথ্যা ওয়াদা
ওয়াদা করার ক্ষেত্রে জিহ্বা অগ্রে থাকে, কিন্তু তা পূর্ণ করা মনের জন্যে অপ্রিয় হয়ে থাকে। ফলে ওয়াদা মিথ্যা কথায় পর্যবসিত হয়। এটা মোনাফেকীর আলামত। আল্লাহ্ তাআলা বলেন : “মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর”।
রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম) বলেন : ওয়াদা করা দানের মধ্যে গণ্য। তিনি আরও বলেন : ওয়াদাও এক প্রকার কর্জ। আল্লাহ পাক নবী হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর প্রশংসায় বলেন : -সে ছিল ওয়াদায় সাচ্চা। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমরের মৃত্যু আসন্ন হলে তিনি বললেন : জনৈক কোরায়শী ব্যক্তি আমার কাছে আমার কন্যা বিবাহ চেয়েছিল। আমি কিছুটা দোদুল্যমান ওয়াদা করেছিলাম। আল্লাহর কসম, আমি তাঁর কাছে এক তৃতীয়াংশ মোনাফেকী নিয়ে যাব না। তোমরা সাক্ষী থাক, আমি সে ব্যক্তিকেই কন্যা দান করলাম। আবদুল্লাহ ইবনে আবুল হাসান রেওয়ায়াত করেন, আমি নবী করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে নবুওয়তের পূর্বে একটি লেনদেন করেছিলাম। তাঁর কিছু প্রাপ্য আমার কাছে বাকী ছিল। আমি আরজ করলাম : এক্ষুণি এনে দিচ্ছি। আপনি এখানে অপেক্ষা করুন, কিন্তু আমি সেদিন এবং পরের দিন সম্পূর্ণ ভুলে রইলাম। তৃতীয় দিন এসে তাঁকে সেই জায়গাতেই পেলাম। তিনি বললেন : মিয়া, তুমি বড় বিপদে ফেলে দিলে। এখানে তিন দিন ধরে তোমার অপেক্ষা করছি।
ইবরাহীম ইবনে আদহামকে কেউ জিজ্ঞেস করল : যদি কেউ আসার ওয়াদা করে যায় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরে না আসে, তবে তার জন্যে কতক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? তিনি বললেন, পরবর্তী নামাযের সময় আসা পর্যন্ত। হযরত ইবনে মসউদ (রাঃ) প্রত্যেক ওয়াদার সাথে “ইনশাআল্লাহ্” বলতেন। এতে ওয়াদা পূর্ণ করা না হলেও কোন দোষ থাকে না। এর সাথে পাকাপোক্ত ইচ্ছা থাকলে তা পূর্ণ করা উচিত। যদি কেউ ওয়াদা করার সময়ই পাকা ইচ্ছা রাখে যে, পূর্ণ করবে না, তবে এরই নাম ‘নেফাক'।
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর রেওয়ায়াতে রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম) বলেন : যে ব্যক্তির মধ্যে তিনটি অভ্যাস পাওয়া যাবে, সে পাকা মোনাফেক, যদিও সে নামায রোযা আদায় করে এবং মুসলমান বলে দাবী করতে থাকে। অভ্যাস তিনটি হল (১) কথা বললে মিথ্যা বলা (২) ওয়াদা করলে তা পূর্ণ না করা এবং (৩) আমানত রাখা হলে তাতে খেয়ানত করা। এটা তারই অবস্থা, যে ওয়াদা করার সময় পূর্ণ করার নিয়ত রাখে না, অথবা ওযর ছাড়াই ওয়াদার খেলাফ করে, কিন্তু যে ওয়াদা করার সময় পূর্ণ করার ইচ্ছা রাখে, অতঃপর কোন ওঘরের কারণে পূর্ণ না করে, সে মোনাফেক হবে না। রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম) আবুল হায়সামকে একটি গোলাম দেয়ার ওয়াদা করেছিলেন। এরপর গনীমতের মালে তিনটি গোলাম আসে। দুটি গোলাম বন্টন করে দেয়া হল। একটি রয়ে গেল। আদরের দুহিতা হযরত ফাতেমা (রাঃ) এসে বললেন : দেখুন, যাঁতাকল চালাতে চালাতে আমার হাতে ফোস্কা পড়ে গেছে। এ গোলামটি আমাকে দান করুন, কিন্তু আবুল হায়সামের সাথে কৃত ওয়াদা রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম)-এর মনে পড়ে গেল। তিনি কন্যাকে বললেন : তোমাকে গোলাম দিয়ে দিলে আমার ওয়াদা বিপন্ন হবে। এরপর তিনি গোলামটি আবুল হায়সামকেই দান করেন।

পরবর্তী পর্ব-
মিথ্যা বলা এবং মিথ্যা কসম খাওয়া

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...