মিথ্যা বলা এবং মিথ্যা কসম খাওয়া—
“তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাক। মিথ্যা পাপাচারের সঙ্গী, তাদের উভয়ের স্থান জাহান্নাম। তোমরা সততা আঁকড়ে থাক। সততা পুণ্য কাজের সঙ্গী। তারা উভয়েই জান্নাতে স্থান পাবে”।
এক হাদীসে রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম) বলেন : ব্যবসায়ীরা পাপাচারী হয়ে থাকে। সাহারায়ে কেরাম আরজ করলেন : হুযুর, আল্লাহ্ তাআলা ক্রয়-বিক্রয় হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন। অতএব ব্যবসায়ীদের পাপাচারী হওয়ার কারণ কি? তিনি বললেন : কারণ, তারা কসম খেয়ে খেয়ে গোহাহগার হয় এবং কিছু বললে মিথ্যা বলে। তিনি আরও বলেন : তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি কৃপাদৃষ্টি দেবেন না। প্রথম, যে ব্যক্তি কাউকে কিছু দান করে অনুগ্রহ প্রকাশ করে। দ্বিতীয়, যে মিথ্যা কসম খেয়ে খেয়ে পণ্য বিক্রি করে। তৃতীয়, যে গিঁটের নীচে পর্যন্ত পায়জামা পরিধান করে।
হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন : সাহাবায়ে কেরামের কাছে মিথ্যার চেয়ে অধিক কোন বদভ্যাস অপ্রিয় ছিল না। রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম) যখন কোন সাহাবীর মিথ্যা জেনে নিতেন, তখন সে ব্যক্তির নতুনভাবে আল্লাহর সামনে তওবা না করা পর্যন্ত তিনি তার প্রতি মন থেকে মলিনতা দূর করতে পারতেন না। হযরত মূসা (আঃ) আল্লাহ্ তাআলার দরবারে আরজ করলেন : তোমার বান্দাদের মধ্যে আমলের দিক দিয়ে কে ভাল? এরশাদ হল : যার জিহ্বা মিথ্যা বলে না, অন্তর পাপাচারে লিপ্ত হয় না এবং লজ্জাস্থান যিনা করে না। হযরত লোকমান আপন পুত্রকে বললেন : মিথ্যা বলো না, যদিও তা পাখীর মাংসের মত সুস্বাদু মনে হয়। হযরত ওমর (রাঃ) বলেন : আমার সাথে সাক্ষাৎ না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম মনে হয় যার নাম উত্তম। যখন সাক্ষাৎ হয়ে যায়, তখন সে ব্যক্তি ভাল মনে হয়, যার অভ্যাস ভাল। লেনদেন করার পর সে ব্যক্তি ভাল মনে হয়, যে কথায় সাচ্চা এবং ওয়াদায় পাক্কা। খালেদ ইবনে সবীকে কেউ জিজ্ঞেস করল ; একবার মিথ্যা বললেও কি কাউকে মিথ্যাবাদী বলা হবে? তিনি বললেন : অবশ্যই।
পরবর্তী পর্ব
যে যে স্থানে মিথ্যা বলা জায়েয

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন