জু'মআ (পর্ব- ২)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন - ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
জুমআর শর্ত-
প্রকাশ থাকে যে, অন্যান্য নামাযে যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো জুমআর মধ্যেও শর্ত। কিন্তু কয়েকটি অতিরিক্ত শর্ত জুমআর মধ্যে রয়েছে, যা অন্যান্য নামাযে নেই।
(১) প্রথমতঃ যোহরের সময় হওয়া। সুতরাং যদি জুমআর নামাযে ইমামের সালাম আসরের সময়ে পড়ে যায়, তবে জুমআ বাতিল হবে। তখন ইমামের জন্যে জরুরী হবে, দু'রাকআত আরও বাড়িয়ে যোহর পূর্ণ করা।
(২) দ্বিতীয়ত জামাআত হওয়া শর্ত। শাফেয়ী মাযহাবে কমপক্ষে চল্লিশ জন এবং হানাফী মাযহাবে ইমামসহ তিন জন হওয়া জরুরী। প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে শহরের কয়েক জায়গায় জুমআ হলে যে ইমাম শ্রেষ্ঠ, তাঁর পেছনে জুমআ পড়া উত্তম। এক্ষেত্রে মুসল্লীদের সংখ্যাধিক্যও লক্ষণীয় ব্যাপার।
(৩) তৃতীয়তঃ জুমআর জন্যে উপযুক্ত স্থান শর্ত। সুতরাং জঙ্গলে, বিজন স্থানে ও তাঁবুতে জুমআর নামায হয় না। এর জন্যে অস্থাবর দালান বিশিষ্ট স্থান জরুরী।
(৪) চতুর্থতঃ দু'খোতবা দেয়া এবং উভয় খোতবার মাঝখানে বসা। প্রথম খোতবায় চারটি বিষয় থাকা ওয়াজিব-
(১) আল্লাহর প্রশংসা করা এবং কমপক্ষে আলহামদু লিল্লাহ বলা,
(২) রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি দরূদ পাঠ করা,
(৩) তাকওয়ার উপদেশ দেয়া এবং
(৪) কোরআন পাক থেকে একটি আয়াত পাঠ করা।
অনুরূপভাবে দ্বিতীয় খোতবায়ও এ চারটি বিষয় ওয়াজিব। কিন্তু আয়াত পাঠের জায়গায় দোয়া পাঠ করা ওয়াজিব। উভয় খোতবা শ্রবণ করাও ওয়াজিব।
প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান মুসলমান ব্যক্তির উপর জুমআ ফরয। যাদের উপর জু'মআ ফরয তাদের জন্যে বৃষ্টি, কর্দমাক্ততা, ভয়, অসুস্থতা ও অসুস্থ ব্যক্তির দেখাশুনা করার ওযরে জুমআ তরক করার অনুমতি আছে। তাদের জন্যে জুমআর নামায শেষ হওয়ার পর যোহর পড়া মোস্তাহাব। যদি জুমআর নামাযে গোলাম, মুসাফির ও মগ্ন ব্যক্তি হাযির হয় তবে তাদের জুমআ দুরস্ত হবে। যোহরের নামায পড়তে হবে না।
পরবর্তী পর্ব -
জুমার আদব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন