ঈর্ষার ক্ষতি হইতে অব্যাহতির উপায়
অশেষ সাধনা দ্বারাও তোমার অন্তর হইতে শত্রু-মিত্রের প্রভেদ জ্ঞান একেবারে বিনাশ করিতে পারিবে না; উভয়ের সম্পদ ও বিপদে তোমার অন্তরে পার্থক্য উপলব্ধি করিবে। তোমার হৃদয়ে স্বাভাবিকভাবেই শত্রুর সম্পদে কিছুটা ভার বোধ হইবে। এই স্বভাবগত মনোভাব পরিবর্তন করা মানব-ক্ষমতার বহির্ভূত। কিন্তু দুইটি কাজ তাহার ক্ষমতাধীন রহিয়াছে; যথা :
(১) শত্রুর প্রতি স্বাভাবিক বিরক্তি বাক্যে ও কর্মে কখনও প্রকাশ না করা এবং
(২) জ্ঞান ও বুদ্ধির বিচারে সেই স্বাভাবিক মনোভাবের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা। সেই মনোভাব নিতান্ত জঘন্য এবং মন হইতে উহা বিলুপ্ত হউক, একান্তভাবে এই কামনা করা।
এই দ্বিবিধ কাজ করিতে পারিলে স্বাভাবিক ঈর্ষার মনোভাবের জন্য আল্লাহর বিচারে কেহই দায়ী হইবে না।
কেহ কেহ বলেন- ঈর্ষার ভাব বাক্যে ও কর্মে প্রকাশ না করাই যথেষ্ট। ইহার প্রতি আন্তরিক ঘৃণা পোষণ না করিলেও আল্লাহর বিচারে দায়ী হইবে না। এই অভিমত ঠিক নহে। ঈর্ষার প্রতি ঘৃণা না রাখিলে আল্লাহর বিচারে দায়ী হইতে হইবে। কারণ, ঈর্ষা হারাম। ইহা হৃদয়ের কাজ, দেহের কাজ নহে। কেহ যদি কোন মুসলমানের দুঃখ কামনা করে এবং তাহার আনন্দে দুঃখিত হয়, তবে সে অবশ্যই আল্লাহর বিচারে দায়ী হইবে। কিন্তু সেই ভাবের প্রতি আন্তরিক ঘৃণা পোষণ করত ইহা গুপ্ত রাখিলে সে ঈর্ষার আপদ হইতে অব্যাহতি পাইবে।
উপরে বর্ণিত হইয়াছে, অসীম সাধনায়ও মানব-হৃদয় হইতে শত্রু-মিত্রের প্রভেদ জ্ঞান একেবারে বিলুপ্ত হয় না। কিন্তু তাওহীদভাবে প্রবল হইয়া যাঁহাকে একেবারে তন্ময় করিয়া ফেলিয়াছে, যিনি ইহার প্রভাবে সকল মানুষকে আল্লাহর গোলামরূপে দেখিতে পান এবং সমস্ত ক্রিয়া-কলাপ একমাত্র আল্লাহ্ হইতেই সমাধা হইতে দর্শন করেন, কেবল এইরূপ ব্যক্তিই শত্রু-মিত্রের প্রভেদ জ্ঞান ভুলিয়া যাইতে পারেন। কিন্তু এইরূপ উন্নত মনোভাব নিতান্ত বিরল; বিদ্যুতের ন্যায় চমকিয়া নিমিষেই মিলাইয়া যায়; দীর্ঘকাল স্থায়ী হয় না।
পরিশেষে আল্লাহ্ তা'আলার কাছে এই দোয়া রহিল তিনি যেন আমাদেরকে এই সব বিষয় থেকে বিপদমুক্ত রাখেন। লিখকের (ইমাম গাজ্জালী রহঃ। কষ্টের যথাযত বিনিময় দান করন। আমিন।
(সমাপ্ত)
প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন