রবিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৩

জ্ঞান ও জ্ঞানার্জন (১৯) কল্যাণকর জ্ঞানের মধ্যে প্রশংসনীয় জ্ঞান



জ্ঞান জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানদানের মাহাত্ম্য (পর্ব- ১৯)
এহইয়াউ উলুমিদ্দিন - ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

কল্যাণকর জ্ঞানের মধ্যে প্রশংসনীয় জ্ঞান—
প্রকাশ থাকে যে, এদিক দিয়ে জ্ঞান তিন প্রকার-
(১)– যে জ্ঞানের অল্পও মন্দ, অধিকও মন্দ।
(২)– যে জ্ঞানের অল্পও ভাল, অধিকও ভাল এবং
(৩)– যে জ্ঞান যতটুকুতে কাজ চলে, ততটুকু হলে তো ভাল, কিন্তু চাহিদার অতিরিক্ত হলে প্রশংসনীয় নয়।
এ প্রকার তিনটি দেহের অবস্থার মতই। দেহের কোন কোন অবস্থা কম হোক কিংবা বেশী, ভাল বলে গণ্য হয়; যেমন সুস্থতা ও সৌন্দর্য। কতক অবস্থা কম হোক কিংবা বেশী, মন্দ বিবেচিত হয়; যেমন কুশ্রী হওয়া ও কুচরিত্র হওয়া। কতক অবস্থা এমন যে, তা মাঝামাঝি পরিমাণে হলে ভাল বলে গণ্য হয়; যেমন অর্থ ব্যয়। এ ব্যাপারে অপব্যয় প্রশংসনীয় নয়, যদিও তা ব্যয়।
প্রথম প্রকার জ্ঞান যার অল্প ও অধিক সবটাই মন্দ তা হল এমন জ্ঞান যাতে ইহকাল ও পরকালের কোন উপকারিতা নেই, অথবা যার ক্ষতি উপকারিতার তুলনায় বেশী। যেমন জাদু, তেলেসমাত ও জ্যোতির্বিদ্যা। এগুলোর কোনটির মধ্যেই ফায়দা নেই। মানুষের উৎকৃষ্ট সম্পদ জীবন এতে ব্যয় করা অনর্থক বরবাদ করার নামান্তর। আবার কোন জ্ঞানের দ্বারা পার্থিব কোন প্রয়োজন কখনো মিটে গেলেও এর উপকারিতার তুলনায় অপকারিতা বেশী হয়ে থাকে; বরং অপকারের তুলনায় এ উপকার তুচ্ছ মনে হয়।
আর দ্বিতীয় জ্ঞান হল- যে জ্ঞান আদ্যোপান্ত ভাল, তা হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার মারেফত, তাঁর গুণাবলী ও কর্ম সম্পর্কে অবগত হয়ে সৃষ্টির মধ্যে তাঁর অভ্যাস ও নীতি জানা এবং দুনিয়ার উপর আখেরাতকে অগ্রাধিকার দেয়ার রহস্য অবগত হওয়া। এ জ্ঞানই মূল উদ্দেশ্য এবং পরকালীন সৌভাগ্য লাভের উপায়। এ জ্ঞানার্জনের যত বেশী চেষ্টাই করা হোক তা প্রয়োজনের তুলনায় কমই হবে। কেননা, এটা অতল দরিয়া। সকল পর্যটক তার তীরেই ঘুরাফেরা করে। এর অভ্যন্তরে নবী, ওলী ও দৃঢ় চিত্ত আলেম ব্যতীত কেউ প্রবেশ করতে পারে না। এ সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার ব্যাপারে এলেম শিক্ষা করা ও আখেরাত শাস্ত্রজ্ঞগণের জীবনী অধ্যয়ন করা কল্যাণকর হয়ে থাকে, এটা শুরুতে দরকার। পরিণামে এ শিক্ষায় যে বিষয় দ্বারা সাহায্য পাওয়া যায়, তা হচ্ছে সাধনা, অধ্যবসায়, অন্তরের পরিশুদ্ধি, দুনিয়ার সাথে সম্পর্কচ্ছেদকরণ এবং দুনিয়াতে নবী ওলীদের মিল সৃষ্টিকরণ। যে কেউ এ জ্ঞান লাভের জন্যে এভাবে চেষ্টা করবে, সে তার ভাগ্যে যতটুকু আছে তা পেয়ে যাবে। চেষ্টা পরিমাণে পাবে না । হাঁ, এতে সাধনার প্রয়োজন অবশ্য আছে। সাধনা ব্যতীত কোন কিছু অর্জিত হয় না। এ ছাড়া হেদায়েতের কোন চাবি নেই।
তৃতীয় জ্ঞান হল- (যা এক বিশেষ পরিমাণ পর্যন্ত ভাল)- সে শিক্ষা, যা আমরা ফরযে কেফায়ার বর্ণনায় লিখে এসেছি। মানুষের উচিত দু'টি বিষয় থেকে যে কোন একটি অবলম্বন করা। হয় সে নিজের চিন্তা করবে এবং নিজের চিন্তা শেষ হলে অপরের চিন্তা করবে। কিন্তু নিজের সংশোধন করার পূর্বে অপরের সংশোধনে মশগুল হওয়া কিছুতেই উচিত নয়। এখন যদি তুমি নিজের চিন্তা কর, তবে সর্বপ্রথম সে জ্ঞান আহরণে মশগুল হও, যা পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী তোমার উপর ফরযে আইন। আর বাহ্যিক আমল যেমন নামায, রোযা, পবিত্রতা ইত্যাদিতে মশগুল হও। কিন্তু অত্যন্ত জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ যে জ্ঞান মানুষ বাদ দিয়ে রেখেছে, সেটি হচ্ছে অন্তরের গুণাগুণ সম্পর্কিত জ্ঞান। এতে জানতে হবে, কোন্ গুণটি ভাল ও কোনটি মন্দ। কেননা, কোন মানুষ এমন নেই যার মধ্যে লোভ, লালসা, হিংসা, রিয়া ও আত্মম্ভরিতা ইত্যাদি মন্দ গুণাবলী নেই। এগুলো সবই মারাত্মক গুণ। এগুলোকে এমনিই রেখে কেবল বাহ্যিক আমলে মশগুল থাকা এমন, যেমন কেউ খোস-পাঁচড়া, ফোড়া ইত্যাদি রোগে কেবল ত্বকের উপর প্রলেপ দেয় এবং শিঙ্গা লাগিয়ে ভিতরের বদরক্ত বের করার ব্যাপারে অলসতা করে। যারা নামেই আলেম এবং কাঠমোল্লা, তারা কেবল বাহ্যিক আমল সম্পর্কেই বর্ণনা করে। আর আখেরাতের আলেমগণ বাতেনের সংস্কার ও অনিষ্টের উপকরণ দূর করা ছাড়া আর কিছুই বলেন না। অধিকাংশ মানুষ কেবল বাহ্যিক আমল করে এবং অন্তর পরিষ্কার করে না। এর কারণ, বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল সহজ এবং অন্তরের আমল কঠিন। এটা এমন, যেমন কেউ তিক্ত ও বিস্বাদ ওষুধ পান করা কঠিন মনে করে কেবল ত্বকের উপর ওষুধের প্রলেপ লাগায়। সে এতেই লিপ্ত থাকে এবং ভিতরে বদ উপকরণ বৃদ্ধি পেয়ে রোগ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সুতরাং তুমি যদি আখেরাত কামনা কর এবং চির ধ্বংসের কবল থেকে মুক্তি প্রত্যাশা কর, তবে বাতেনের রোগ ও তার চিকিৎসায় আত্মনিয়োগ কর। তৃতীয় খন্ডে আমরা এর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছি। সেটা জানার পর তুমি সে উৎকৃষ্ট মকামে অবশ্যই পৌছাতে পারবে যা আমরা চতুর্থ খন্ডে বর্ণনা করেছি। কেননা, অন্তর মন্দ বিষয় থেকে মুক্ত হলে তাতে ভাল বিষয়ের জন্য স্থান সংকুলান হয়। ফরযে আইন সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তুমি ফরযে কেফায়াতে ব্যাপৃত হয়ো না। বিশেষতঃ যখন অন্যেরা তা জানে ও পালন করে। কেননা, যেব্যক্তি অন্যের সম্ভাব্য সংশোধনের আশায় নিজের জীবন বিপন্ন করে, সে নির্বোধ। উদাহরণতঃ কারও কাপড়ের মধ্যে সাপ বিচ্ছু ঢুকে পড়ে তাকে হত্যা করতে উদ্যত, কিন্তু সে অপরের শরীর থেকে মাছি তাড়ানোর জন্যে পাখা খুঁজে ফিরে। এ ব্যক্তির চেয়ে বোকা আর কে হবে? যদি তুমি তোমার জাহের ও বাতেনের গোনাহ পরিত্যাগ করতে সক্ষম হও এবং এটা তোমার সার্বক্ষণিক অভ্যাসে পরিণত হয়, যা মোটেই অসম্ভব নয়, তবে তখন অবশ্য ফরযে কেফায়ায় মশগুল হতে পার। এতে ধারাবাহিকতা ও স্তরের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। অর্থাৎ, প্রথমে কালামে মজীদ, এর পর হাদীস শরীফ, অতঃপর তফসীর এবং কোরআন শিক্ষা অর্জন করতে হবে। অনুরূপভাবে হাদীসের শিক্ষা ও তার শাখা-প্রশাখায় মশগুল হওয়া উচিত। অর্থাৎ, ফেকাহ শাস্ত্রের বিশ্বাসযোগ্য মাযহাবসমূহ জানতে হবে-মতভেদ নয়।
এর পর ফেকাহর নীতিশাস্ত্র এবং অন্যান্য শিক্ষা জীবনে যতদূর সম্ভব অর্জন করা কর্তব্য। কিন্তু সমগ্র জীবন কোন এক বিশেষ শাস্ত্রে পূর্ণতা লাভের উদ্দেশে ডুবিয়ে রাখা অনুচিত। কেননা, জ্ঞান সীমাহীন এবং বয়স সীমিত। এসব শাস্ত্র অন্য উদ্দেশ্যের জন্যে হাতিয়ার ও উপায়, স্বয়ং কাম্য নয়। কাজেই এগুলোতে এমনভাবে নিমগ্ন হওয়া ঠিক নয় যে, আসল উদ্দেশ্যই বিস্মৃত হয়ে যায়। কাজেই অভিধান শাস্ত্র ততটুকুই শিক্ষা করা উচিত, যদ্দ্বারা আরবী ভাষা বুঝা ও বলা যায়।
এমনিভাবে ব্যাকরণ ততটুকু শিক্ষা করা দরকার, যতটুকুর সম্পর্ক কোরআন ও হাদীসের সাথে রয়েছে।
শিক্ষার তিনটি স্তর রয়েছে- (১) যতটুকুতে কাজ চলে, (২) মাঝারি স্তর এবং (৩) পূর্ণতার স্তর।
এখন হাদীস, তফসীর, ফেকাহ ও কালাম শাস্ত্রের এ তিনটি স্তর বলে দেয়া হচ্ছে, যাতে অন্যান্য শাস্ত্ৰ ও অনুমান করে নেয়া যায়।
তফসীর শাস্ত্রে প্রথম স্তর হচ্ছে কোরআনের দ্বিগুণ পুরু একটি কিতাব যেমন, আলী ওয়াহেদী নিশাপুরীর তফসীর ওজীয। মাঝারি স্তর হচ্ছে কোরআনের তিন গুণ পুরু একটি কিতাব। যেমন, নিশাপুরীর অন্য তফসীর ওসীত। পূর্ণতার স্তর আরও বেশী, যার কোন প্রয়োজন নেই।
হাদীসের প্রথম স্তর হচ্ছে বোখারী ও মুসলিমের বিষয়বস্তু কোন পন্ডিত ব্যক্তির কাছে বুঝে নেয়া। বর্ণনাকারীদের নাম মুখস্থ করা জরুরী নয়। এ কাজ পূর্ববর্তী লোকেরা সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের কিতাবসমূহ বিশ্বাসযোগ্য মনে করাই তোমার জন্যে যথেষ্ট। মাঝারি স্তর হচ্ছে বোখারী ও মুসলিমের সাথে সকল সহীহ হাদীস গ্রন্থ পাঠ করা। পূর্ণতার স্তর হচ্ছে দুর্বল, শক্তিশালী, সহীহ, মুয়াল্লাল ইত্যাদি যত প্রকার হাদীস বর্ণিত আছে সবগুলো পাঠ করা এবং সনদের অনেক তরীকা, বর্ণনাকারীদের জীবনচরিত, নাম ও গুণাবলী জানা ।
ফেকাহ শাস্ত্রে প্রথম স্তর হচ্ছে মুযানীর মুখতাসারের ন্যায় কিতাব পড়ে নেয়া। মাঝারি স্তর হচ্ছে আমার কিতাব ওসীতের সাথে আরও বড় বড় কিতাব পাঠ করা। কালাম শাস্ত্রের উদ্দেশ্য কেবল পূর্ববর্তী মনীষীদের কাছ থেকে বর্ণিত আহলে সুন্নতের আকীদাসমূহ জেনে নেয়া। এর মাঝারি স্তর হচ্ছে আমার ‘কিতাবুল ইকতিসাদ ফিল এতেকাদের' মত একশ' পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা। বেদআতীদের সাথে বিতর্ক করার জন্যেই কালামশাস্ত্রের প্রয়োজন। এটা কেবল সর্বসাধারণের স্বার্থেই উপকারী। বেদআতী ব্যক্তি সামান্য বিতর্ক জানলেও তার সাথে কালাম শাস্ত্র কমই উপকারী হয়। কারণ, বিতর্কে নিরুত্তর হয়ে গেলেও সে বেদআত ত্যাগ করবে না । সে নিজেকে অপক্ক মনে করে ধরে নেবে, এর জওয়াব অবশ্যই আছে, তবে আমি দিতে পারিনি।
মন্দ আলেমদের দোষ এই যে, তারা সত্যের নামে বিদ্বেষে বাড়াবাড়ি করে এবং প্রতিপক্ষকে ঘৃণার চোখে দেখে। এর ফল এই দাঁড়ায় প্রতিপক্ষও মোকাবিলা করতে উদ্যত হয় এবং বাতিলের পক্ষপাতিত্ব অধিক করে। যে বিষয়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয় তা আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। যদি আলেমগণ শুভেচ্ছা ও হিতাকাঙ্ক্ষার পথ ধরে একান্তে প্রতিপক্ষকে উপদেশ দিত এবং বিদ্বেষ ও ঘৃণা পরিহার করত, তবে সম্ভবতঃ সফলতা অর্জিত হত।
পরবর্তী যমানায় যেসব বিরোধ আবিষ্কৃত হয়েছে এবং এ সম্পর্কে যে ধরনের রচনা, গ্রন্থ ও বিতর্ক আত্মপ্রকাশ করেছে, তেমন পূর্ববর্তী যমানা ছিল না। এগুলো থেকে মারাত্মক বিষের ন্যায় বেঁচে থাকা উচিত ! কারণ, এটা দুরারোগ্য ব্যাধি। এ ব্যাধিই ফেকাহবিদদেরকে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষে লিপ্ত করেছে।
আমার বক্তব্য তেমনি কোন ফেকাহবিদ শুনলে বলবে : যে যা না পারে, সে তার দুশমন হয়ে যায়। এতে তোমার বুঝা উচিত নয় যে, আমি এ শাস্ত্র সম্পর্কে অনভিজ্ঞ; বরং আমি এ শাস্ত্রে জীবনের একটি বড় অংশ নিয়োজিত করেছি। রচনা, তথ্যানুসন্ধান, বিতর্ক ও বর্ণনায় প্রথম শ্রেণীর লোকদেরকেও পেছনে ফেলে দিয়েছি। কিন্তু এর পর আল্লাহ তা'আলা আমাকে সরল পথ এলহাম করে এ শাস্ত্রের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তখন আমি এ শাস্ত্র বর্জন করে আত্মচিন্তায় মশগুল হয়েছি। কাজেই আমার উপদেশ তোমার কবুল করা উচিত। কেননা, অভিজ্ঞ ব্যক্তির কথা ঠিক হয়ে থাকে। যদি কেউ বলে, ফতোয়া শরীয়তের স্তম্ভ এবং শরীয়তের কারণসমূহ বিরোধ না জেনে জ্ঞাত হওয়া যায় না, তাই কালাম শাস্ত্র শিক্ষা করা জরুরী। এ যুক্তি শুনে তোমার পক্ষে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। কেননা, মাযহাবের কারণসমূহ স্বয়ং মযহাবে উল্লিখিত হয়েছে। এর অতিরিক্ত সবই অহেতুক ঝগড়া। প্রথম যুগের লোকগণ এবং সাহাবায়ে কেরাম এগুলো জানতেন না। অথচ অন্যদের তুলনায় তাঁরা ফতোয়া শাস্ত্র অনেক বেশীই জানতেন।
অতএব তোমার উচিত জ্বিন শয়তানদের কাছ থেকে আত্মরক্ষা করা এবং মানব শয়তানদের ধোঁকা থেকেও বেঁচে থাকা। মানব শয়তানরা বিভ্রান্ত ও পথভ্রান্ত করার কাজে জ্বিন শয়তানদেরকে বিশ্রামের সুযোগ দিয়েছে।
সারকথা, তুমি পৃথিবীতে নিজেকে আল্লাহ তা'আলার সাথে একাকী ধরে নাও এবং জান যে, মৃত্যু, আল্লাহর সামনে উপস্থিতি, হিসাব নিকাশ, বেহেশত-দোযখ সম্মুখে রয়েছে। এর পর চিন্তা কর, এই সামনের বস্তুগুলোর মধ্যে কোনটি তোমার জন্যে উপকারী। যেটি উপকারী সেটি অবলম্বন কর এবং অবশিষ্ট সবগুলো বর্জন কর।
জনৈক সূফী কোন একজন পরলোকগত আলেমকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলেন : আপনি যেসব শাস্ত্র দ্বারা বিতর্ক করতেন, সেগুলোর অবস্থা কি? আলেম ব্যক্তি তার প্রসারিত হাতের তালুতে ফুঁ মেরে বললেন : সব ধুলোর ন্যায় উড়ে গেছে। কেবল দু'রাকআত নামায আমার কাজে এসেছে, যা রাতের বেলায় আমি আদায় করতাম।
হাদীসে বলা হয়েছে-
>“হেদায়াত লাভ করার পর কোন সম্প্রদায় পথভ্রষ্ট হয়নি, কিন্তু তখন হয়েছে, যখন তারা কলহ ও বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়েছে।”
এর পর রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন :
>“তারা কেবল কলহের জন্যেই আপনার এ নাম বর্ণনা করে। তারা তো কলহপ্রিয় সম্প্রদায়।”(যাদের অন্তর বক্র)
এ আয়াতের তফসীর প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদীসে আছে—
>“এরা হচ্ছে ঝগড়াটে লোক।এদের থেকে বেঁচে থাকুন, যাতে ওরা আপনাকে বিভ্রান্তিতে না ফেলে” এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকেই বুঝিয়েছেন।
জনৈক বুযুর্গ বলেন : শেষ যমানায় কিছু লোক হবে, যাদের উপর আমলের দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে এবং ঝগড়া ও বিতর্কের দরজা খুলে যাবে।
এক হাদীসে আছে- তোমরা এমন যমানায় আছ, যাতে আমলের দরজা খোলা আছে। অচিরেই এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি হবে, যাদের অন্তরে বিবাদ ঢেলে দেয়া হবে।
মশহুর এক হাদীসে আছে “আল্লাহ তা'আলার কাছে মানুষের মধ্যে অধিক নিন্দনীয় হচ্ছে ঝগড়াটে ব্যক্তি।”
এক রেওয়ায়েতে আছে : যে সম্প্রদায় বাকপটুতা প্রাপ্ত হয়, তারা আমল থেকে বঞ্চিত হয়।
আলী ইবনে বসীর হিম্মামী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা খলীল ইবনে আহমদের মৃত্যুর পর তাঁকে স্বপ্নে দেখে বললেন : আপনার চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান আমি কাউকে পাইনি। এখন আপনার অবস্থা কি?
খলীল বললেন : আমি যে কাজে ব্যাপৃত ছিলাম তার অবস্থা তো তুমি জেনেছ? এ কলেমাগুলো ছাড়া কোন কিছু আমার জন্যে উপকারী হয়নি- কলেমা হল-
>‘ছোবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়ালা~ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াআল্লাহু আকবার’ (আল্লাহ মহা পবিত্র, আল্লাহই সমস্ত প্রশংসার অধিকারী, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, আল্লাহ সুমহান)।

পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...