বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৩

যশ ও রিয়া - (৮) যশখ্যাতি নির্মুল করার উত্তম পদ্ধতি



যশ ও রিয়া (পর্ব - ৮)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দীন - ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

যশখ্যাতি নির্মুল করার উত্তম পদ্ধতি-
যশখ্যাতি নির্মুল করার উত্তম পদ্ধতি হচ্ছে নির্জনবাস এবং এমন যায়গায় চলে যাওযা,  যেখানে কেউ না চিনে, যদি গৃহে বসেথাকে এবং যে শহরে খ্যাত হয়েছে, সেখানেই থাকে, তবে এ নির্জনবাস দ্বারা মানুষের মনে আরো বেশী বিশ্বাস ও মর্যাদা বেড়েযাবে।
প্রশংসার চিকিৎসা -
মানুষের মন্দ বলার ভয় এবং তাদের প্রশংসা পাওয়ার মোহ অধিকাংশ লোকের ধ্বংশের কারণ হয়েছে। এরুপ লোকেরা মানুষের মর্জি অনুযায়ী সকল কাজকর্ম করার চেষ্টা অবশ্যই করে, যাতে সকলেই প্রশংসা করে এর নিন্দার ভয় না থাকে। এটা বিনাশকারী বিষয় সমুহের অন্যতম। তাই এর চিকিৎসা অত্যাবশ্যক। এর চিকিৎসা পদ্ধতি হল, প্রশংসার মোহ এবং নিন্দার ঘৃনার যে সকল কারণ রয়েছে, সেগুলো দেখতে হবে। 
উদাহরণত: 
(১) প্রথম কারণ হচ্ছে প্রশংসাকারীর কথায় নিজের পূর্ণতা সম্পর্কে অবগত হওয়া। এতে প্রশংসিত ব্যক্তির উচিৎ আপন বিবেক-বুদ্ধির শরণাপন্ন হওয়া এবং মনে মনে চিন্তা করা যে,  যে গুণের দ্বারা আমার প্রশংসা করা হয়েছে,  সেটা আমার মধ্যে আছে কিন? যদি থাকে সেটা আনন্দিত হওয়ার যোগ্য কিনা? 
বলাবাহুল্য জ্ঞান-গরিমা সংসার নির্লিপ্ততা ইত্যদি গুণ হলে তা অবশ্যই আনন্দিত হওয়ার যোগ্য। আর ধন-দৌলত, যশখ্যাতি ইত্যাদি পার্থিব বিষয় হলে তা আনন্দিত হওয়ার যোগ্য নয়। যদি আলোচ্য গুনটি পার্থিব বিষয় হয় তবে তার জন্য উল্লসিত হওয়া খড়কুটার জন্য উল্লসিত হওয়ার মতই, যা দু'দিন পরেই বাতাসের সঙ্গে উড়ে যাবে। জ্ঞানের সল্পতার কারণেই এই ধরনের আনন্দ হয়ে থাকে। অতএব পার্থিব আসবাবপত্রের জন্য আনন্দ করা অনুচিত। আর যদি আলোচ্য গুনটি জ্ঞান-গরিমা ও সংসার নির্লিপ্ততা হয় তবু উল্লসিত হওয়া উচিত নয়। কেননা অন্তিম অবস্থা কি হবে, তা কারো জানা নেই। জ্ঞান ও সংসার নির্লিপ্ততা অবশ্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের কারণ হয়ে থাকে। কিন্তু পরিনাম অশুভ হওয়ার আশংকা লেগেই থাকে। যদি শুভ পরিনামের আশা সঞ্চারিত হয়, তবে জ্ঞান ও সংসার নির্লিপ্ততাকে আল্লাহর কৃপা ও অনুগ্রহ মনে করে আনন্দিত হওয়া উচিত- প্রশংসাকারীর প্রশংসার জন্য নয়। জানা দরকার যে প্রশংসার দরুন ফজিলত বৃদ্ধি পায় না।
পক্ষান্তরে যদি গুনটি এমন হয়, যা প্রশংসিত ব্যক্তির মধ্যে নেই, তবে এরুপ গুনের জন্য আনন্দিত হওয়া পাগলামি বৈ কিছু নয়। এর উদাহরণ এমন, যেমন কোন ব্যক্তি অপরকে হাসির ছলে বলে: আপনার পেটের বিষ্ঠা কত সুভাসিত। যখন আপনি মল ত্যাগ করেন, তখন সুভাসে চতুর্দিক আমোদিত হয়ে যায়। অথচ সংশ্লিষ্ট জানে, তার পেটে নেহায়েত দুর্গন্ধযুক্ত নাপাকী রয়েছে। এর পরও যদি সে প্রশংসার কারণে উল্লশিত হয়, তবে সেটা পাগলামী নয় কি?  
সারকথা, প্রশংসাকারী যদি সত্য প্রশংসা করে, তবে প্রশংসিত ব্যক্তি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা ভেবে আনন্দ প্রকাশ করবে, আর মিছামিছি প্রশংসা করলে দুঃখ প্রকাশ করবে। প্রশংসার জন্য কোন অবস্থাতেই উল্লাস করা উচিত নয়।
(২) প্রশংসায় আনন্দিত হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হলো, এতে বুঝা যায়, প্রশংসাকারীর অন্তর প্রশংসিত ব্যক্তির বশীভুত হয়ে গেছে এবং আরো হবে। এর পরিনতি এবং যশপ্রীতির পরিণতি একই, যার চিকিৎসা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(৩) আনন্দের তৃতীয় কারণ: প্রশসিত ব্যক্তির ভয়ভীতি। যার কারণে প্রশংসাকারী প্রশংসা করতে বাধ্য হয়। এটা একটা সাময়িক ও অস্থায়ী ক্ষমতা। ফলে আনন্দ করার যোগ্য নয়। বরং এ কারণে প্রশংসা করা হলে সেজন্য দুখ করা, খারাপ মনে করা, রাগ করা উচিত। জনৈক বুযুর্গ বলেন: যে ব্যক্তি প্রশংসায় আনন্দিত হয়, সে নিজের মধ্যে শয়তানকে প্রবেশ করার পথ করে দেয়। এ কারণে সাহাবায়ে কেরাম প্রশংসাকে খুব ভয় করতেন। খুলাফায়ে রাশেদিনের একজন এক ব্যক্তিকে কিছু জিজ্ঞেস করলে সে আরয করল: আমীরুল মুমিনীন, আপনি আমার ছেয়ে অধিক জ্ঞাত। তিনি রাগ করে বললেন: আমাকে পাকসাফ বলার আদেশ আমি তোমাকে করিনি।

পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...