বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৩

যশ ও রিয়া - (১১) রিয়ার স্বরূপ



যশ ও রিয়া (পর্ব - ১১)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দীন - ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

রিয়ার স্বরূপ-
প্রকাশ থাকে যে, রিয়া শব্দটি আারবী ‘রুইয়ত’ ধাতু থেকে উদ্ভূত যার অর্থ দেখা। এমনিভাবে খ্যাতির অর্থে ব্যবহৃত "সুমআ' শব্দটি ‘সেমা’ ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ শ্রবন করা। রিয়ার আসল অর্থ হচ্ছে মানুষের ভাল স্বভাব চরিত্র দেখিয়ে তাদের কাছে মর্যাদাবান হওয়া। যেহেতু এবাদত দ্বারাও যশ ও মর্যাদা অর্জিত হতে পারে, তাই সাধারণের পরিভাষায় রিয়া বিশেষভাবে সেই অবস্থাকে বলা হয়, যাতে ইবাদতের দিক দিয়ে অন্তরে মর্যাদা প্রতিষ্টা করা উদ্দেশ্য হয়। অর্থাত আল্লাহ্ তা'আলার এবাদত দ্বারা নিজের প্রতি মানুষের মনোযোগ আকৃষ্ট করা। অতএব এখানে চারটি বিষয় একত্রিত রয়েছে। 
 (১) রিয়াকার। সে হচ্ছে এবাদতকারী।
 (২) যার জন্য রিয়া করা হয়। সে হচ্ছে মানুষ। মানুষকে দেখানোই লক্ষ্য থাকে
 (৩) যা দেখানো উদ্দেশ্য; অর্থাত এবাদত ও অভ্যাস, যা রিয়াকার প্রকাশ করতে চায়।
 (৪) সয়ং রিয়া; অর্থাত, এবাদত প্রকাশ করার ইচ্ছা।

মানুষ ৫ প্রকার বস্তুর মধ্যে রিয়া করতে পারে 
শরীর, আকার-আকৃতি, কথা, কর্ম ও সঙ্গী-সাথী। কিন্তু এবাদত নয় এমন বস্তুতে রিয়া করা এবাদতে রিয়া করার তুলনায় হাল্কা।
(১) রিয়ার প্রথম প্রকার হচ্ছে শরীর প্রদর্শন করা। ধর্মীয় ক্ষেত্রে এর পদ্ধতি শরীরে ক্ষীণতা-শীর্ণতা ও ফ্যকাসে ভাব প্রকাশ করা,  যাতে মানুষ মনে করে,  এ ব্যক্তি ধর্ম-কর্মে খুব মেহনত করে এবং তার মধ্যে ধর্মের ভয় প্রবল। অথবা সে খাদ্য কম খায়। কিংবা ফ্যাকাসে ভাব দেখে মানুষ ধারণা করে যে, সে রাত্রি জাগরণ করে এবং এবাদত করে। এর কাছাকাছি ক্ষীনস্বরে কথা বলা, চক্ষু কোটরাগত হওয়া ও ঠোট শুষ্ক থাকা। এগুলো দ্বারা বুঝা যায়, লোকটি চির রোযাদার।
এ কারণে হযরত ঈসা (আঃ) বলেন : যখন তোমাদের কেউ রোযা রাখে, তখন যেন মাথায় তৈল মালিশ করে, চিরুনি করে এবং চোখে সুরমা ব্যবহার করে, যাতে সে রিয়াপ্রবণ না হয়ে যায়। দ্বীনদার ব্যক্তিরা এভাবে শরীর প্রদর্শন করে। কিন্তু দুনিয়াদাররা এর বিপরীতে স্থূলদেহ, স্বচ্ছবর্ণ, সুঠাম দেহ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং দৈহিক শক্তি প্রদর্শন করে থাকে।
(২) রিয়ার দ্বিতীয প্রকার হচ্ছে আকার-আকৃতি ও পোষাক প্রদর্শন করা। উদাহরণত : মাথায় কেশ এলোমেলো রাখা, গোফ মুন্ডন করা, পথে মাথা নত করে ধীরে ধীরে চলা, কপালে সেজদার চিহ্ন বাকী রাখা এবং অধৌত ও ছিন্নবস্ত্র পরিধান করা। এগুলো এজন্য করা হয়, যাতে বুঝা যায়যে, লোকটি সুন্নতের অনুসারী এবং আল্লাহর নেকবান্দা। এর মধ্যে দাখিল রয়েছে তালিকাযুক্ত বস্ত্র পরিধান করা এবং সুফীগণের ন্যায় নীলরঙের পোষাক পরিধান করা, আলেম না হয়ে আলেমের বিশেষ পোষাক পরিধান করা, যাতে মানুষ তাকে আলেম মনে করে, এটাও রিয়ার মধ্যে শামিল।
(৩) রিয়ার তৃতীয় প্রকার হচ্ছে, কথা। অর্থাত লোক দেখানোর জন্যে ওয়াজ নসীহত করা,  জ্ঞানগর্ব ও বিজ্ঞ কথাবার্তা বলা,  দৈনন্দিন বাচন পদ্ধতিতে হাদিস ও মহাজন-উক্তি মুখস্থ করা,  মানুষের সামনে যিকরের জন্য ঠোট নাড়াচাড়া করা, জনসমক্ষে ভাল কাজের আদেশ করা এবং মন্দকাজ থেকে বিরত রাখা।
(৪) রিয়ার চতুর্থ প্রকার হচ্ছে, আমল। অর্থাত লোক দেখানোর জন্যে নামাজে দীর্ঘ কেয়াম করা, রুকু ও সেজদা লম্বা করা,  স্থিরতা ও গাম্বীর্য প্রকাশ করা। এমনি ভাবে রোযা,  জেহাদ,  হজ্জ,  সদকা ও খাদ্য খাওয়ানোর মধ্যে রিয়া হয়ে থাকে।
(৫) রিয়ার পঞ্চম প্রকার হচ্ছে সঙ্গী-সাথী ও সাক্ষাতকামী ব্যক্তিবর্গ। উদাহরণত : কোন ব্যক্তি কামনা করে যে, অমুক আলেম অথবা আবেদ তার সাথে সাক্ষাত করতে আসুক, যাতে মানুষ জানে যে, সে খুব দ্বীনদার। তাই এমন আলেম ও আবেদ তার কাছে আসা-যাওয়া করে। অথবা কেউ কোন শাসনকর্তার আগমন প্রত্যাশা করে, যাতে মানুষ মনে করে যে,  সে ধর্মে অত্যন্ত  মর্যাদাবান। তাই শাসনকর্তাও বরকতলাভের জন্য তার কাছে আসে।

পরবর্তী পর্ব-

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...