বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৩

যশ ও রিয়া - (১০) রিয়ার নিন্দা



যশ ও রিয়া (পর্ব - ১০)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দীন - ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

রিয়ার নিন্দা-
কোরআন পাকের আয়াত,  হাদীস শরীফ ও বুযুর্গগণের উক্তি দ্বারা একথা প্রমানিত হয় যে, রিয়া হারাম এবং রিয়াকার আল্লাহর গযবে পতিত। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন: 
>'দুর্ভোগ সেই নামাযীদের জন্য, যারা তাদের নামায থেকে গাফেল, যারা লোক দেখানো নামায পড়ে অর্থাত রিয়া করে।"
আরো আছে, 
>"যারা কুকর্মে লিপ্ত, তাদের জন্য কঠোর শাস্তি রয়েছে। তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ হবেই।"
হযরত মুজাহিদ (রহঃ) এর তাফসীরে বলেন : আয়াতে বর্ণিত লোকেরা হচ্ছে রিয়াকার। অন্য এক আয়াতে বলা হয়েছে- 
>"আমরা কেবল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য তোমাদেরকে অন্ন দেই। আমরা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা আশা করি না।"
এতে আন্তরিকতাসম্পন্ন লোকদের প্রশংসা করা হয়েছে যে, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্যকিছু আশা করে না। রিয়া হচ্ছে এরই বিপরিত। আরও বলা হয়েছে- 
>"অতএব যে তার পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতের আশা করে, সে যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে।"
আয়াতটি এমন লোকদের শানে নাযিল হয়েছে যারা তাদের এবাদত ও সৎকর্মের মজুরী ও প্রশংসা কামনা করত। রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার কাছে একজন লোক প্রশ্ন করল : ইয়া রসূলুল্লাহ ! মুক্তি কিশের মধ্যে? তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, 
>“আল্লাহর অনুগত্যে এমন কাজ না করার মধ্যে, যার উদ্দেশ্য হয় মানুষ”। 
হযরত আবুহুরায়রা (রঃ) কতৃক বর্ণিত শহীদ, দাতা ও কারী সম্পর্কিত এক হাদিসে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের প্রত্যেককে বলবেন- 
>তুমি মিথ্যাবাদী ! তুমি আল্লাহর জন্য যুদ্ধ কবনি। বরং এজন্য করেছ, যাতে মানুষ তোমাকে বীর বলে। তুমি আল্লাহর জন্য দান খয়রাত করনি; বরং দাতা বা দানবীর বলে প্রসিদ্ধ হওয়ার জন্যে করেছ। তুমি আল্লাহর জন্য কোরআন পাঠ করনি;  বরং কারী বলে খ্যত হওয়ার জন্য করেছ।" 
এই হাদিসে রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তারা সওয়াব পায়নি এবং রিয়া তাদের সকল কর্ম বরবাদ করে দিয়েছে”।
এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে- 
>"আমি তোমাদের জন্যে যেসব বিষয়ে ভয় করি, তন্মধ্যে অধিক ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, ‘শির্ক-এ আসগর’ ততা ক্ষুদ্র শিরক।" 
সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন ক্ষুদ্র শিরক কি?  তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘রিয়া’। এরপর তিনি এরশাদ করলেন: 
>“কিয়ামতেরদিন আল্লাহ্ তা'আলা যখন বান্দার ক্রিয়াকর্মের প্রতিদান দিবেন তখন বলবেন : তোমরা দুনিয়াতে যাদের দেখানোর জন্য আমল করতে, তাদের কাছে যাও, এরপর দেখ তাদের কাছে কোন প্রতিদান পাও কিনা?”
হযরত ঈসা (আঃ) ইরশাদ করেন: তোমাদের কেউ যখন রোযা রাখে, তখন মাথায় ও দাড়িতে যেন তৈল লাগিয়ে নেয় এবং ঠোটের উপর যেন হাত বুলিয়ে নেয়,  যাতে মানুষ তাকে রোযাদার মনে না করে। যখন কেউ ডানহাতে কিছু দান করে, তখন যেন বামহাত তা জানতে না পারে। আর নামাজ পড়ার সময় দরজায় পর্দা ছেড়েদেয়া উচিত,  কেননা আল্লাহ্ তা’আলা প্রশংসাও তেমনি বন্টন করেন। যেমন রুযি বন্টন করেন।
এক হাদিসে বর্ণিত আছে, 
>'যখন আল্লাহ্ তা’আলা পৃথিবী সৃষ্টি করলেন, তখন তার উপকার সমুহ কাপতে লাগল। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা পর্বতমালা সৃষ্টি করে সেগুলোকে পৃথিবীর জন্য 
পেরেক স্বরুপ করে দিলেন। ফেরেশতারা পরষ্পর বলাবলি করল: আল্লাহ্ তা'আলা পর্বত অপেক্ষা অধিক শক্ত কোন বস্তু সৃষ্টি করেননি। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা লোহা সৃষ্টি করলেন। সে পাহাড় পর্বতকে কেটে দিল। এরপর আল্লাহ আগুন সৃষ্টি করলেন। সে লোহাকে গলিয়ে দিল। এর পর পানিকে আদেশ করা হল। সে আগুনকে নিভিয়ে দিল। অতঃপর বায়ুকে আদেশ করা হল। সে পানিকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিল।" 
এসব কান্ড দেখে ফেরেশতাদের মধ্যে  মতভেধ দেখাদিল যে, সকলের মধ্যে অধিকতর শক্তিশালী কোন বস্তুটি ? তারা বলল : এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলাকে জিজ্ঞাসা করা দরকার। 
সেমতে তারা আরয করল,-  ইলাহী আপনার সৃষ্টির মধ্যে কোন বস্তুটি সর্বাধিক শক্তিমান? 
এরশাদ হল : 
>'আমার কাছে সবছেয়ে বেশী শক্ত আদম সন্তানের অন্তর। সে ডানহাতে খয়রাত করে;  কিন্তু বাম হাতকে তা জানতে দেয়না। তার চেয়ে অধিক শক্ত কোন বস্তু আমি সৃষ্টি করিনি।

পরবর্তী পর্ব-

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...