হকদারের হক পর্ব- (১১)
মাতাপিতার প্রতি কর্তব্য
মাতাপিতার হক (অধিকার) অতি বিরাট। কারণ, তাঁহাদের ঘনিষ্ঠতা অত্যাধিক। রাসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ সন্তানকে গোলামরূপে পাইয়া মূল্য গ্রহণে তাহাকে আযাদ করিয়া না দেওয়া পর্যন্ত কেহই পিতার হক আদায় করিতে পারে না। হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ
"মাতাপিতার সহিত সদ্ব্যবহার, তাহাদের উপকার ও হিত সাধন, নামায, রোযা, হজ্জ, উমরা, জিহাদ ইত্যাদি অপেক্ষা উৎকৃষ্ট"। হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ
"লোকে পাঁচশত বৎসরের ব্যবধান হইতে বেহেশতের সুগন্ধ পাইবে। কিন্তু অবাধ্য সন্তান ও আত্মীয়তা ছেদনকারী সুগন্ধ পাইবে না"। আল্লাহ্ তা'আলা হযরত মূসা (আ) এর প্রতি ওহী অবতীর্ণ করিলেন : যে ব্যক্তি মাতাপিতার আনুগত্য স্বীকার করে না, আমি তাহাকে অবাধ্য বলিয়া লিপিবদ্ধ করি।
রাসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি মাতাপিতার নামে দান করে তাহার কোন ক্ষতি হয় না। তাহারা উভয়েই সওয়াব পাইয়া থাকে এবং তাহার সওয়াবও কম হয় না। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হইয়া নিবেদন করিল : ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)! আমার মাতাপিতার মৃত্যু হইয়াছে। আমার উপর তাহাদের কি হক আছে যাহা আমার জন্য পালনীয়? হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তাহাদের জন্য নামায পড় এবং ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর তাহাদের প্রতিশ্রুতি ও উপদেশ পালন কর। তাহাদের বন্ধু-বান্ধবের সম্মান কর। তাহাদের প্রিয় ব্যক্তিদের সহিত সদ্ব্যবহার (ইহসান) কর। হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: মাতার হক পিতার হকের দ্বিগুণ।
পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন