রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

হকদারের হক (৫) আল্লাহর শত্রুর শ্রেণী বিভাগ

 

হকদারের হক পর্ব- ৫
📚সৌভাগ্যের পরশমণি   ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
আল্লাহর শত্রুর শ্রেণী বিভাগ
আল্লাহর শত্রুগণ বহু শ্রেণীতে বিভক্ত। সুতরাং তাহাদের প্রতি ক্রোধ পোষণ ও কঠোরতা অবলম্বনেও তারতম্য ঘটিয়া থাকে।
প্রথম শ্রেণী : কাফিরগণ এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। মুসলমানগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-বিগ্রহে রত কাফিরদের প্রতি শত্রুতা স্বতঃই ফরয। তাহাদিগকে (যারা যুদ্ধে লিপ্ত) হত্যা করিতে হইবে।
দ্বিতীয় শ্রেণী : যিম্মী অর্থাৎ জান-মালের নিরাপত্তার প্রতিদানে জিযিয়া কর দান করতঃ ইসলামী রাষ্ট্রের আশ্রয়ে বসবাসকারী অমুসলমানগণ এই শ্রেণীর অন্তর্গত। তাহাদের সহিতও শত্রুতা ফরয। তাহাদের সহিত এরূপ ব্যবহার করিতে হইবে যেন তাহারা গুনাহর পাত্র হইয়া থাকে এবং সম্মান না পায় ও তাহাদের জীবনযাত্রা সংকীর্ণ করিয়া রাখিবে। তাহাদের সহিত বন্ধুত্ব স্থাপন করা মাকরূহ তাহরীমা। এমনকি হারাম হওয়ার সম্ভাবনাও রহিয়াছে। এই সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন :
“যাহারা আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, আপনি তাহাদিগকে সে সমস্ত লোকের সহিত বন্ধুত্ব স্থাপন করিতে দেখিবেন না যাহারা আল্লাহ্ ও তদীয় রসূলের বিরোধী।”
যিম্মীদের উপর নির্ভর করা তাহাদিগকে মুসলমানের উপর শাসক ও বিচারকরূপে নিযুক্ত করা কবীরা গুনাহ্ এবং এইরূপ করিলে ইসলামের অবমাননা করা হয়।
তৃতীয় শ্রেণী : বিদআতীলোক যাহারা মানুষকে শরীয়ত বহির্ভুত নূতন নূতন অপকার্যের প্রতি আহ্বান করে তাহারা এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। তাহাদের সহিতও শত্রুতা প্রকাশ করা আবশ্যক যেন লোকের মনে তাহাদের প্রতি ঘৃণার উদ্রেক হয়। তাহাদিগকে সালাম না দেওয়া, তাহাদের সঙ্গে কথাবার্তা না বলা এবং তাহাদের সালামের জওয়াব না দেওয়াই উত্তম। কারণ, তাহারা বিদআতের প্রতি আহ্বান করিলে লোকে যদি ঐদিকে ঝুঁকিয়া পড়ে তবে বিদআতের পাপ সমাজে বিস্তার লাভ করিবে এবং ঝগড়া-ফাসাদ সৃষ্টি হইবে। কিন্তু বিদআতী ব্যক্তি সাধারণ লোক হইলে এবং সে অপরকে বিদআতের দিকে আহ্বান না করিলে তাহার প্রতি তদ্রূপ কার্য করা অতি সহজ।
চতুর্থ শ্রেণী : এমন পাপী যাহাদের পাপের দরূন মানবের দুঃখ-কষ্ট হইয়া থাকে তাহারা এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। যেমন— অত্যচার, মিথ্যা সাক্ষ্য গ্রহণ ও পক্ষপাতিত্ব করিয়া বিচার করা; কাহারো কুৎসা রটনা করা, পরনিন্দা করা। মানুষের মধ্যে পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ বাধাইয়া দেওয়া। এই শ্রেণীর পাপীদিগ হইতে বিমুখ থাকা এবং তাহাদের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা করা অতি উত্তম কার্য। তাহাদের সহিত বন্ধুত্ব স্থাপন করা ঘৃণ্য কার্য এবং একেবারে হারাম করা হয় নাই। কারণ তাহা হইলে সমাজে বাস করা কষ্টকর হইত।
পঞ্চম শ্রেণী : মদ্যপায়ী ও পাপে লিপ্ত এমন লোকগণ এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত যাহাদের পাপের দরুন অপর লোকের কোন প্রকার দুঃখ-কষ্ট হয় না। এমন লোকের সহিত আচরণ অধিকতর সহজ। সংশোধনের আশা থাকিলে এমন লোকের সহিত নম্র ব্যবহার করা এবং তাহাদিগকে সদুপদেশ প্রদান করা উত্তম। অন্যথায় তাহাদিগ হইতে বিমুখ থাকাই উত্তম। কিন্তু তাহাদের সালামের জওয়াব দেওয়া উচিত এবং তাহাদিগকে অভিশাপ দেওয়া সঙ্গত নহে। রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর যমানায় এক ব্যক্তি কয়েকবার মদ্য পান করে। এই জন্য তাহাকে যথাবিহিত শাস্তি প্রদান করা হয়। এক সাহাবী (রঃ) তাহাকে অভিশাপ করিয়া বলিলেন : তাহার ফাসাদ আর কতদিন চলিবে? রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁহাকে অভিশাপ করিতে নিষেধ করিয়া বলিলেন : শয়তান তাহার শত্রুতার জন্য যথেষ্ট; তুমিও শয়তানের সাহায্যকারী হইও না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...