রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

হকদারের হক (৬) বন্ধুত্বের যোগ্যতা


হকদারের হক পর্ব- ৬
📚সৌভাগ্যের পরশমণি   ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

বন্ধুত্বের যোগ্যতা
যোগ্যতা : সকল মানুষই সংসর্গ ও বন্ধুত্বের যোগ্য নহে; বরং সংসর্গ এমন লোকের সহিত রাখা উচিত যাহার মধ্যে তিনটি গুণ আছে।
(১) বুদ্ধিমত্তা। কারণ, নির্বোধের সংসর্গে কোন কল্যাণের আশা নাই। নির্বোধের সহিত বন্ধুত্ব স্থায়ী হয় না এবং পরিণামে তিক্ততা বৃদ্ধি পায়। কেননা নির্বোধ বন্ধুর উপকার করিতে গিয়া অজ্ঞানতাবশতঃ এমন কাজ করিয়া বসিতে পারে যাহা তাহার অকল্যাণের কারণ হইয়া পড়ে। বুযর্গগণ বলেনঃ নির্বোধ হইতে দূরে থাকা সওয়াব এবং তাহার চেহারা দর্শন করা গুনাহ্। যাহাদের কার্যের হিতাহিত জ্ঞান নাই এবং বলিয়া দিলেও বুঝে না, তাহারাই নির্বোধ।
দ্বিতীয় গুণ :
সৎস্বভাব ও সচ্চরিত্রতা। কারণ, অসৎস্বভাবের লোকের সংসর্গে শান্তি লাভের আশা করা যায় না। যখন তাহার অসৎস্বভাব প্রবল হইয়া উঠিবে তখন সে তোমার প্রতি তাহার বন্ধুত্বের সকল কর্তব্য বিনাদ্বিধায় পদদলিত করিয়া ফেলিবে।
তৃতীয় গুণ :
সততা ও ধর্মপরায়ণতা। কারণ, যে ব্যক্তি পাপে অদম্য হইয়া পড়িয়াছে, এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌কে ভয় করে না তাহাকে বিশ্বাস করা উচিত নহে। আল্লাহ্ কুরআন শরীফে বলেন :
“এইরূপ ব্যক্তির অনুসরণ করিবে না যাহার অন্তরকে আমার যিকির হইতে গাফিল করিয়া দিয়াছে এবং যে স্বীয় প্রবৃত্তির অনুগমন করিয়া থাকে। বিদআতী লোক হইতে দূরে থাকা উচিত। কারণ, তাহার বিদআতের আপদ অপরের উপর প্রভাব বিস্তার করে। অধুনা এক শ্রেণীর বিদআতী গজাইয়া উঠিয়াছে। তাহাদের অপেক্ষা জঘন্য বিদআতী আর নাই। তাহারা বলে : আল্লাহর বান্দাগণকে বাধা প্রদান করা এবং তাহাদিগকে পাপ ও দুষ্কর্ম হইতে বিরত রাখার কোন প্রয়োজন নাই। কারণ, কোন লোকের সঙ্গেই আমাদের শত্রুতা নাই এবং তাহাদের উপর আমরা শাসকও নহি। এই উক্তিতে নিজের জন্য সর্ববিধ কার্য জায়েয করিয়া লওয়ার বীজ নিহিত রহিয়াছে এবং ইহা খোদাদ্রোহিতার মূল। আর ইহা জঘন্যতম বিদআত। এইরূপ বিদআতী লোকদের সহিত মেলামেশা করা কখনই সঙ্গত নহে। কারণ, এই শ্রেণীর বিদআত কুপ্রবৃত্তির পরিপোষক। শয়তান ইহার সাহায্য করিয়া ঐ প্রকার মনোভাবকে বেশ ভালভাবে সাজাইয়া তাহাদের সহিত মেলামেশাকারীর অন্তরে বসাইয়া দিবে এবং অল্পদিনের মধ্যেই তাহাকে স্পষ্ট ইবাহতী (অবৈধ কাজকে বৈধকারী) বানাইয়া দিবে।
হযরত ইমাম জাফর সাদিক (রহঃ) বলেন : পাঁচ প্রকার লোকের সংসর্গ পরিত্যাগ কর। (১) মিথ্যাবাদী। কারণ, তাহার দ্বারা তুমি সর্বদা প্রতারিত হইবে। (২) নির্বোধ। কেননা, নির্বোধ ব্যক্তি তোমার উপকার করিতে গিয়া অজ্ঞানতাবশতঃ তোমার অপকার করিয়া ফেলিবে। (৩) কৃপণ কেননা, কৃপণ নিতান্ত প্রয়োজনকালে তোমার সহিত বন্ধুত্ব বর্জন করিবে। (৪) ভীরু। কারণ এইরূপ ব্যক্তি প্রয়োজনের সময় তোমাকে পরিত্যাগ করিবে। (৫) ফাসিক, কারণ, ফাসিক এক লোকমার বিনিময়ে কিংবা তদপেক্ষা অল্পমূল্যে তোমাকে বিক্রয় করিয়া ফেলিবে।
লোকে জিজ্ঞাসা করিল : এক লোকমা অপেক্ষা অল্প কি? তিনি বলিলেনঃ এক লোকমা-লাভের আশা। হযরত জুনাইদ (রহঃ) বলেন : কুস্বভাবী আলিমের বন্ধুত্ব অপেক্ষা সৎস্বভাবী ফাসিকের বন্ধুত্ব আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
উপরিউক্ত গুণসমূহ সমষ্টিগতভাবে একই ব্যক্তির মধ্যে খুব কমই পাওয়া যায়। অতএব বন্ধুত্বের উদ্দেশ্য কি, বুঝিতে হইবে। কেবল ভালবাসা ও সখ্যতা তোমার উদ্দেশ্য হইলে সচ্চরিত্রবান লোক অন্বেষণ কর। ধর্মীয় কল্যাণ উদ্দেশ্য হইলে পরহিযগার আলিমের অনুসন্ধান কর এবং পার্থিব মঙ্গল উদ্দেশ্য হইলে দানশীল ও দয়ালু ব্যক্তির তালাশ কর। তাহাদের প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শর্ত আছে।
সমাজে তিন শ্রেণীর লোক আছে। এক প্রকার লোক খাদ্যবস্তুর ন্যায় নিত্য প্রয়োজনীয়। তাহাদের ছাড়া লোকের চলে না। অপর এক শ্রেণীর লোক ঔষধসদৃশ। কোন সময় তাহাদের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মানুষ তাহাদের ফাঁদে পড়িয়া যায়। অতএব তাহাদিগ হইতে বাঁচিয়া থাকার জন্য চেষ্টা করা আবশ্যক। মোটকথা এমন লোকের সহিত সংসর্গ রাখা উচিত যাহার দ্বারা তোমার অথবা তোমার দ্বারা তাহার ধর্মীয় কল্যাণ সাধিত হয়।

পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...