নফল নামায - (পর্ব - ১৭)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
জানাযার নামায
এ নামাযের নিয়ম সুবিদিত। এক সহীহ্ রেওয়ায়েতে আওফ ইবনে মালেক (রাঃ) বর্ণিত দোয়াটি এ নামাযে অধিক ব্যাপক। তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে এক জানাযার নামায পড়তে দেখেছি এবং তাতে তিনি যে দোয়া করেন তা দোয়া মুখস্থ করে নিয়েছি। তিনি বলছিলেন-
“হে আল্লাহ, তাঁর মাগফেরাত করুন, তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর প্রবেশ পথ (কবর) বিস্তৃত করুন, তাঁকে বরফ ও শিলার পানি দিয়ে গোসল দিন, তাঁকে গোনাহ থেকে পবিত্র করুন, যেমন আপনি সাদা বস্ত্রকে ময়লা থেকে পবিত্র করেছেন, তাঁকে তাঁর গৃহের বদলে উত্তম গৃহ দিন, তাঁর পরিবারের বদলে উত্তম পরিবার দিন, তাঁর স্ত্রীর বদলে উত্তম স্ত্রী দিন, তাঁকে জান্নাতে দাখিল করুন এবং কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় দিন৷
”হযরত আওফ বলেনএ দোয়া শুনে আমার বাসনা হল, হায়, মৃত ব্যক্তি যদি আমি হতাম এবং রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর এ দোয়া যদি আমার জন্যে হত !
যেব্যক্তি দ্বিতীয় তকবীরে শরীক হয়, সে ইমামের সাথে অবশিষ্ট তকবীরগুলো বলবে এবং সালামের পর ছুটে যাওয়া তকবীরটি আদায় করে নেবে, যেমন মসবুক ব্যক্তি সালামের পর ছুটে যাওয়া রাকআত আদায় করে। তকবীরসমূহই জানাযার নামাযের বাহ্যিক আরকান। সেমতে অন্যান্য নামাযের রাকআতসমূহের স্থলাভিষিক্ত এ নামাযের তকবীরগুলো হওয়া উচিত। এটা আমার মতে অধিক যুক্তিসঙ্গত, যদিও আরও সম্ভাবনা আছে। জানাযার নামাযের সওয়াব এবং এর সাথে গমনের ফযীলত সম্পর্কে অনেক মশহুর হাদীস বর্ণিত আছে। সেগুলো উল্লেখ করে আমরা বিষয়বস্তু দীর্ঘ করতে চাই না। এর সওয়াব অনেক বেশী। কেননা, এটা ফরযে কেফায়া। নফল তার জন্যেই, যার উপর অন্য ব্যক্তির উপস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট হয়ে যায় না। নির্দিষ্ট না হলেও সে ফরযে কেফায়ারই সওয়াব পায়। জানাযার নামাযে অধিক লোকের উপস্থিতি মোস্তাহাব। বেশী লোক হলে দোয়া বেশী হবে এবং তাদের মধ্যে কেউ হয়তো এমনও থাকবে, যার দোয়া কবুল হয়।
কুরায়ব বর্ণনা করেন, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) -এর এক ছেলের ইন্তেকাল হয়ে গেলে তিনি আমাকে বললেন তার জানাযায় কত লোক উপস্থিত হয়েছে দেখ। আমি দেখার পর বললামঃ অনেক লোক হয়েছে। তিনি বললেন চল্লিশ জন হয়েছে? আমি বললাম হাঁ। তিনি বললেন : এখন জানাযা বের কর। আমি রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি- "যদি কোন মুসলমান মারা যায় এবং তার জানাযায় এমন চল্লিশ ব্যক্তি দন্ডায়মান হয়, যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে না, আল্লাহ্ তাআলা তাদের সুপারিশ মৃত ব্যক্তির জন্য কবুল করেন। লোকজন যখন জানাযার সাথে কবরস্থানে পৌছে অথবা এমনিতেও কবরস্থানে যায়, তখন এই দোয়া করবে "গৃহবাসী মুমিন ও মুসলমানদের প্রতি সালাম। আমাদের অগ্রবর্তী ও পরবর্তীদের প্রতি আল্লাহ রহম করুন। আমরাও ইনশাআল্লাহ্ তোমাদের সাথে মিলিত হব।"
দাফন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে প্রস্থান না করা উত্তম। দাফন সম্পন্ন হয়ে গেলে কবরের কাছে দাঁড়িয়ে (দোয়া করবে) বলবে- ইলাহী, আপনার বান্দা আপনার কাছে সমর্পিত হয়েছে। আপনি তার প্রতি রহম করুন। ইলাহী, তার উভয় পার্শ্ব থেকে মাটি সরিয়ে দিন। তার আত্মার জন্যে আকাশের দরজা খুলে দিন, তার আমল কবুল করুন। ইলাহী, সে সৎ হলে সওয়াব দ্বিগুণ করুন এবং গোনাহগার হলে তার গোনাহ্ ক্ষমা করুন।
পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন