বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৪

নফল নামায (পর্ব - ১৬) বৃষ্টির নামায



নফল নামায - (পর্ব - ১৬)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

বৃষ্টির নামায
যখন নদীর পানি শুকিয়ে যায় এবং বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়, তখন মানুষকে তিন দিন রোযা রাখতে বলা ইমামের জন্য মোস্তাহাব। এ সময় ইমাম সকলকে সাধ্যানুয়ায়ী খয়রাত করা, কারও পাওনা থাকলে তা আদায় করা এবং গোনাহ থেকে তওবা করারও উপদেশ দেবে।
এর পর চতুর্থ দিন আবাল বৃদ্ধবনিতাসহ গোসল করে বের হবে। অনুনয় বিনয় প্রকাশ পায় এমন ছেঁড়া বস্ত্র পরিধান করবে এবং বিনয়ের ভঙ্গিমায় গমন করবে। কেউ কেউ বলেন : চতুষ্পদ জীব-জন্তুসমূহ সাথে নিয়ে যাওয়া মোস্তাহাব। হাদীসে বলা হয়েছে- “যদি দুগ্ধপোষ্য শিশু, এবাদতে লিপ্ত মাশায়েখ ও চারণকারী চতুষ্পদ জন্তু না থাকত, তবে তোমাদের উপর আযাব নাযিল করা হত”। 
বিস্তীর্ণ মাঠে একত্রিত হওয়ার পর ইমাম তাদেরকে ঈদের নামাযের ন্যায় দু'রাকআত নামায পড়াবেন ; কিন্তু তাতে অতিরিক্ত তকবীর থাকবে না। 
এর পর দুটি খোতবা পাঠ করবেন। উভয় খোতবার অধিকাংশ বিষয়বস্তু এস্তেগফার অর্থাৎ কৃত গোনাহখাতা থেকে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
দ্বিতীয় খোতবার মাঝখানে ইমাম মুসল্লীদের প্রতি পিঠ ফিরিয়ে কেবলামুখী হয়ে যাবে এবং নিজের চাদর এমনভাবে ওলটপালট করবে , যেন নীচের অংশ উপরে এবং ডানের অংশ বামে চলে যায়। মুসল্লীরাও তাদের চাদরের দিক এমনিভাবে পাল্টে নেবে। তখন আস্তে আস্তে দোয়া করবে। চাদর পাল্টানোর মধ্যে এই শুভ ইঙ্গিত রয়েছে, দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টির স্থিতি এমনিভাবে পাল্টে যাক। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাই করেছেন। এর পর ইমাম মুসল্লীদের দিকে মুখ করে খোতবা শেষ করবে এবং চাদর পাল্টানো অবস্থায়ই থাকতে দেবে। 
দোয়া এভাবে করবে ; "ইলাহী, আপনি আমাদেরকে দোয়া করার আদেশ এবং তা কবুল করার ওয়াদা দিয়েছেন। অতএব আমরা আপনার আদেশ অনুযায়ী দোয়া করছি। এখন আপনার ওয়াদা অনুযায়ী তা কবুল করুন। ইলাহী, আমরা যেসব গোনাহ্ করেছি, সেগুলো মার্জনা করে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। আমাদের রিযিক বৃদ্ধি ও বৃষ্টির জন্যে আমাদের দোয়া কবুল করুন।"

পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...