নফল নামায - (পর্ব - ১১)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
বাৎসরিক নফল নামাজ
চার প্রকার নফল নামায প্রতিবছর একবার করে আদায় করতে হয়—
(১) দু'ঈদের নামায,
(২) তারাবীহ,
(৩) রজবের নামায ও
(৪) শা'বানের নামায।
দু’ঈদের নামায
এই নামায সুন্নতে মোআক্কাদা তথা ওয়াজিব। এটি ধর্মের একটি নিদর্শন। এতে সাতটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত।
(১) তিন বার তকবীর অর্থাৎ নিম্নোক্ত বাক্যাবলী বলা :
الله اكبر الله اكبرُ اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا الْحَمْدُ للهِ كَثِيرًا وَسُبْحَنَ اللهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شرِيكَ لَهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ - وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ .
"আল্লাহু আকবার ,আল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার কবীরা, আলহামদুলিল্লাহি কাতীরা, ওয়া ছোবহানাল্লাহি বোখরাতাওঁ ওয়া-অসিলা। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু মোখলিছিনা লাহুদ্বীনা ; ওয়ালাউ কারিয়্যাল কাফেরুন।"
অর্থাৎ, "আল্লাহ মহান, আল্লাহর জন্যে অনেক প্রশংসা। সকাল সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করি। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি এক , তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁর জন্যে এবাদতকে খাঁটি কর ; যদিও কাফেররা অপছন্দ করে।"
ঈদুল ফেতরের রাত্রি থেকে ঈদের নামায পর্যন্ত এ তকবীরের সময়। ঈদুল আযহায় এ তকবীর ৯ তারিখের ফজর থেকে শুরু করবে এবং ১৩ তারিখের আসর পর্যন্ত চলবে। এতে মতভেদও আছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ উক্তি এটাই। নামাযসমূহের পরে এ তকবীর বলতে হবে ; কিন্তু ফরয নামাযের পরে পড়ার উপর জোর বেশী।
(২) ঈদের দিনের সকালে গোসল করবে, সাজগোজ করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে। পুরুষদের জন্যে চাদর ও পাগড়ী উত্তম।
(৩) এক পথে ঈদগাহে যাবে এবং অন্য পথে ফিরে আসবে। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাই করেছেন। তিনি যুবতী নারী ও পর্দানশীনদেরকেও ঈদে যেতে অনুমতি দিতেন।
(হানাফি মাযহাবে তা নিশেধাজ্ঞা আছে। কারণ পরবর্তীতে হযরত ওমর (রঃ) মহিলাদের মসজিদে গমনে নিষেধাজ্ঞা করেছিলেন)।
(৪) ঈদের নামাযের জন্যে শহরের বাইরে যাওয়া মোস্তাহাব। কিন্তু মক্কা মোয়াযযমা ও বায়তুল মোকাদ্দাসে মসজিদে নামায পড়া উচিত। বৃষ্টি বর্ষিত হলে মসজিদে ঈদের নামায পড়াতে দোষ নেই। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন না হলে ইমাম দুর্বল ও অক্ষম ব্যক্তিদেরকে মসজিদে নামায পড়িয়ে দেয়ার অনুমতি কোন ব্যক্তিকে দেবেন এবং নিজে সমর্থ লোকদেরকে নিয়ে বাইরে যাবেন। সকলেই তকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যাবে।
(৫) সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। ঈদের নামাযের সময় সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্য ঢলে পড়া পর্যন্ত। কোরবানী করার সময় ১০ তারিখে সূর্যোদয়ের এতটুকু পরে শুরু হয়, যতটুকু সময়ের মধ্যে দু'রাকআত নামায ও দু’খোতবা হয়ে যায়। এর পর এই সময় ১৩ তারিখের শেষ পর্যন্ত থাকে। ঈদুল আযহার নামায সকালে পড়া মোস্তাহাব৷ কেননা, নামাযের পরে কোরবানী করতে হয়। ঈদুল ফেতরের নামায দেরীতে পড়া মোস্তাহাব। কেননা, এ নামাযের আগে সদকায়ে ফেতর বন্টন করতে হয়। এটা রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর তরীকা।
(৬) ঈদের নামাযের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে মানুষ তকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যায়। ইমাম সেখানে পৌঁছে বসবে না এবং নফল পড়বে না। অন্যেরা নফল পড়তে পারে। এর পর একজন ঘোষক 'নামায শুরু হচ্ছে' বলে উচ্চ স্বরে ঘোষণা করবে।
অতঃপর ইমাম দু'রাকআত পড়বে। প্রথম রাকআতে তকবীরে তাহরীমা ও রুকুর তকবীর ছাড়া তিন বার আল্লাহু আকবার বলবে।
এর পর 'আলহামদুর পরে সূরা ক্বাফ পাঠ করবে এবং দ্বিতীয় রাকআতে 'সুরা কামার' পড়বে।
দ্বিতীয় রাকআতে কেরাআত শেষে অতিরিক্ত তিন তকবীর বলবে।
এর পর দুটি খোতবা পাঠ করবে এবং মাঝখানে বসবে।
(৭) ভেড়া কোরবানী করবে। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) স্বহস্তে একটি ভেড়া যবেহ করেন এবং বলেন : "শুরু আল্লাহর নামে। আল্লাহ মহান। এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে, যে কোরবানী করেনি"
এক হাদীসে এরশাদ হয়েছে- "যেব্যক্তি যিলহজ্জের চাঁদ দেখে এবং তার কোরবানী করার ইচ্ছা থাকে , সে যেন চুল ও নখ না কাটে"। হযরত আবু আইউব আনসারী (রাঃ) বলেন রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর আমলে একজন তার গোটা পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কোরবানী করত এবং তারা সকলেই খেত ও খাওয়াত। তিন দিন অথবা আরও বেশী দিন কোরবানীর গোশত খাওয়া জায়েয। প্রথমে এটা নিষিদ্ধ ছিল। পরে অনুমতি দেয়া হয়েছে।
সুফিয়ান সওরী (রঃ) বলেনঃ ঈদুল ফেতরের পর বার রাকআত ও ঈদুল আযহার পর ছয় রাকআত নামায পড়া মোস্তাহাব। এটা মসনূন আমল।
পরবর্তী পর্ব
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন