নফল নামায - (পর্ব - ৫)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
শুক্রবার রাত্রি ও দিনের নফল নামাজ
শুক্রবার রাত্রি ও দিনের নফল নামাজ
শুক্রবার রাত্রির নামাজ-
(১) হযরত জাবের (রঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : যে শুক্রবার রাতে মাগরিব ও এশার মাঝখানে বার (১২) রাকআত নামায আদায় করে- প্রত্যেক রাকআতে
> আলহামদু একবার এবং
> এখলাস এগার বার পাঠ করে,
সে যেন আল্লাহ তাআলার এবাদত বার বছর পর্যন্ত এভাবে করল, দিনের বেলায় রোযা রাখল এবং রাতে নফল নামায পড়ল।
(২) হযরত আনাস (রঃ) এর বর্ণনায় রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন যে শুক্রবার রাতে জামাআতের সাথে এশার নামায পড়ে, উভয় সুন্নত পড়ে এবং ফরয ও সুন্নতের পর দশ রাকআত নামায পড়ে, প্রত্যেক রাকআতে আলহামদু, এখলাস, ফালাক ও নাস এক এক বার পাঠ করতঃ বেতেরের তিন রাকআত পড়ে এবং ডান পার্শ্বে কেবলামুখী হয়ে শুয়ে থাকে, সে যেন সমগ্র রাত্রি নফল নামায পড়ল।
(৩) রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ উজ্জ্বল দিনে আমার প্রতি অধিক দরূদ পাঠ কর অর্থাৎ শুক্রবার রাত্রি ও দিনে।
শুক্রবার দিনের নফল নামাজ-
(১) হযরত আলী (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে নবী করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : জুমআর দিন একটি নামায আছে। যে মুমিন বান্দা সূর্য পূর্ণরূপে উদিত হওয়ার পর পূর্ণরূপে ওযু করে ঈমান ও সওয়াবের আশায় চাশতের
>দু'রাকআত নামায পড়ে, তার জন্যে আল্লাহ তাআলা দুশ' নেকী লিখেন এবং দুশ' গোনাহ মার্জনা করেন।
>যে চার রাকআত পড়ে আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তার চারশ' মর্তবা উঁচু করে দেন।
>যে আট রাকআত পড়ে, তার আটশ' মর্তবা উঁচু করেন এবং সকল গোনাহ মাফ করে দেন। আর
>যে বার রাকআত পড়ে, তার জন্যে বারশ' নেকী লিপিবদ্ধ করেন, বারশ' কুকর্ম তার আমলনামা থেকে দূর করে দেন এবং জান্নাতে বারশ’ মর্তবা উঁচু করেন৷
(২) হযরত ইবনে ওমর (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : যেব্যক্তি জুমআর দিন জামে মসজিদে প্রবেশ করে এবং জুমআর পূর্বে চার রাকআত নামাযে প্রত্যেক রাকআতে আলহামদু একবার, সূরা এখলাস পঞ্চাশ বার পাঠ করে, সে মৃত্যুর সময় জান্নাতে তার ঠিকানা দেখে নেবে অথবা তাকে দেখিয়ে দেয়া হবে।
পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন