মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪

দাকায়েকুল আখবার- (১) সৃষ্টি রহস্যের গোড়ার কথা



📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ১)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

সৃষ্টি রহস্যের গোড়ার কথা—
মাওয়া হিবুল্লাদুন্নিয়া ও শরহে মাওয়াহিব এবং মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক কিতাবে হযরত যাবের বিন্ আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, হযরত জাবের (রাঃ) বলেন, একদিন আমি আরজ করিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ! আমার পিতা এবং মাতা আপনার জন্য কোরবান হউক। আপনি আমাকে বলিয়া দিন যে, সকল বস্তু সৃষ্টি করিবার আগে আল্লাহ তা'আলা কোন জিনিস পয়দা করিলেন? 
রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর করিলেন, হে জাবের ! আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবকিছু সৃষ্টি করিবার পূর্বে স্বীয় নূর হইতে তোমার নবীর নূরকে পয়দা করিলেন। তারপর সেই নূর আল্লাহ পাকের মর্জি মোতাবেক বিচরণ করিতে লাগিল। সেই সময়ে লাওহে মাহফুজ, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম, ফেরেশতা, আসমান, যমিন, সূর্য, চন্দ্র, জ্বিন ও ইনসান্‌ কিছুই ছিল না। কেবল আল্লাহ তা'আলা ছিলেন এবং নূরে মুহাম্মদী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর নির্দেশে ভ্রমণ করিতেছিলেন।

তারপর আল্লাহ তা'আলা যখন সৃষ্টিজগত পয়দা করিতে মনস্থ করিলেন, তখন সেই নূর মোবারককে চারিভাগে বিভক্ত করিলেন। 
(১) প্রথম ভাগ হইতে কলম, দ্বিতীয় ভাগ হইতে লাওহে মাহফুজ, তৃতীয় ভাগ হইতে আরশে মোয়াল্লা পয়দা করিলেন। (২) তারপর চতুর্থ ভাগকে চারিভাগে বিভক্ত করিয়া প্রথম ভাগ হইতে আরশে মোয়াল্লা বহনকারী ফেরেশ্তামণ্ডলী, দ্বিতীয় ভাগ হইতে কুর্শী, তৃতীয় ভাগ হইতে অন্যান্য ফেরেশ্তাদিগকে পয়দা করিলেন ।(৩) তারপর চতুর্থ ভাগকে চারিভাগে বিভক্ত করিলেন । ইহার প্রথম ভাগ হইতে আকাশমণ্ডল, দ্বিতীয় ভাগ হইতে ভূমণ্ডল, তৃতীয় ভাগ হইতে জান্নাত এবং জাহান্নাম পয়দা করিলেন। (৪) তারপর ইহার চতুর্থ ভাগকে চারিভাগে বিভক্ত করিলেন। ইহার প্রথম ভাগ হইতে মুমিন বান্দাহদের চোখের নূর, দ্বিতীয় ভাগ হইতে মুমিন বান্দাহদের কলবের নূর ইহাই আল্লাহর মারেফাত এবং তৃতীয় ভাগ হইতে মুমিন বান্দাহদের ভালবাসার নূর ইহাই তাওহীদের মূল সূত্র ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ পয়দা করিলেন। (৫) তারপর ইহার চতুর্থ খণ্ডকে পুনরায় চারিভাগ করিয়া পর্যায়ক্রমে সমস্ত মাখলুকাত পয়দা করিলেন।
হাদীসে কুদ্‌সীতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করিয়াছেন, “হে আমার প্রিয় হাবীব ! আপনাকে সৃষ্টি না করিলে আমি এই জগত সংসার সৃষ্টি করিতাম না।”  অন্য এক হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
“হে আমার প্রিয় হাবীব ! আপনাকে সৃষ্টি না করিলে আমি আকাশমণ্ডল, ভূমণ্ডল, সৃষ্টি করিতাম না এবং আকাশমণ্ডলকে সুউচ্চে স্থাপন করিতাম না এবং ভূমণ্ডলকে নিম্নে বিছানাস্বরূপ করিতাম না।”  অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহু (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ফরমান, 
“আমি তখনও নবী ছিলাম যখন হযরত আদমের (আঃ) অস্তিত্ব পানি এবং কাদার মধ্যে নিহিত ছিল।
”অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন,
“আমি হযরত আদমের (আঃ) চৌদ্দ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহ তা'আলার দরবারে একটি নূর ছিলাম !”  হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করিয়াছেন,
“সমস্ত মাখলুকাত হইতে আমার নিকট যিনি অধিক প্রিয় ও সম্মানিত এবং যাহার পবিত্র নাম আকাশমণ্ডল, ভূমণ্ডল, চন্দ্র, সূর্য সৃষ্টি করার বিশলক্ষ বৎসর পূর্বে আরশে মোয়াল্লাতে আমার নামের পাশে লিখিয়া রাখিয়াছি, তিনিই নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)। তিনি এবং তাহার উম্মতগণ বেহেশতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত অন্যান্যদের বেহেশতে প্রবেশ করা হারাম। ”রাসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন, “হযরত আদমের (আঃ) দেহে রূহ ফুৎকার করার পর যখন তাহার দেহে প্রাণ সঞ্চার হইল, তখন তিনি আরশের দিকে তাকাইয়া দেখিলেন লেখা রহিয়াছে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্।”  তখন আদম (আঃ) তাহার পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলে আল্লাহ তা'আলা বলিলেন, এই নাম আমার প্রিয় হাবীবের। যিনি শেষ যমানায় নবী হইবেন। তাঁহার সৃষ্টি না হইলে তোমাকেও সৃষ্টি করিতাম না। সমস্ত মাখলুকাতের মধ্যে তিনি আমার নিকট বেশী প্রিয়।” 
কলম পয়দা হইয়া সর্বপ্রথম লাওহে মাহফুজে এই কথা কয়টি লিখিল, “আল্লাহ ছাড়া কোনই উপাস্য নাই, আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলাম, হযরত মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দাহ্ ও রাসূল।” সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁহার প্রতি ঈমান আনিবে তাহাকে আল্লাহ তা'আলা বেহেশতে দাখিল করিবেন।

পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...