✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
সমস্ত নবী-রসূলদের থেকে সফত গ্রহণ-
আল্লাহ তা'আলা নূরে মুহাম্মদী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) হইতে সমস্ত রূহ সৃষ্টি করিয়া তাহাদের নিকট হইতে “আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই” বলিয়া স্বীকৃতি তলব করিলেন। তখন সর্বপ্রথম মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) হাঁ বলিয়া স্বীকৃতি প্রদান করিলেন। তারপর আল্লাহ তা'আলা নূরে মুহাম্মদীর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) দ্বারা সমস্ত নবীগণের নূরকে ঢাকিয়া ফেলিলেন। তখন নবীগণের নূর চাহিয়া দেখিল যে, তাহাদের উপর একেকটি নূর চমকাইতেছে। তাহারা এই নূরের পরিচয় জানিতে চাহিলে আল্লাহ তা'আলা বলিলেন , “ইহা নূরে মোহাম্মদী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ! তোমরা যদি তাঁহার উপর ঈমান আনয়ন কর তাহা হইলে আমি তোমাদিগকে নবী পদ দান করিব। "তখন তাহারা প্রত্যেকেই মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে সাইয়্যেদুল মুরছালীন বলিয়া ঈমান আনয়ন করিলেন এবং এই উছিলায়ই তাহারা নবী পদপ্রাপ্ত হইলেন।
আল্লাহ তা'আলা হইলেন, 'রাব্বুল আলামীন' এবং রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) হইলেন ‘রহমতুল্লিল আলামীন'। সমস্ত সৃষ্টজগত রসূলুল্লাহর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) রহমতের অণুকণা ধারণ করিয়া টিকিয়া রহিয়াছে এবং থাকিবে। আল্লাহ তা'আলার পূর্ণ পরিচয় একমাত্র রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ছাড়া আর কেহই লাভ করিতে পারে নাই এবং পারিবেও না। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে মহব্বত করিলেই আল্লাহ তা'আলার মহব্বত লাভ করা যাইবে। অন্যথায় আল্লাহ তা'আলার মহব্বত ও কুদরত হাসিল করা কোন মতেই সম্ভব হইবে না। এইজন্যই পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হইয়াছে, “যদি তোমরা আল্লাহর সহিত বন্ধুত্ব করিতে চাও তাহা হইলে আমার এত্তেবা ও অনুসরণ কর। তবেই আল্লাহ তা'আলা তোমাদিগকে বন্ধুরূপে কবুল করিবেন।”
আল্লাহুম্মা আতিনা হুব্বাকা ওয়া হুব্বা রাসূলিকা মুহাম্মাদিন্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)।
পরবর্তী পর্ব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন