📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ২১)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
মনকির নকীরের পূর্ববর্তী ফেরেশতার বিবরণ-
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, একদা আমি রাসুলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-উনাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “হে আল্লাহর রসূল ! মনকির নকীরের পূর্বে কোন ফেরেশতা কবরে আগমন করে কি”?
প্রত্যুত্তরে আল্লাহর রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিলেন, “হে ইবনে সালাম ! মনকির নকীরের পূর্বে সূর্যের মত উজ্জ্বল চেহারা বিশিষ্ট রোমান নামক একজন ফেরেশ্তা কবরের মধ্যে আগমন করিয়া মৃত ব্যক্তিকে উঠাইয়া বসান এবং উক্ত বান্দাকে তাহার পাপপূর্ণ লিপিবদ্ধ করিতে নির্দেশ করেন। তখন উক্ত বান্দা আরজ করে, “হে স্বর্গীয় ফেরেশতা ! আমি কি দিয়া লিখিব? কাগজ, কলম, কালি কোন কিছুই ত আমার নিকট নাই।” তখন ফেরেশ্তা বলেন, “স্বীয় অঙ্গুলিকে কলমরূপে, মুখকে দোয়াতরূপে আর থুথুকে কালিরূপে ব্যবহার কর।” তখন বান্দা বলিবে, “কাগজ ছাড়া কিসে লিখিব বলুন?” ফেরেশ্তা তাহার কাপড়ের একখণ্ড ছিঁড়িয়া দিয়া বলিবেন, “এখন তোমার যাবতীয় পাপ ও পুণ্য ইহাতে লিপিবদ্ধ কর।” তখন সে তৎক্ষণাত অকুণ্ঠচিত্তে তাহার কৃত পুণ্য কর্মগুলি লিপিবদ্ধ করিবে, কিন্তু পাপকর্মগুলি লিখিতে লজ্জিত হইয়া বসিয়া পড়িবে। তখন উক্ত ফেরেশতা তাহাকে শাসাইয়া বলিবেন, “হে পাপিষ্ঠ নরাধম! দুনিয়ার জীবনে পাপকাজ ও অসৎকর্ম করিতে কোন রকমের লজ্জাবোধ কর নাই, কিন্তু এখন উহা আমার সম্মুখে লিখিতে লজ্জা করিতেছ কেন?” এই বলিয়া তাহাকে প্রহার করিবার জন্য হাতুড়ী উত্তোলন করিলে সে আরজ করিবে, “হে স্বর্গীয় ফেরেশতা ! আমাকে আঘাত করিবেন না, আমি এখনই আনুপূর্বিক সবকিছুই লিখিয়া দিতেছি।” তারপর সে সবকিছুই লিপিবদ্ধ করিবে। তখন ফেরেশতা তাহাকে সেই লেখাগুলি মোহরাঙ্কিত করিতে নির্দেশ দিবেন ।`সে ব্যক্তি পুনরায় বলিবে, “হে স্বৰ্গীয় ফেরেশতা ! আমার নিকট কোন উপকরণ নাই। আমি সীলমোহর করিব কি দিয়া?” ফেরেশতা উত্তর করিবে, “তুমি তোমার নখের সাহায্যে এই কাজ সমাধা কর ।” অতঃপর সে তদনুরূপ করিবে এবং ফেরেশতা তাহার স্বহস্ত লিখিত আমলনামা তাহার গলায় ঝুলাইয়া দিয়া বিদায় হইয়া যাইবেন আর সেই আমলনামা কেয়ামত পর্যন্ত অক্ষত অবস্থায় তাহার গলদেশে শোভা পাইতে থাকিবে। যেমন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা “এবং আমি প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির গলদেশে তাহার আমলনামা টাঙ্গানোর ব্যবস্থা রাখিয়াছি।”
উক্ত 'রোমান' ফেরেশতার প্রস্থানের পর 'মনকির' ও 'নকীর' সে কবরে প্রবেশ করিবে। কেয়ামতের দিন যখন সে তাহার নিজের আমলনামা প্রত্যক্ষ করিবে এবং আল্লাহ তা'আলার নির্দেশে উহা পাঠ করিতে বাধ্য হইবে, তখন সে তাহার পুণ্যকাজের বিবরণাদি পাঠ করিয়া যাইবে। আল্লাহ তা'আলা উহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলে সে উত্তর করিবে, 'হে আল্লাহ! বাকী অংশ পাঠ করিতে আমি লজ্জাবোধ করিতেছি।” আল্লাহ তা'আলা বলিবেন, “হে বান্দা! দুনিয়াতে এইরূপ কাজ করিতে কেন লজ্জাবোধ কর নাই?” তখন সে লজ্জিত হইবে ও নির্বাক হইয়া যাইবে; কিন্তু তাহাতে কোন উপকার সাধিত হইবে না। তখন আল্লাহ তা'আলা আদেশ করিবেন, “ওহে ফেরেশতাগণ ! তাহাকে ধরিয়া জিঞ্জির (শিকল) পরাইয়া দাও এবং জাহান্নামের অনলকুণ্ডে তাহাকে নিক্ষেপ কর।”
পরবর্তী পর্ব
মনকির নকীরের সওয়ালের বিবরণ-

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন