রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪

দাকায়েকুল আখবার- (২২) মনকির নকীরের সওয়ালের বিবরণ



📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ২২)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

মনকির নকীরের সওয়ালের বিবরণ-
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরের মধ্যে রাখা হয়, তখন বিভৎস, কুৎসিত ও ঘোর লোহিত বর্ণ নয়নবিশিষ্ট দুইজন ভয়ঙ্কর মূর্তিধারী স্বর্গীয় ফেরেশতা তাহার কবরে আগমন করে। তাহাদের গলার স্বর মেঘের গর্জনের মত এবং দৃষ্টিশক্তি এতই প্রখর যেন চক্ষুর দৃষ্টিশক্তি হরণকারী বিজলী। উক্ত ফেরেশতাদ্বয় নিজ নিজ দাঁতের দ্বারা মাটি ভেদ করিয়া যখন মৃত ব্যক্তির মাথার নিকট আগমন করিবে, তখন মাথা তাহাদিগকে বাধা দিয়া বলিবে, “হে ফেরেশ্তাগণ! এইদিক হইতে আমাকে কোনরূপ আঘাত করিও না। আমি অহর্নিশি এই স্থানের ভয়ে যথেষ্ট পরিমাণে নামায আদায় করিয়াছি।”
তারপর ফেরেশতাদ্বয় তাহার পদদ্বয়ের দিক হইতে আক্রমণ করিতে সচেষ্ট হইলে পদদ্বয় বলিবে, “এই নেক বান্দা আমার সহায়তায় জুমআ নামায আদায় করিয়াছে এবং জামাতে নামায আদায় করিবার জন্য দৌড়াইয়াছে আর আমার সাহায্যেই নামায আদায় করিতে পারিয়াছে।” 
এইবার দক্ষিণ দিক হইতে আক্রমণ করিবার জন্য অগ্রসর হইতে চাহিলে দক্ষিণ হস্ত বাধা দিয়া বলিবে, “হে স্বর্গীয় ফেরেশ্তা! তোমরা এইদিক হইতে আক্রমণ করিও না, কেননা এই নেক বান্দা আমার দ্বারা প্রচুর দান-খয়রাত করিয়াছে।” 
অতঃপর তাহারা উত্তর দিক হইতে আক্রমণ করিতে প্রবৃত্ত হইবে, কিন্তু সেই পথেও বাধাপ্রাপ্ত হইবে। পরিশেষে তাহারা বান্দার মুখের দিকে আক্রমণ করিতে উদ্যত হইবে, তখন মুখ বাধা দিয়া বলিবে, “হে ফেরেশতাগণ! এইদিক হইতে আক্রমণ করিও না । এই নেকবান্দা আমার সাহায্যে ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিবারণ করিয়াছে এবং পবিত্র রোযাব্রত পালন করিয়াছে।
পরিশেষে ফেরেশতা নিরুপায় হইয়া ঘুমন্ত ব্যক্তির মত মৃতকে জাগ্রত করিয়া জিজ্ঞাসা করিবে, “হে আল্লাহর বান্দা! হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর সম্বন্ধে তোমার কিরূপ ধারণা রহিয়াছে?” প্রত্যুত্তরে সে বলিবে, “আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, তিনি আল্লাহ তা'আলার রাসূল ও বান্দা ছিলেন।” তখন ফেরেশ্তাগণ বলিবে, “হে বান্দা! তুমি পৃথিবীতে বিশ্বাসী ছিলে এবং সেই অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করিয়াছ।” [এটাই হল ঈমানের মূল তথা রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে আল্লাহর অনুগত বান্দা ও চুড়ান্তপর্যায়ে আল্লাহ্ তা'আলার রসূল হিসেবে চিনতে ও জানতে হবে।] 
মনকির নকীর ফেরেশ্তাদ্বয়ের সওয়াল করার রহস্য এই যে, আল্লাহ তা'আলা যখন মানবকুল সৃষ্টি করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছিলেন, তখন ফেরেশতাগণ হযরত আদম (আঃ)-কে দর্শন করিয়া বিদ্রূপ করতঃ বলিয়াছিল, “হে আল্লাহ ! আপনি কি এমন মানবকুল সৃষ্টি করিতে চান, যাহারা সেখানে কলহ-বিবাদ ও বিসম্বাদে নিমগ্ন হইবে এবং পরস্পর রক্তারক্তি করিয়া পৃথিবীতে অশান্তির সৃষ্টি করিবে।” 
প্রত্যুত্তরে আল্লাহ তা'আলা বলিয়াছিলেন, “হে ফেরেশতাগণ ! আমি যাহা জানি তোমরা তাহা জান না।” এই জন্য আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথমে কবরের মধ্যে দুইজন ফেরেশতা প্রেরণ করিয়া মুমিন বান্দার তৌহিদ ও রেসালত সম্বন্ধে সওয়াল করিয়া পরীক্ষা করিবার ব্যবস্থা করিয়াছেন। আর তাহাদিগকে পুনরায় ফেরেশ্তার সম্মুখে মুমিন বান্দার কথিত বিষয় জ্ঞাপন করিতে নির্দেশ দান করিয়াছেন। কেননা সাক্ষ্যের জন্য দ্বি-বচনই যথেষ্ট বলিয়া পরিগণিত। পরিশেষে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাগণকে উদ্দেশ্য করিয়া বলেন, 'হে ফেরেশতাগণ! আমি কেবলমাত্র তাহার আত্মা কবজ করিয়াছি, অথচ তাহার দাস-দাসী, স্ত্রী-পুত্র ধন-রত্ন সবকিছুই অন্যের জন্য রাখিয়াছি এবং সে বন্ধু-বান্ধবহীন একাকী কবরের মধ্যে পড়িয়া রহিয়াছে। সেখানে আমি ছাড়া তাহার অন্য কোন সহায়-সম্বল নাই; সুতরাং এমতাবস্থায় তোমরা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিয়া দেখ, “তোমার প্রতিপালক কে? তোমার নবী কে? আর তুমি কোন ধর্মাবলম্বী?” তখন সে নিঃসঙ্কোচে বলে, 'আমার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা, আমার নবী হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এবং আমার ধর্ম ইসলাম। আর আমার অধিক জ্ঞানের বিষয় হইল ইহাই।

পরবর্তী পর্ব
কিরামান কাতেবীনের বিবরণ-

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...