📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ১৯)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
বিপদে ধৈর্য্য অবলম্বন করা
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসুলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করিয়াছেন, কলম সর্বপ্রথম আল্লাহ তা'আলার নির্দেশে লৌহ মাহফুজে এই কথাগুলি লিখিয়াছে, “আমিই উপাস্য, একমাত্র উপাস্য। আমি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নাই। আর হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আমার প্রিয় বান্দা ও রাসূল। আমার সৃষ্টজীবের মধ্যে তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ।” লৌহে মাহফুজে আরও লেখা হইল, যাহারা আমার বিধি-নিষেধ প্রতিপালন করিবে, আমার নেয়ামতের শোকর গুজারী করিবে, আর বিপদে ধৈর্যধারণ করিবে, তাহাদিগকে আমি কিয়ামতের দিন সাহাবিগণের মধ্যে পরিগণিত করিব এবং যাহারা আমার আদেশ নিষেধ অগ্রাহ্য করিবে, বিপদে অধৈর্য হইবে আর আমার প্রদত্ত নেয়ামতের শোকর গুজারী করিবে না, তাহারা যেন আমার আকাশের সীমানা ছাড়িয়া অন্য কোথাও চলিয়া যায় এবং আমাকে ছাড়া অন্যকে উপাস্যরূপে খুঁজিয়া লয়। হযরত ফকিহ আবু লায়েস (রহঃ) বলিয়াছেন, “বিপদে ধৈর্যধারণ করতঃ আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করা প্রত্যেক মানুষের একান্ত দরকার। কারণ, সেই সময় আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করিলে তাঁহার হুকুম প্রতিপালিত হয় এবং শয়তানকে তিরস্কার করা হয়। আর ইহাতে আল্লাহ তা'আলা সেই বান্দার প্রতি খুশী হন।”
হযরত আলী (রাঃ) বলিয়াছেন, “ধৈর্য তিন শ্রেণীতে বিভক্ত। যেমন— এবাদত-বন্দেগীতে ধৈর্যধারণ করা, বিপদে ধৈর্যধারণ করা এবং বালা-মছিবতে ধৈর্যধারণ করা।
যাহারা এবাদত-বন্দেগীতে ধৈর্য অবলম্বন করিবে, আল্লাহ তায়ালা তাহাদিগকে রোজকিয়ামতে তিনশত উচ্চস্থান বা উচ্চমর্যাদা প্রদান করিবেন এবং প্রত্যেক দুই স্থানের মধ্যবর্তী উচ্চতা আকাশ পাতালের সমতুল্য হইবে। আর যাহারা বিপদে ধৈর্যধারণ করিবে, তাহাদিগকে রোজকিয়ামতে সাতশত মর্তবা প্রদান করা হইবে। প্রত্যেক দুই মর্তবার উচ্চতা আসমান যমিনের সমতুল্য হইবে। আর যাহারা বালা-মছিবতে ধৈর্য অবলম্বন করিবে, আল্লাহ তায়ালা তাহাদিগকে নয়শত মর্তবা প্রদান করিবেন, প্রত্যেক দুই মতবার উচ্চতা আরশ ও ভূ-মণ্ডলের সমতুল্য হইবে।”
পরবর্তী পর্ব
দেহ হইতে রূহ্ কবজের বিবরণ-

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন