হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন কোন ব্যক্তি মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তখন কেহ যদি উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করিতে করিতে সেই গৃহে প্রবেশ করে, তাহা হইলে মালাকুল মউত সেই গৃহের দরওয়াজায় দাঁড়াইয়া ঘোষণা করেন, “হে মানবমণ্ডলী! তোমরা এরূপ করিতেছ কেন? আমি তোমাদের কাহারও হায়াত বা ধন-সম্পদ বিনষ্ট করি নাই এবং কাহারও উপর অত্যাচার করি নাই। তোমরা যদি আমার কাজে অসন্তুষ্ট হইয়া ক্রন্দন করিয়া থাক, তবে জানিয়া রাখিও, আমি আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ পালনকারী দাসানুদাস মাত্র। আর যদি মৃত ব্যক্তির জন্য ক্রন্দন করিয়া থাক, তবে জানিয়া রাখিও, সে ছিল নিতান্ত অসহায়। আর যদি আল্লাহ তা'আলার আদেশের কারণে ক্রন্দন করিয়া থাক, তবে তোমরা আল্লাহ তা'আলার শোকর গুজারী হইতে বঞ্চিত হইয়া কুফুরী করিতেছ। আল্লাহর শপথ দিয়া বলিতেছি যে, অবশ্যই তোমাদের নিকটও আমাকে আসিতে হইবে আর তোমরা কেহই আমার হাত হইতে রেহাই পাইবে না।”
ফকীহগণের অভিমত এই যে, মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চৈঃস্বরে চীৎকার করা হারাম; কিন্তু আওয়াজহীন ক্রন্দনে কোন ক্ষতি নাই তবে ধৈর্যধারণ করাই সর্বোত্তম। আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করিয়াছেন- “ইন্নামা ইয়াতাওফ্ফাছ ছাবিরুনা আজরুহুম বিশ্বাইরি হিছাব” অর্থাত: - “অবশ্যই ধৈর্যশীলদিগকে অসংখ্য প্রতিদান প্রদান করা হইবে।” হযরত নবীয়ে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন, “উচ্চৈস্বরে ক্রন্দনকারীগণ ও তাহাদের সাহায্যকারীগণ এবং শ্রবণকারী ও নিকটবর্তী সকলেই আল্লাহ তায়ালা ও ফেরেশতাগণ এবং সমস্ত মানুষ অভিসম্পাত করিয়া থাকে।”
বর্ণিত আছে, হযরত হাসান ইবনে আলী (রাঃ) যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁহার স্ত্রী এক বৎসর পর্যন্ত তাঁহার কবরের উপর পড়িয়াছিলেন। এক বৎসর পর তাবু উঠানো হইলে কবরের মধ্যস্থল হইতে এই আওয়াজ তিনি শুনিতে পাইলেন, “ওহে! যাহাকে তুমি হারাইয়াছ, তাহাকে কি তুমি পাইয়াছ?” হুযুর করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর পুত্র হযরত ইব্রাহিম (রাঃ) যখন ইন্তেকাল হন, তখন তাঁহার চক্ষুদ্বয় হইতে অশ্রু ঝড়িতেছিল। ইহা দর্শন করিয়া হযরত আবদুর রহমান আরজ করিলেন, “হুযুর আপনিতো আমাদিগকে এইরূপ করিতে নিষেধ করিয়াছেন?” প্রত্যুত্তরে তিনি বলিলেন, “আমি মাত্র দুইটি পাপ আওয়াজ ও দুইটি আহাম্মকি কাজ হইতে বিরত থাকিতে বলিতেছি। উহা হইল বিলাপের ও গানের সুরে ক্রন্দন করা, পোশাক-পরিচ্ছদ ছিন্ন করা এবং গলদেশে আঘাত হানা কিন্তু অশ্রু বিসর্জনে কোন দোষ নাই। আল্লাহ তা'আলা রহমতস্বরূপ দয়ালুদের হৃদয়ে উহা স্থাপন করিয়াছেন।” তারপর তিনি বলিলেন, “হে ইব্রাহিম! তোমার বিচ্ছেদে আমার হৃদয় ব্যথিত এবং চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হইয়া পড়িয়াছে।”

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন