সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

দাকায়েকুল আখবার- (৩০) বেহেশ্তী বাহন বোরাকের বিবরণ



📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ৩০)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

বেহেশ্তী বাহন বোরাকের বিবরণ-
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, বোরাক এক প্রকার বেহেশতী জানোয়ার । ইহার দুইটি পাখা আছে। ইহা আকাশে ও পৃথিবীতে উড়িতে সক্ষম। ইহার মুখ মানুষের মত ও আরবী ভাষায় কথাবার্তা বলিবে। মুখমণ্ডল সুপ্রশস্ত ও সিং অত্যন্ত মোটা হইবে, কিন্তু উভয় কর্ণদ্বয় সবুজ জবরজদ নির্মিত অত্যন্ত চিকন হইবে। উহার লেজ গাভীর লেজের মত লোহিত স্বর্ণাভ ও শরীর গরু কিংবা ময়ূরের মত এবং ইহার আকৃতি গর্দভ হইতে বড় ও খচ্ছর হইতে ছোট হইবে। বিদ্যুৎসম দ্রুতগামী হইবে! এইজন্য ইহাকে বলা হইবে বোরাক বা বিদ্যুৎ।
হুযুর করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উহাতে চড়িবার ইচ্ছা করিলে ইহা নড়াচড়া করিয়া বলিবে, “আমার আল্লাহর মান-সম্মানের শপথ, হাসেমী, কোরায়েশী, আবতায়ী বংশের নবী-আবদুল্লাহর পুত্র হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে ভিন্ন অন্য কাহাকেও আমার পিঠে সওয়ার লইতে আমি দিব না।” তখন মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিবেন, “ওহে বোরাক! সেই হাসেমী, আবতায়ী ও কোরায়েশী হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) হইলাম আমিই।”
তারপর মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বোরাকে সওয়ার হইয়া আরশের নীচে পৌছিয়া সিজদায় পড়িয়া যাইবেন! আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে সম্বোধন করিয়া বলিবেন, “হে মুহাম্মদ! মস্তক উত্তোলন করুন! কেননা আজ এবাদতের দিন নহে। আজ পাপ-পুণ্যের বিনিময়ে বেহেশত-দোযখ লাভ ও হিসাব নিকাশের দিন। মাথা উঠাইয়া নিজ উম্মতের জন্য শাফায়াত করুন। আপনার শাফায়াত কবুল করা হইবে। তারপর হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ফরিয়াদ করিবেন, “হে আল্লাহ! আপনার মর্যাদার শপথ, আমি কি শুধুমাত্র স্বীয় উম্মতের জন্যই শাফায়াত করিব?" আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে প্রবোধ দিয়া বলবেন, “হে মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি যাহাতে সন্তুষ্ট থাকেন তাহাই হইবে। যেমন আল্লাহ পাক এরশাদ করিয়াছেন- (“ওয়ালা ছাউফা ইউত্বিকা রাব্বুকা ফাতারদ্বা”।) "আপনার পালনকর্তা আপনাকে এত প্রাচুর্য দেবেন যে, আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।"।(সুরা আদ-দোহা : ৫)
তারপর আল্লাহ তা'আলা আকাশকে প্রবল বারি বর্ষণের নির্দেশ দিবেন। সঙ্গে সঙ্গে চল্লিশ দিন পর্যন্ত অনর্গল বৃষ্টিপাত হইবে। ফলে প্রত্যেক জিনিসের উপর বারহাত পুরু পানি জমিবে। সেই পানির দ্বারা আল্লাহ তা'আলা সমস্ত জীবকে শস্য-দানার মত তড়িৎ পুনরাকৃতি দান করিবেন এবং আকাশ ও যমিনকে একত্রে জড়াইয়া হাতের মুঠিতে তুলিয়া বলিবেন, “বল, অদ্যকার বাদশাহী কাহার? সবাই নিরুত্তর থাকিবে। পুনঃপুনঃ তিনবার জিজ্ঞাসা করিয়াও যখন উত্তর মিলিবে না, তখন স্বয়ং তিনি ঘোষণা করিবেন, “কেবল মাত্র অনন্ত শক্তিশালী আল্লাহর জন্যই।” পুনরায় বলিবেন, “সেই গর্বোন্নত রাজা-মহারাজাগণ আজ কই? আর যাহারা আমার প্রদত্ত পদ ও ভোগ্যবস্তু ভোগ করিবার পরও আমি ব্যতীত অন্যের এবাদত করিয়াছে, তাহারাই বা আজ কোথায়?” তারপর পর্বতশৃঙ্গ তুলার মত উড়িয়া যাইবে এবং আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীকে পরিবর্তন করতঃ উহাতে বেহেশতের বাগান ও সাদা রূপার মত বেহেশতে পরিবর্তন করিবেন হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রশ্ন করিলাম, “যেদিন পৃথিবী পৃষ্ঠ পরিবর্তিত হইয়া যাইবে, সেদিন মানুষ কোথায় দাঁড়াইবে?” উত্তরে আঁ হযরত (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম), বলিলেন, “হে আয়েশা! তুমি একটি জটিল প্রশ্নের অবতারণা করিয়াছ। জানিয়া রাখ, সেদিন মানুষ পুলছিরাতের উপর অবস্থান করিতে থাকিবে।”

পরবর্তী পর্ব 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...