📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ২৯)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
সৃষ্টি জগতের পুনরুত্থান -
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ যখন জীব জগতের পুনরুত্থানের আশা করিবেন, তখন জিব্রাইল (আঃ), হযরত মিকাইল (আঃ) হযরত ইস্রাফীল (আঃ) ও হযরত আজরাইল (আঃ)-কে পুনর্জীবিত করিলে হযরত ইস্রাফীল (আঃ) আরশের উপর হইতে সিঙ্গা হাতে তুলিয়া স্বীয় হস্তে ধারণ করিবেন। তারপর আল্লাহ তায়ালা বেহেশতের তত্ত্বাবধানকারী রেদওয়ান ফেরেশতার নিকট গমন করিতে নির্দেশ দিবেন। তাহারা উপস্থিত হইয়া বলিবেন, “হে রেদওয়ান! আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ অনুসারে হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁহার ঈমানদার উম্মতের জন্য বেহেশতকে সাজাও।” অতঃপর তাহারা বেহেশত হইতে দুইটি বেহেশতী লেবাছ, লেওয়ায়ে হাম্দ ও একটি বোরাক আনয়ন করিবেন। চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে সর্বপ্রথম বোরাকই জীবিত হইবে। বোরাককে সজ্জিত করিবার জন্য আল্লাহ তা'আলা তাহাদিগকে নির্দেশ দান করিবেন; সুতরাং তাহার লাল ইয়াকুতে আচ্ছাদিত জিনপোষ, সবুজ জিনপোষ, জবরজদ তৈরী লাগাম এবং হলুদ ও সবুজ রংয়ের দুইটি পরিচ্ছদে ইহাকে সাজাইয়া হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর পবিত্র রওজার নিকট উপস্থিত করিতে বলিবেন; কিন্তু সুসমতল পৃথিবী পৃষ্ঠে পবিত্র রওজা শরীফকে চিহ্নিত করিতে না পারিলে অকস্মাৎ নূরে মুহাম্মদি রওজা শরীফ হইতে সুদূর আকাশের প্রান্ত পর্যন্ত খাম্বার মত জাহির হইবে। ইহা দেখিয়া হযরত জিব্রাইল (আঃ) হযরত ইস্রাফীল (আঃ)-কে বলিবেন, “হে ইস্রাফীল! আপনি মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে আহ্বান করুন। কারণ আপনার দ্বারাই সমস্ত জীবজগৎ পুনর্জীবন লাভ করিবে।” উত্তরে তিনি বলিবেন, “হে জিব্রাইল! আপনিই সম্বোধন করুন! কেননা পৃথিবীতে আপনি তাঁহার দোস্ত ছিলেন। তিনি সলজ্জভাবে তাহা প্রত্যাখ্যান করিলে হযরত ইস্রাফীল (আঃ) হযরত মিকাইল (আঃ)-কে বলিবেন, “আপনি আঁ হযরত (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে পুনরুত্থানের নিমিত্ত আহ্বান করুন।” কিন্তু কোন সাড়া পাওয়া যাইবে না। তারপর সকলে হযরত আজরাইল (আঃ)-কে আহ্বান করিতে বলিবেন, “হে পবিত্র রূহ! পবিত্র শরীরে ফিরিয়া আসুন।” এইবারও উত্তর পাওয়া যাইবে না। পরিশেষে হযরত ইস্রাফীল (আঃ) জোর গলায় বলিবেন, “হে পবিত্র রূহ! আল্লাহ পাকের দীদার ও হিসাব নিকাশের জন্য উত্থিত হউন।” এমন সময় রওজা শরীফ চৌচির হইয়া যাইবে। ইহাতে বসিয়াই নবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্র মাথা ও দাড়ি মোবারকের ধূলাবালি মুছিয়া থাকিবেন। হযরত জিব্রাইল (আঃ) তাঁহাকে হোল্লা পরিধান করিয়া বোরাকে আরোহণের জন্য আবেদন করিলে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিবেন, “বল বন্ধু! আজ কোন দিন?" প্রত্যুত্তরে তিনি বলিবেন—“আজ বিরহ-বিচ্ছেদ ও মিলনের দিন! আজ তিরস্কার, অনুতাপ, লজ্জা ও অপমানের দিন!”
হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিবেন, “হে দোস্ত! আমাকে সুসংবাদ প্রদান করুন। অন্যথায় আমি উঠিব না।” জিব্রাইল (আঃ) মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-উনাকে বোরাক, লওয়ায়ে হাম্দ, বেহেশতী হোল্লার কথা বিবৃত করিবেন, হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিবেন, “হে দোস্ত! আমি এই খবর জিজ্ঞাসা করি নাই। মূলতঃ আমার পাপী উম্মতদের কথা জিজ্ঞাসা করিতেছি? তাহাদিগকে কি আপনি পুলছিরাতের উপর ছাড়িয়া দিয়া আসিয়াছেন?” জিব্রাইল (আঃ) উত্তর করিবেন, “হে মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)। আল্লাহর শপথ, এই পর্যন্ত পুনরুত্থানের সিঙ্গা বাজানো হয় নাই।” ইহা শ্রবণান্তে আঁ হযরত (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিবেন, “এখন আমার প্রাণে শান্তি আসিয়াছে এবং আঁখিদ্বয় সুস্থির হইয়াছে।" অতঃপর তিনি হোল্লা ও তাজ পরিধান করতঃ বোরাখে আরোহণপূর্বক যাত্রা করিবেন।
পরবর্তী পর্ব-
বেহেশ্তী বাহন বোরাকের বিবরণ

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন