মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (২০) জীবিকা-পদ্ধতি



মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন -৩

📚 হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (পর্ব- ২০)
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসী দেহলভী (রহঃ)

জীবিকা-পদ্ধতি 
জীবিকা-পদ্ধতির বিষয়টি এমন বিদ্যা যা জীবন ধারার দ্বিতীয় রূপ রেখায় বর্ণিত হয়েছে। তার সারকথা এইপ্রথম পর্যায়ের জীবন ধারার প্রয়াসগুলোকে সঠিক অভিজ্ঞতার কষ্টি পাথরে যাচাই করে বিশেষ রূপ দান। সেগুলো একদিকে যেমন ক্ষতিমুক্ত হবেঅন্যদিকে হবে কল্যাণকর। যা কিছু ক্ষতিকর বা কল্যাণমুক্ত প্রমাণিত হয়েছে তা বর্জন করা হবে। তা ছাড়া প্রথম পর্যায়ের পদ্ধতিগুলো সে সব চারিত্রিক মানদণ্ডে যাচাই করা প্রয়োজনযা পূর্ণাঙ্গ ও সুস্থ স্বভাবের মানুষের প্রকৃতিতে জন্মগত ভাবেই সুরক্ষিত রয়েছে। সে সব পূর্ণাঙ্গ চরিত্রের অনুকূল ও আকাঙ্ক্ষিত রূপ রেখাই হবে সঠিক জীবিকা-পদ্ধতি। সেটাই গ্রহণ করে অন্যগুলো বর্জন করা উচিত। তারপর সে রীতিগুলোকে সর্বসাধারণের ভেতর উত্তম সংসর্গ ও সুন্দর আদান-প্রদানের মানদণ্ডে উতরে নিতে হবে। এভাবে সেগুলোর নির্ভুলতা সম্পর্কে অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হবে। সাধারণ সংস্কারের জন্য সর্বসম্মত অভিমতের আলোকে তা করতে হবে। 
জীবিকা ও জীবন পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হল খানা-পিনাচলা-ফিরাউঠা-বসামেহমানদারীপ্রস্রাব-পায়খানাস্ত্রী-সহবাসপোশাক-পরিচ্ছদঘর-বাড়ীপাক-পবিত্রতাসাজ-সজ্জাআলাপ-আলোচনাসেবা-শুশ্রূষাওষুধ-তাবিজমহামারী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ প্রয়াসসন্তান-সন্ততি হওয়াবিয়ে-শাদী করাঈদ উদযাপনঅতিথি-মুসাফির খাওয়ানোবিয়ের ওলিমা কিংবা মেহমানদারীর ভোজোৎসববিপদাপদে হা-হুতাশ ও কান্নাকাটিমৃতের দাফন-কাফন ব্যবস্থা ইত্যাদি। 
প্রধান প্রধান শহর ও জনপদের সুস্থ প্রকৃতির বিবেক সম্পন্ন লোক এ ব্যাপারে একমত যেঅপবিত্র ও অপরিচ্ছন্ন জিনিস খাওয়া উচিত নয়। যেমনমৃত পশুদুর্গন্ধময় বস্তু এবং অপ্রকৃতিস্থ ও জঘন্য স্বভাবের জীব-জন্তু। তাই এগুলো থেকে বাঁচা প্রয়োজন। সকল রুচি সম্পন্ন বিবেকবান ব্যক্তিই চান যেখানা বরতনে রাখা হোক এবং বরতন রাখার জন্য দস্তরখানা বিছানো হোক ইত্যাদি। এটাও সবাই পসন্দ করে যে খাবার আগে হাত-মুখ ধোয়া হোক। এটাও সর্বসম্মত রীতি যেউগ্রতাক্রোধ কিংবা এ ধরনের যে সব কাজে সংগী-সাথীদের অন্তরে বিষাদ আসে তা বর্জন করা চাই। এটাও সার্বজনীন অভিমত যেদুর্গন্ধময় পানি পান করা ঠিক নয়। তেমনি গোগ্রাসে পানি পান করাও উচিত নয়। 
বিবেক সম্পন্ন ও রুচি মার্জিত ব্যক্তিরা এ ব্যাপারেও একমত যেদুধরনের পংকিলতা থেকে দেহবসন ও আসন পবিত্র থাকা প্রয়োজন। একদুর্গন্ধময় বস্তু থেকে। দুইপ্রকৃতিগত পংকিলতা থেকে। যেমন বাসিমুখ দাঁতন দিয়ে ধোয়াকিংবা অনভিপ্রেত লোম থেকে দেহকে মুক্ত রাখা। এভাবে কাপড়ের ময়লা ও বাড়ী-ঘরের আবর্জনা দূর করা। 
সুস্থ প্রকৃতির লোক এ ব্যাপারেও দ্বিমত রাখেন না যেমানুষ মানুষের মাঝে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও রুচি মার্জিত ভাবে থাকবে। সুন্দর পোশাক পরবে। মাথার চুল ও দাড়ি সুন্দর করে রাখবে। বিবাহিতা নারী হাত-পা রাংগিয়ে অলংকার ভূষিতা হয়ে থাকবে। 
এ ব্যাপারেও তারা মতৈক্য রাখেন যেনগ্নতা লজ্জাকর। পোশাক সৌন্দর্য বাড়ায় লজ্জাস্থান আবৃত থাকা অপরিহার্য গোটা দেহকে ঢেকে রাখে যে পোশাক সেটাই পূর্ণাঙ্গ পোশাক। লজ্জাস্থান ঢেকে রাখার জন্য অপরিহার্য পোশাক ও গোটা অংগ ঢাকার পোশাকের আলাদা পরিমাপও তারা নির্ধারণ করে থাকেন। 
এটাও তাঁদের সর্বসম্মত মত যেস্বপ্নজ্যোতির্বিদ্যাফালনামা ইত্যাদি দ্বারা ভবিষ্যতের ঘটনাবলী সম্পর্কে আগাম কিছু জানা যায়। 
তা ছাড়া রুচি মার্জিত বিবেকবান ব্যক্তি মার্জিত ভাষায় কথা পছন্দ করেন। শ্রুতিমধুর বাক-বিন্যাস ও সংযত ভাষাপ্রয়োগ তাঁর বৈশিষ্ট্য হবে ও বাকভংগী আকর্ষনীয় হবে। তার কথাবার্তা ও বিবৃতি ভাষণ মানুষকে মুগ্ধ ও আকৃষ্ট করবে। এ ধরনের লোকই ভাষা ও সাহিত্যের মানদণ্ড হয়ে থাকে।
মোট কথাপ্রত্যেক ক্ষেত্রেই এমন কতগুলো সর্বসম্মত রীতি থাকে যা শহর ও জনপদ সমানে প্রতিপাল্য ও সর্বজন মান্য হয়। যে কোন দূর দূরান্তরের শহর ও জনপদে এ রীতি অনুসৃত হয়ে থাকে। যেমনচিকিৎসা বিজ্ঞানীরা চিকিৎসা শাস্ত্রের বিধি-বিধান অনুসরণ করা পছন্দ করেনতেমনি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নক্ষত্রের গতিবিধির আলোকে নিজেদের জীবন ধারা নিয়ন্ত্রিত করেন। আর আল্লাহ বিশ্বাসীরা ইসলাম ও ইহসানের ভিত্তিতে তাদের জীবনধারা গড়ে তোলেন এবং ঐশী গ্রন্থে সে জীবন পদ্ধতির পরিপূর্ণ রূপরেখা সবিস্তারে বিবৃত রয়েছে। ফলে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মন-মেজাজচাল-চলন ও রীতি-নীতিতে সুস্পষ্ট পার্থক্য পরিদৃষ্ট হয়।
পরবর্তী পর্ব 

মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন -৪
পারিবারিক ব্যবস্থা 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...