মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (১৯) প্রথম সংগঠন



মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন -২

📚 হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (পর্ব- ১৯)
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসী দেহলভী (রহঃ)

প্রথম সংগঠন ভাষা
এ সংগঠনের প্রথম ভিত্তি হল ভাষা। ভাষার মাধ্যমেই মানুষ তার ভাবের আদান-প্রদান ঘটায়। ভাষার মূলে রয়েছে কাঠামোপ্রকৃতি ও প্রক্রিয়া। এ সব মিলেই কোন না কোন ধ্বনি সৃষ্টি হয়। এ ধ্বনি অবশ্যই কোন না কোন সম্পর্ক বা কারণ থেকে হয়ে থাকে। ঐ ধ্বনিই হুবহু ভাষা হয়ে প্রকাশ পায়। তারপর তার অর্থের দিক থেকে শব্দ উদ্ভাবন করে তা বিন্যস্ত করা হয়। তার ফলে যে ব্যাপারটি সামনে ভেসে উঠে কিংবা ব্যক্তির মনের যে ভাবের উদ্রেক করেসেটাকেই প্রথম সংগঠনের ভিত্তি মূল ভাষা নাম দেয়া হয়। তখন সেই ভাষার অনুরূপ ভাষা তৈরী করা হয় এবং কোন সম্পর্ক বা সামঞ্জস্যের কারণে তাকে ব্যঞ্জনার দিক থেকে বেশ প্রসারতা দেয়া হয়। ভাষা সম্পর্কিত আরও কিছু মূলনীতি আপনারা আমার অন্যান্য বক্তব্যে কোথাও কোথাও পাবেন। 
এ প্রথম সংগঠনের ভেতর ভাষা ছাড়া ক্ষেত-খামার করাগাছপালা লাগানোকূপ খননখানা পাকান এবং রুটি ও বিভিন্নরূপ খাদ্য তৈরী রয়েছে। বিভিন্ন পাত্র তৈরী এবং প্রয়োজনীয় নানা যন্ত্রপাতি উদ্ভাবনও এর অন্তর্ভুক্ত। চতুষ্পদ জীবকে অনুগত করে কাজ লাগানোতা বাহনরূপে ব্যবহারতার দুধ-গোশত ভক্ষণহাড় ও লোমের ব্যবহার এবং বংশাবলী রক্ষা ও ব্যবহার এরই অন্তর্ভুক্ত। এ পর্যায়ে মানুষ শীত-গ্রীষ্ম থেকে বাঁচার জন্য গুহা কিংবা ঘরের ব্যবহার জানতে পায়। চতুষ্পদ জীবের চামড়াগাছের বল্কল কিংবা পাতা দিয়ে কাপড় তৈরীও এ কালের কাজ। মানুষের জন্য তা পাখীর পালকের মতই কল্যাণ দেয়। নির্দিষ্ট বিয়ে-শাদীও এ অধ্যায়ে আসে। অপরের কুৎসা বা হস্তক্ষেপ থেকে বাঁচার জন্য তা করা হয়। এ থেকে মানুষ তারকামনা চরিতার্থের সাথে বংশধারাও অব্যাহত রাখে। তার ঘরকন্না ও সন্তান পালনের কাজ দেয়। মানুষ ছাড়া অন্যান্য জীব এভাবে স্ত্রী নির্দিষ্ট করতে পারে না। সেগুলোর জোড় বাঁধার ব্যাপারটি নেহাৎ আকস্মিক। হয় সে দুটো একই সাথে জন্ম নেয় বলে পূর্ণত্ব লাভ করা পর্যন্ত এক সঙ্গে থাকে কিংবা অন্য কোন কারণে তারা জোড় বেঁধে থাকতে বাধ্য হয়। 
এ সমাজ ব্যবস্থায় কারিগরীর দিকেও নজর পড়ে। যেমনকৃষি খামারবাগান তৈরীকূপ খননপশু পালন এবং পানি সিঞ্চনের জন্য ফোয়াড়ামশক ইত্যাদির উদ্ভাবন। তাছাড়া পরস্পরের সামগ্রিক প্রয়োজন মিটানোর জন্য পারস্পরিক দ্রব্য বিনিময় পদ্ধতির সূত্রপাত হয় এবং বিভিন্ন কাজে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রচলন হয়। 
এ ব্যবস্থায় এমন লোকও দেখা যায় যিনি সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারতেন। তিনি নিজ শক্তিতে অন্যান্যকে আয়ত্ত করতে পারেন এবং কোন না কোন উপায়ে নিজ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। এমন কি অনুবর্তীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন। 
এ ধরনের লোকদের কতগুলো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত থাকে। তার সাহায্যে তাঁরা বিরোধ-বিসম্বাদ মিটিয়ে থাকেন। তা দিয়ে অত্যাচারী ও উচ্ছৃঙ্খলদের দমিয়ে রাখেন। তাঁদের বিরোধী শক্তির সাথে লড়তে পারেন। প্রত্যেক গোত্র ও সম্প্রদায়ের ভেতর এরূপ লোক থাকা এক অপরিহার্য ব্যাপার। যে কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে তাঁরা ভেবে-চিন্তে এরূপ রীতি-নীতি উদ্ভাবন করে থাকেন যা সবাই অনুসরণ করে থাকে। তাঁদের একদল বেশ মার্জিত রুচির হন। তাঁরা কোন না কোন উপায়ে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন পসন্দ করেন। কিছু লোক তাঁদের চারিত্রিক মহত্ত্ববীরত্বদানশীলতাপাণ্ডিত্য ও শিল্প-সাহিত্যে গৌরবময় ভূমিকা নেন। এমন লোকও থাকেন যাঁর দুনিয়া জোড়া খ্যাতির চমক জাগে। তিনি নিজ শান শওকত বাড়িয়ে সবার শীর্ষে ঠাঁই নেন। 
এটা অবশ্য বান্দার ওপর আল্লাহর বিরাট অনুগ্রহ যেতিনি কুরআন পাকে মানবীয় জীবন ধারার সর্ব ইলহামী (স্বভাবগত) শাখাগুলো সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। কারণ আল্লাহ জানতেনকুরআনের পাঠক সব ধরনের লোকই হবে। তাই সব মানুষের জীবন ধারাই তাতে রয়েছে এবং সেগুলোই এখানে বলা হল।

পরবর্তী পর্ব
মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন -৩
জীবিকা-পদ্ধতি 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...