শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৪

মারেফতের মর্মকথা (২০) আখলাকের দু'টি শ্রেণি

 

📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ১৯)  ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)

আখলাকের দু'টি শ্রেণি—
আখলাক বা সৎ চরিত্রের দু'টি শ্রেণি রয়েছে। প্রথম স্রষ্টার সাথে সৎ স্বভাব অপরটি সৃষ্টির প্রতি সদ্ব্যবহার।
(ক)  আল্লাহর সাথে সদ্ব্যবহার করার অর্থ এই যে, বান্দা আল্লাহর বিধানে রাজি থাকবে। তার কোন কাজেই অভিযোগ করবে না। তার সকল আদেশ-নিষেধ আনত মস্তকে মেনে নিবে।
(খ) সৃষ্টির সাথে সৎ স্বভাবের অর্থ হচ্ছে: সৃষ্টির প্রতি আল্লাহ তায়ালা তাকে যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন- আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অবশ্য তা পালন করবে এবং নিঃস্বার্থভাবেই আদায় করবে।
হজরত মারতায়াশ (র.) বলেন: সৎ স্বভাবের নামই হচ্ছে তাসাউফ। 
তা তিন প্রকার—
(ক)মহান আল্লাহর প্রতি সদ্ব্যবহার করা। অর্থাৎ তার সকল আদেশ-নিষেধ তাঁরই সন্তুষ্টি বিধানার্থে বিনা বাক্যব্যয়ে মান্য শাশনা করা।
(খ) সৃষ্টির সাথে সদ্ব্যবহার করা। অর্থাৎ বয়স্কদের সাথে সম্মানজনক মাতা আচরণ করা। ছোটদের প্রতি স্নেহ করা এবং সমবয়সীদের সাথে সমান ব্যবহার করা (নিঃস্বার্থভাবে)।
(গ) শয়তান ও কুপ্রবৃত্তির আনুগত্য না করা।
হজরত জোনায়েদ বাগদাদি (রহঃ) বলেন:- তাসাউফের ৮টি নিদর্শন। যথা: সাখাওয়াত, রেজা, সবর, ইশারাত, গুরবাত, পশমী পোশাক, সিয়াহাত এবং আল-ফাকর। নিচে এসবের ঊদাহরণ লিখাহল।
(১) সাখাওয়াত (দানশীলতা)। এর উদাহরণ হজরত ইবরাহীম (আ.)। তিনি তাঁর এবং পুত্রের জীবন আল্লাহর পথে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন।
(২) রেজা (আল্লাহর সন্তুষ্টি)। এর উদাহরণ হজরত ইসমাঈল (আ.)। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আত্মোৎসর্গ করেছিলেন।
(৩) সবর (ধৈর্য) এর প্রতীক হজরত আইউব (আ.)। নিজের চোখের সামনে পরিবারের সকলকে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখে এবং নিজের সর্ব শরীর কীটে খেয়ে ফেলার পরও তিনি কোনদিন অধৈর্য হন নি।
(৪) ইশারাত (ইঙ্গিত) এর উদাহরণ হজরত যাকারিয়া (আ.)। তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং ইঙ্গিত ইশারায় কাজ সম্পাদন করতেন।
(৫) গুরবাত (অপরিচিত হওয়া) এর উদাহরণ হজরত ইয়াহইয়া (আ.) তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজের দেশেও অপরিচিত ছিলেন।
(৬) পশমী পোশাক পরিধান- হজরত মূসা (আ.) পশমী পোশাক ব্যবহার করতেন।
(৭) সিয়াহাত (ভ্রমণ) এর উদাহরণ ছিলেন হজরত ঈসা (আ.)। তিনি একটি পানপাত্র ও একটি চিরুনী সাথে নিয়ে গৃহ ত্যাগ করেন। পথিমধ্যে একজনকে আঙ্গুল দিয়ে চুল বিন্যাস এবং অঞ্জলি ভরে পানি পান করতে দেখে পান পাত্র এবং চিরুনীও ফেলে দিয়েছিলেন।
(৮) আল-ফাকর (দরিদ্রতা) এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হুজুরে আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুনিয়া যাপনে। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করার জন্য আল্লাহ পৃথিবীর সকল সম্পদের চাবি তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু একদিন পেট ভরে খাওয়া এবং দুই দিন অনাহারে থাকাকেই তিনি অধিক পছন্দ করলেন। আবার তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন: হে আল্লাহ! আপনি আমাকে দরিদ্র অবস্থায় জীবিত রাখুন দরিদ্র অবস্থায়ই মৃত্যু দান করুন এবং দরিদ্রদের সাথে হাশর করুন।

পরবর্তী পর্ব—
প্রকৃত সুফির গুণাবলি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...