প্রকৃত সুফির গুণাবলি—
তাসাউফ ও সুফি শব্দ দুটি মূলে ছাফা তথা পবিত্রতা ধাতু থেকে নির্গত। তার বিপরীত শব্দ হলো, অপরিচ্ছন্নতা। তাই যে ব্যক্তি স্বীয় চরিত্র; আচার ব্যবহার সুন্দর করে, স্বভাবকে অন্যায়-অনাচার থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর দাসত্ব করার গুণাবলি নিজের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে আয়ত্ব করে নেয় সে-ই সুফি এবং আাসাউফধারীদের মধ্যে পরিগণিত হয়।
অতএব সুফির আসল কাজ হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ধ্যান-ধারণা অন্তর থেকে বিলীন করে দেওয়া এবং পৃথিবীর প্রতি নির্লিপ্ত এবং অনাসক্ত হওয়া।
হজরত আবু বকর (রা.)-এর মাঝে যে এই দুইটি স্বভাব পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান ছিল।
হজরত আবু বকর (রা.) এর মধ্যে উক্ত দু'টি স্বভাব যে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান ছিল তার প্রমাণ এতেই দেখা যায় যে মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর ইনতিকালের পর মদিনাবাসী মুসলিম পাগল প্রায় হয়ে গেলেন। এমনকি তারা সুষ্ঠু চিন্তাধারার ক্ষমতাও অনেকটা হারিয়ে ফেললেন। যার দরুন হজরত ওমর (রা.) খোলা তরবারি হাতে পাগলের মতো বলেছিলেন যে ব্যক্তি বলবে মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যুবরণ করেছেন আমি এই তরবারি দ্বারা তার মস্তক ছিন্ন করে ফেলব।
হজরত আবু বকর (র.) এই সংবাদ পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে যান তিনি ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধি করে বললেন—
“তোমরা যারা মুহাম্মদের ইবাদত করছ তারা জেনে রেখ মুহাম্মদের মৃত্যু রয়েছে। আর যারা মুহম্মদের প্রভুর ইবাদত করছ তারাও জেনে রেখ যে তিনি জীবিত; তিনি অমর তার মৃত্যু নেই”। সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই অর্থ যুক্ত কুরআনের আয়াত পাঠ করলেন- “অন্যান্য নবিদের মতো মুহাম্মদও আল্লাহর একজন রাসূল। তার পূর্বে বহু রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন। তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন তবে কি তোমরা (ধর্ম হতে) পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে ফিরে যাবে?” (সূরা: আলে-ইমরান- ১৪৪)
হজরত আবু বকরের বাণী ও আল্লাহর এরশাদ শুনে সত্যের উপাসকদের দিব্যদৃষ্টি খুলে যায়। হজরত ওমর (রাঃ) উন্মুক্ত তরবারি দূরে ফেলে দিয়ে মাটিতে বসে পড়লেন।
এই দু'টি বস্তু হতে হজরত আবু বকর (রা.) এর অন্তর একেবারে শূন্য ছিল।
এর প্রমাণে আরও একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে যে, তাবুক যুদ্ধের প্রাক্কালে হজরত আবু বকর তাঁর যথা সর্বস্ব মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে এনে হাজির করলেন। মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, “আবু বকর! তোমার পরিবার পরিজনের জন্য কী রেখে এসেছ?” হজরত আবু বকর স্মিত হাস্যে আরজ করলেন: “আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের মহব্বত এবং অনুসরণ।
এই দুটি বিষয়ই তাসাউফ এবং সুফিদের আসল সম্পদ।
হজরত জুননূন মিসরি (রহ.) বলেন:
“যে সত্য বলে এবং যার প্রতিটি পশম এই সাক্ষ্যদান করে যে দুনিয়ার কোন প্রকার আসক্তি তার মাঝে নেই সে-ই সুফী।”
তাসাউফ ও সুফি শব্দ দুটি মূলে ছাফা তথা পবিত্রতা ধাতু থেকে নির্গত। তার বিপরীত শব্দ হলো, অপরিচ্ছন্নতা। তাই যে ব্যক্তি স্বীয় চরিত্র; আচার ব্যবহার সুন্দর করে, স্বভাবকে অন্যায়-অনাচার থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর দাসত্ব করার গুণাবলি নিজের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে আয়ত্ব করে নেয় সে-ই সুফি এবং আাসাউফধারীদের মধ্যে পরিগণিত হয়।
অতএব সুফির আসল কাজ হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ধ্যান-ধারণা অন্তর থেকে বিলীন করে দেওয়া এবং পৃথিবীর প্রতি নির্লিপ্ত এবং অনাসক্ত হওয়া।
হজরত আবু বকর (রা.)-এর মাঝে যে এই দুইটি স্বভাব পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান ছিল।
হজরত আবু বকর (রা.) এর মধ্যে উক্ত দু'টি স্বভাব যে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান ছিল তার প্রমাণ এতেই দেখা যায় যে মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর ইনতিকালের পর মদিনাবাসী মুসলিম পাগল প্রায় হয়ে গেলেন। এমনকি তারা সুষ্ঠু চিন্তাধারার ক্ষমতাও অনেকটা হারিয়ে ফেললেন। যার দরুন হজরত ওমর (রা.) খোলা তরবারি হাতে পাগলের মতো বলেছিলেন যে ব্যক্তি বলবে মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যুবরণ করেছেন আমি এই তরবারি দ্বারা তার মস্তক ছিন্ন করে ফেলব।
হজরত আবু বকর (র.) এই সংবাদ পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে যান তিনি ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধি করে বললেন—
“তোমরা যারা মুহাম্মদের ইবাদত করছ তারা জেনে রেখ মুহাম্মদের মৃত্যু রয়েছে। আর যারা মুহম্মদের প্রভুর ইবাদত করছ তারাও জেনে রেখ যে তিনি জীবিত; তিনি অমর তার মৃত্যু নেই”। সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই অর্থ যুক্ত কুরআনের আয়াত পাঠ করলেন- “অন্যান্য নবিদের মতো মুহাম্মদও আল্লাহর একজন রাসূল। তার পূর্বে বহু রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন। তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন তবে কি তোমরা (ধর্ম হতে) পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে ফিরে যাবে?” (সূরা: আলে-ইমরান- ১৪৪)
হজরত আবু বকরের বাণী ও আল্লাহর এরশাদ শুনে সত্যের উপাসকদের দিব্যদৃষ্টি খুলে যায়। হজরত ওমর (রাঃ) উন্মুক্ত তরবারি দূরে ফেলে দিয়ে মাটিতে বসে পড়লেন।
এই দু'টি বস্তু হতে হজরত আবু বকর (রা.) এর অন্তর একেবারে শূন্য ছিল।
এর প্রমাণে আরও একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে যে, তাবুক যুদ্ধের প্রাক্কালে হজরত আবু বকর তাঁর যথা সর্বস্ব মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে এনে হাজির করলেন। মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, “আবু বকর! তোমার পরিবার পরিজনের জন্য কী রেখে এসেছ?” হজরত আবু বকর স্মিত হাস্যে আরজ করলেন: “আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের মহব্বত এবং অনুসরণ।
এই দুটি বিষয়ই তাসাউফ এবং সুফিদের আসল সম্পদ।
হজরত জুননূন মিসরি (রহ.) বলেন:
“যে সত্য বলে এবং যার প্রতিটি পশম এই সাক্ষ্যদান করে যে দুনিয়ার কোন প্রকার আসক্তি তার মাঝে নেই সে-ই সুফী।”
পরবর্তী পর্ব —
(০৪) সুফিদের শ্রেণিবিন্যাস
(০৪) সুফিদের শ্রেণিবিন্যাস

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন