মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (২৮) মানব সমাজে প্রচলিত রীতি-নীতি



মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ১০ 

📚 হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (পর্ব- ২৮)
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসী দেহলভী (রহঃ)

মানব সমাজে প্রচলিত রীতি-নীতি 
জেনে রেখোমৌলনীতির সাথে সামাজিক রীতি-নীতির সম্পর্কটা জেনে রেখোমৌলনীতির সাথে সামাজিক রীতি-নীতির সম্পর্কটা হচ্ছে অন্তর ও দেহের সম্পর্ক। সব ধর্মেরই পয়লা উদ্দেশ্য এটাই। আল্লাহর শরীয়াতের সকল আলোচ্য বিষয় ও নির্দেশাবলী সেটাই কেন্দ্র করে এসেছে। 
কয়েকটি কারণে এই রীতি-নীতিগুলো জন্ম নেয়। একমনীষীবৃন্দের জ্ঞান-গবেষণা ও ফেরেশতা স্বভাবের আলোকে সাহায্যবদ্ধ আল্লাহদত্ত ইলহাম। 
দুইকোন বড় ধরনের রাজা-বাদশাহ কর্তৃক অনুসৃত পদ্ধতি। তিনমানব সমাজের পছন্দনীয় মনগড়া পদ্ধতি যা কতগুলো ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণার কারণে কঠোরভাবে অনুসৃত হয়। তারা তা অনুসরণে কল্যাণ ও বর্জনের অকল্যাণ দেখতে পায়। ফলে তাদের নেতৃস্থানীয় লোকেরাও তা বর্জন করলে নিন্দা করে থাকে। 
আমি যা কিছু বললাম তার সত্যতা যে কোন জ্ঞানীলোক সহজেই মেনে নেবে যখন সে দেখতে পাবেকোন রাষ্ট্রে হয়ত একটি রুসম রেওয়াজ বা রীতি-নীতি মূলত ভাল। কারণতার মাধ্যমেই ব্যক্তি জীবন ধ্যান-ধারণা ও আমলের ক্ষেত্রে পূর্ণতা লাভ করে। সামাজিক রীতি-নীতির শৃঙ্খলমুক্ত জীবন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চতুষ্পদ জীবনের পর্যায়ে নেমে যায়। অনেকেই বিয়ে-শাদী ও অন্যান্য ব্যাপারাদি সামাজিক রীতি অনুসারে যথাযথ ভাবে সম্পাদন করে থাকে। কিন্তু যখন তাদের কাজে এ সব রীতি-নীতির বাঁধন মেনে চলার কারণ জিজ্ঞেস করা হয়তখন তারা স্বজাতির অনুকরণ করার কথা বলা ছাড়া অন্য কোন জবাব দিতে পারে নাবড় জোর সে রুসমের একটা মোটামুটি ধারণা তাদের থাকে যা তারা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলতে পারে না। হয়ত তারা সেটার উপকারিতা ও গুণাবলী বলে দেবে। এ ধরনের লোক যদি উক্ত রীতি-নীতি না মানততাহলে তাকে পশুর পর্যায়ে মনে করা হত। 
এ সব রীতি-নীতির ভেতরে কখনও খারাপ রীতিও ঢুকে পড়ে। ফলে লোকদের পক্ষে ভাল-মন্দ নির্ধারণ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। খারাপ রীতির কারণ এটাই যেকখ্নও কোন খারাপ লোক নেতা হয়ে যায়যার দৃষ্টি থাকে সীমিত ও সংকীর্ণ। তার সামনে মানব সমাজের সামগ্রিক কল্যাণের দিকটি থাকে অনুপস্থিত। ফলে সে হিংস্র পশুর আচার-আচরণ চালায়। যেমনডাকাতিআত্মসাৎ ইত্যাদি। কখনও তার থেকে কামনা চরিতার্থতার কাজ প্রকাশ পায়। যেমনঘুষ খাওয়ামাপে কম দেয়া ইত্যাদি। কখনও পোশাক-আশাক ও আনুষ্ঠানিক খাওয়া-দাওয়ার বাহুল্য খরচ চালু করেযা সংগ্রহ করতে যথেষ্ট আয়োজন করতে হয়। কিংবা তার আমোদ-প্রমোদ ও বিলাস-ব্যসনের ঝোঁক বেড়ে যায়। ফলে ধনভাণ্ডার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শূন্য ও অচল হয়ে যায়। যেমননাচ-গানজুয়া-পাশাশিকার ও প্রমোদ বিহারপশু পাখীর রেস ইত্যাদি। তখন শুন্য ভাণ্ডার পূর্ণ করার জন্য বহিরাগতদের ওপর মোটা কর আরোপ করা হয় ও জনগণ থেকে এত বেশী রাজস্ব আদায় করা হয় যেতারা নিঃস্ব হয়ে যায়। কিংবা তার মর্মজ্বালা ও হিংসা বেড়ে যায়ফলে সে লোকদের সাথে এমন দুর্ব্যবহার করে চলে যা তার নিজের বেলায় সে পছন্দ করে না। অথচ তার দাপটের কারণে কেউ তাকে কিছু বলতে পারে না। 
এ ধরনের নেতৃত্বের অনুসারী হয় পাপাচারী দুষ্ট চরিত্রের লোকেরা। তারা তার সহায়ক হয়ে উক্ত অনাচারগুলো সমাজে ছড়াতে থাকে। তখন সমাজে এমন জনগোষ্ঠী সৃষ্টি হয়যাদের ভেতর না ভাল করার উৎসাহ থাকেআর না মন্দ কাজ বর্জন করার ইচ্ছা হয়। পরবর্তীকালে নেতাদের খারাপ কাজগুলো তাদের ধাতস্থ হয় এবং তারাও তা করতে উদ্যোগী হয়। এক সময় দেখা যায়ভাল কাজের সে সমাজে কোন পাত্তাই মেলে না। এরূপ সমাজে অবশেষে ভাল চরিত্রের অবশিষ্ট লোকগুলো অগত্যা চুপ মেরে যায়। তাদের এ চুপসে যাওয়ার সুযোগেই মন্দ রীতি-নীতিগুলো সমাজে পাকাপোক্ত ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। 
তাই যথার্থ ভাল লোকদের ওপর অপরিহার্য হল সত্যের প্রচার ও প্রসার এবং অসত্যের প্রতিরোধ ও উৎখাতের জন্য আপ্রাণ অব্যাহত প্রয়াস চালানো। 
অনেক ক্ষেত্রে এরূপ কাজ ঝগড়া-বিবাদ ও দাংগা লড়াই ছাড়া সম্ভব হয় না। এ কারণেই ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াইকে সকল পূণ্য কাজের সেরা পূণ্য কাজ বলে গণ্য করা হয়েছে। এভাবে যখন নেক কাজের রীতি-নীতিগুলো চালু হয়ে যায়তখন তা স্থায়ীভাবে আসন গেড়ে বসে ও যুগ যুগ ধরে লোক জীবনের বাজী ধরে সেটাকে বাঁচিয়ে রাখে। সেটা এমন ভাবে প্রত্যেকের মন-মগজে ঠাঁই নেয় যেতা কোথাও থাক বা না থাকযে কোন অবস্থায় সেটাকে সে অপরিহার্য রীতি হিসেবে মেনে চলে। শুধু মাত্র কলুষিত আত্মার লোকেরানির্বোধরা কিংবা কামনা-বাসনার দাস ও স্বার্থান্ধরা ছাড়া তার বাইরে কেউ পা রাখতে রাজী হয় না। তবে সে সব লোকজনও যখন তার বাইরে চলতে চায়তখন অন্তত মনে তার পাপবোধ থেকেই যায়। তখন সে তার সামগ্রিক কল্যাণের পক্ষে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তারপর সে যখন বেপরোয়াভাবে তা করে চলেতখন বুঝতে হবে তার আত্মা রুগ্ন ও অসুস্থ হয়ে গেছে। তখন সে তার সমাজ ও রীতি-নীতির জন্য কলংক হয়ে দাঁড়ায়। 
যখন কোন সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণময় রীতি-নীতি পুরোপুরি চালু হয়ে যায়তখন উচ্চ পরিষদের ফেরেশতাগণ এর সহায়কদের জন্যে দোয়া ও বিরোধীদের জন্যে বদদোয়া করতে থাকেন। ফলে সুমহান পবিত্র সত্তা সহায়কদের প্রতি সন্তুষ্ট ও বিরোধীদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যায়। যখন এভাবে কোন কল্যাণময় সমাজ ও রাষ্ট্র কায়েম হয়তখনই সেই মহান উদ্দেশ্য সাধিত হয়যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ পাক মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন।

পরবর্তী পর্ব
মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ১১ 
মানবিক বৈশিষ্ট্যবৈশিষ্ট্যের তাৎপর্য 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...