মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ৯
সার্বজনীন মানবিক মৌলনীতি
আবাদ পৃথিবীর সকল রাষ্ট্র ও সভ্য জাতিপুঞ্জের প্রতিটি জাতিই বাবা আদম (আঃ) থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কোন না কোনভাবে মানবিক প্রয়োজনের মৌলনীতিগুলোর মতৈক্য বজায় রেখে চলছে। যদি কেউ তার বিরোধিতা করতে চায় তো সর্বস্তরের লোক তাকে খারাপ জানে। সে নীতিগুলো এরূপ সর্বজনবিদিত ও স্বীকৃত যে, প্রকাশ্য দিবালোকের মতই তা সুস্পষ্ট। হয়ত সেগুলো শাখা-প্রশাখায় কিছুটা মতানৈক্য দেখা যায় সেটাকে আমার বক্তব্যের পরিপন্থী মনে করা যায় না।
উদাহরণ স্বরপ বলা যায়, মৃতের সৎকার নীতিতে সার্বজনীন মতৈক্য রয়েছে। তবে তার পদ্ধতিতে মতানৈক্য দেখা দেয়। কোন সম্প্রদায় তাঁকে মাটির নিচে দাফন করে, কোন সম্প্রদায় তাকে জ্বালিয়ে ভস্ম করাকেই উত্তম মনে করে। তেমনি বিয়ের ব্যাপারটি; সবাইকে জানানোর নীতিতে সবাই একমত। উদ্দেশ্য হল, বিয়ে ও ব্যভিচারের পার্থক্য সৃষ্টি করা। তথাপি তার পদ্ধতিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। একদল সাক্ষী, ইজাব-কবুল ও ওলিমা করে তা সম্পন্ন করে, অপর দল আবার গান-বাজনা ও জাঁকজমকের পোশাক দিয়ে তা সম্পন্ন করে। ব্যভিচারী ও চোরকে শাস্তি দেয়ার নীতিতে সবাই একমত। তবে তার পদ্ধতিতে পার্থক্য দেখা যায়। এক সম্প্রদায় প্রস্তরাঘাতে মৃত্যু দণ্ড ও হাত কাটার বিধান দেয়, অন্য সম্প্রদায় কঠোর মারপিট, সশ্রম কারাদণ্ড, মোটা অংকের জরিমানা ইত্যাকার শাস্তির ব্যবস্থা করে।
আলোচ্য সর্বসম্মত মূলনীতির ব্যাপারে দু’শ্রেনীর লোকেরা মতানৈক্য ধর্তব্য নয়। কারণ, তারা সভ্য সমাজের নিম্নস্তরে থেকে জীব-জানোয়ারের আচার-আচরণ অনুসরণ করে। যেমন, মানব সমাজের বড় একটি অংশ মূর্খ ও নির্বোধ হওয়ায় তারা কোন নিয়ম-শৃঙ্খলার বাঁধনে থাকতে নারাজ! তাদের এ বাঁধনমুক্ত উচ্ছৃঙ্খল জীবনের কামনাই প্রমাণ করে যে, তারা আহাম্মক। দ্বিতীয় দল হল, পাপাচারী। তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ করে দেয় পাপাসক্তি! তাই তাদের অন্তর থেকে যদি পাপাসক্তি বিলুপ্ত করা যায়, তাহলে তারাও সুশৃঙ্খল জীবনের পক্ষপাতী হয়ে যায়। তারা তাদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবৃত্তির তাড়নায় অস্থির হয়ে অপরের মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করে থাকে বটে, কিন্তু কেউ যদি তার মা বোনদের ইজ্জত নষ্ট করে, তাহলে ক্রোধে ফেটে পড়ে। এতে বুঝা যায়, উক্ত খারাপ কাজটি যে খারাপ সে ব্যাপারে তার অন্যান্যের মতই উপলব্ধি রয়েছে। সে এটাও বুঝে যে, এ কাজ সামাজিক জীবনকে কলুষিত করে। কিন্তু প্রবৃত্তির তাড়না তাকে ক্ষণিকের জন্য অন্ধ করে ফেলে। চুরি, আত্মসাৎ ইত্যাদির অবস্থাও তাই।
এ ক্ষেত্রে কেউ যেন ভেবে না বসে যে, এ মৌলনীতির মতৈক্যটা ঠিক পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের লোকের রুটি তৈরী করে খাওয়ার মতই একটি ব্যাপার। এরূপ ধারণা হবে এক মস্ত বড় ধোঁকা। কারণ, একটি হল প্রকৃতিগত ঐক্য, অপরটি হল বিবেকগত ঐক্য। এ দুটির ভেতরে আকাশ-পাতাল তফাত। মানবিক বিবেক, ভৌগোলিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক সব ব্যবধান ডিংগিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে যে, আলোচ্য মৌলনীতিগুলো স্বভাবতই এক হবে। সে মানবিক সহজাত স্বভাব মানুষ হিসেবে মানুষের ভেতরে তা অহরহ ঘটার কারণে এবং মানবিক চরিত্র ও সুস্থ বদ্ধির প্রভাবে সৃষ্ট হয়ে থাকে।
যদি কোন লোক লোকালয় থেকে দূরে কোন জংগলেও লালিত-পালিত হয়, সে যদি লোকালয়ের লোকের অনুসৃত রীতি-নীতি সম্পর্কে কিছুই জানতে না পায়, তথাপি তার ক্ষুধা লাগবে, পিপাসা সৃষ্টি হবে, কামনা-বাসনাও দেখা দেবে। নিঃসন্দেহে তার ভেতরে নারীর প্রতি আকর্ষণ জন্ম নেবে। তারপর সেই সন্তান নিয়ে তারা পারিবারিক জীবন যাপন করবে। ফলে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচার-আচরণ প্রকাশ পাবে। এটাই মানব সমাজ ও রাষ্ট্রের পয়লা স্তর। তারপর যখন তাদের সংখ্যা বাড়বে, তখন অবশ্যই তাদের ভেতর মেধাবী ও চরিত্রবান লোক দেখা দেবে। তখন তাদের ভেতর এমন সব কাজ-কারবার হবে, যার ফলে ধীরে ধীরে সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তরের রীতি-নীতিই অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।
আবাদ পৃথিবীর সকল রাষ্ট্র ও সভ্য জাতিপুঞ্জের প্রতিটি জাতিই বাবা আদম (আঃ) থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কোন না কোনভাবে মানবিক প্রয়োজনের মৌলনীতিগুলোর মতৈক্য বজায় রেখে চলছে। যদি কেউ তার বিরোধিতা করতে চায় তো সর্বস্তরের লোক তাকে খারাপ জানে। সে নীতিগুলো এরূপ সর্বজনবিদিত ও স্বীকৃত যে, প্রকাশ্য দিবালোকের মতই তা সুস্পষ্ট। হয়ত সেগুলো শাখা-প্রশাখায় কিছুটা মতানৈক্য দেখা যায় সেটাকে আমার বক্তব্যের পরিপন্থী মনে করা যায় না।
উদাহরণ স্বরপ বলা যায়, মৃতের সৎকার নীতিতে সার্বজনীন মতৈক্য রয়েছে। তবে তার পদ্ধতিতে মতানৈক্য দেখা দেয়। কোন সম্প্রদায় তাঁকে মাটির নিচে দাফন করে, কোন সম্প্রদায় তাকে জ্বালিয়ে ভস্ম করাকেই উত্তম মনে করে। তেমনি বিয়ের ব্যাপারটি; সবাইকে জানানোর নীতিতে সবাই একমত। উদ্দেশ্য হল, বিয়ে ও ব্যভিচারের পার্থক্য সৃষ্টি করা। তথাপি তার পদ্ধতিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। একদল সাক্ষী, ইজাব-কবুল ও ওলিমা করে তা সম্পন্ন করে, অপর দল আবার গান-বাজনা ও জাঁকজমকের পোশাক দিয়ে তা সম্পন্ন করে। ব্যভিচারী ও চোরকে শাস্তি দেয়ার নীতিতে সবাই একমত। তবে তার পদ্ধতিতে পার্থক্য দেখা যায়। এক সম্প্রদায় প্রস্তরাঘাতে মৃত্যু দণ্ড ও হাত কাটার বিধান দেয়, অন্য সম্প্রদায় কঠোর মারপিট, সশ্রম কারাদণ্ড, মোটা অংকের জরিমানা ইত্যাকার শাস্তির ব্যবস্থা করে।
আলোচ্য সর্বসম্মত মূলনীতির ব্যাপারে দু’শ্রেনীর লোকেরা মতানৈক্য ধর্তব্য নয়। কারণ, তারা সভ্য সমাজের নিম্নস্তরে থেকে জীব-জানোয়ারের আচার-আচরণ অনুসরণ করে। যেমন, মানব সমাজের বড় একটি অংশ মূর্খ ও নির্বোধ হওয়ায় তারা কোন নিয়ম-শৃঙ্খলার বাঁধনে থাকতে নারাজ! তাদের এ বাঁধনমুক্ত উচ্ছৃঙ্খল জীবনের কামনাই প্রমাণ করে যে, তারা আহাম্মক। দ্বিতীয় দল হল, পাপাচারী। তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ করে দেয় পাপাসক্তি! তাই তাদের অন্তর থেকে যদি পাপাসক্তি বিলুপ্ত করা যায়, তাহলে তারাও সুশৃঙ্খল জীবনের পক্ষপাতী হয়ে যায়। তারা তাদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবৃত্তির তাড়নায় অস্থির হয়ে অপরের মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করে থাকে বটে, কিন্তু কেউ যদি তার মা বোনদের ইজ্জত নষ্ট করে, তাহলে ক্রোধে ফেটে পড়ে। এতে বুঝা যায়, উক্ত খারাপ কাজটি যে খারাপ সে ব্যাপারে তার অন্যান্যের মতই উপলব্ধি রয়েছে। সে এটাও বুঝে যে, এ কাজ সামাজিক জীবনকে কলুষিত করে। কিন্তু প্রবৃত্তির তাড়না তাকে ক্ষণিকের জন্য অন্ধ করে ফেলে। চুরি, আত্মসাৎ ইত্যাদির অবস্থাও তাই।
এ ক্ষেত্রে কেউ যেন ভেবে না বসে যে, এ মৌলনীতির মতৈক্যটা ঠিক পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের লোকের রুটি তৈরী করে খাওয়ার মতই একটি ব্যাপার। এরূপ ধারণা হবে এক মস্ত বড় ধোঁকা। কারণ, একটি হল প্রকৃতিগত ঐক্য, অপরটি হল বিবেকগত ঐক্য। এ দুটির ভেতরে আকাশ-পাতাল তফাত। মানবিক বিবেক, ভৌগোলিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক সব ব্যবধান ডিংগিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে যে, আলোচ্য মৌলনীতিগুলো স্বভাবতই এক হবে। সে মানবিক সহজাত স্বভাব মানুষ হিসেবে মানুষের ভেতরে তা অহরহ ঘটার কারণে এবং মানবিক চরিত্র ও সুস্থ বদ্ধির প্রভাবে সৃষ্ট হয়ে থাকে।
যদি কোন লোক লোকালয় থেকে দূরে কোন জংগলেও লালিত-পালিত হয়, সে যদি লোকালয়ের লোকের অনুসৃত রীতি-নীতি সম্পর্কে কিছুই জানতে না পায়, তথাপি তার ক্ষুধা লাগবে, পিপাসা সৃষ্টি হবে, কামনা-বাসনাও দেখা দেবে। নিঃসন্দেহে তার ভেতরে নারীর প্রতি আকর্ষণ জন্ম নেবে। তারপর সেই সন্তান নিয়ে তারা পারিবারিক জীবন যাপন করবে। ফলে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচার-আচরণ প্রকাশ পাবে। এটাই মানব সমাজ ও রাষ্ট্রের পয়লা স্তর। তারপর যখন তাদের সংখ্যা বাড়বে, তখন অবশ্যই তাদের ভেতর মেধাবী ও চরিত্রবান লোক দেখা দেবে। তখন তাদের ভেতর এমন সব কাজ-কারবার হবে, যার ফলে ধীরে ধীরে সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তরের রীতি-নীতিই অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।
মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ১০
মানব সমাজে প্রচলিত রীতি-নীতি

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন