মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (২৭) সার্বজনীন মানবিক মৌলনীতি



মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ৯ 

📚 হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (পর্ব- ২৭)
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসী দেহলভী (রহঃ)

সার্বজনীন মানবিক মৌলনীতি 
আবাদ পৃথিবীর সকল রাষ্ট্র ও সভ্য জাতিপুঞ্জের প্রতিটি জাতিই বাবা আদম (আঃ) থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কোন না কোনভাবে মানবিক প্রয়োজনের মৌলনীতিগুলোর মতৈক্য বজায় রেখে চলছে। যদি কেউ তার বিরোধিতা করতে চায় তো সর্বস্তরের লোক তাকে খারাপ জানে। সে নীতিগুলো এরূপ সর্বজনবিদিত ও স্বীকৃত যেপ্রকাশ্য দিবালোকের মতই তা সুস্পষ্ট। হয়ত সেগুলো শাখা-প্রশাখায় কিছুটা মতানৈক্য দেখা যায় সেটাকে আমার বক্তব্যের পরিপন্থী মনে করা যায় না। 
উদাহরণ স্বরপ বলা যায়মৃতের সৎকার নীতিতে সার্বজনীন মতৈক্য রয়েছে। তবে তার পদ্ধতিতে মতানৈক্য দেখা দেয়। কোন সম্প্রদায় তাঁকে মাটির নিচে দাফন করেকোন সম্প্রদায় তাকে জ্বালিয়ে ভস্ম করাকেই উত্তম মনে করে। তেমনি বিয়ের ব্যাপারটিসবাইকে জানানোর নীতিতে সবাই একমত। উদ্দেশ্য হলবিয়ে ও ব্যভিচারের পার্থক্য সৃষ্টি করা। তথাপি তার পদ্ধতিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। একদল সাক্ষীইজাব-কবুল ও ওলিমা করে তা সম্পন্ন করেঅপর দল আবার গান-বাজনা ও জাঁকজমকের পোশাক দিয়ে তা সম্পন্ন করে। ব্যভিচারী ও চোরকে শাস্তি দেয়ার নীতিতে সবাই একমত। তবে তার পদ্ধতিতে পার্থক্য দেখা যায়। এক সম্প্রদায় প্রস্তরাঘাতে মৃত্যু দণ্ড ও হাত কাটার বিধান দেয়অন্য সম্প্রদায় কঠোর মারপিটসশ্রম কারাদণ্ডমোটা অংকের জরিমানা ইত্যাকার শাস্তির ব্যবস্থা করে। 
আলোচ্য সর্বসম্মত মূলনীতির ব্যাপারে দুশ্রেনীর লোকেরা মতানৈক্য ধর্তব্য নয়। কারণতারা সভ্য সমাজের নিম্নস্তরে থেকে জীব-জানোয়ারের আচার-আচরণ অনুসরণ করে। যেমনমানব সমাজের বড় একটি অংশ মূর্খ ও নির্বোধ হওয়ায় তারা কোন নিয়ম-শৃঙ্খলার বাঁধনে থাকতে নারাজ! তাদের এ বাঁধনমুক্ত উচ্ছৃঙ্খল জীবনের কামনাই প্রমাণ করে যেতারা আহাম্মক। দ্বিতীয় দল হলপাপাচারী। তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ করে দেয় পাপাসক্তি! তাই তাদের অন্তর থেকে যদি পাপাসক্তি বিলুপ্ত করা যায়তাহলে তারাও সুশৃঙ্খল জীবনের পক্ষপাতী হয়ে যায়। তারা তাদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবৃত্তির তাড়নায় অস্থির হয়ে অপরের মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করে থাকে বটেকিন্তু কেউ যদি তার মা বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেতাহলে ক্রোধে ফেটে পড়ে। এতে বুঝা যায়উক্ত খারাপ কাজটি যে খারাপ সে ব্যাপারে তার অন্যান্যের মতই উপলব্ধি রয়েছে। সে এটাও বুঝে যেএ কাজ সামাজিক জীবনকে কলুষিত করে। কিন্তু প্রবৃত্তির তাড়না তাকে ক্ষণিকের জন্য অন্ধ করে ফেলে। চুরিআত্মসাৎ ইত্যাদির অবস্থাও তাই। 
এ ক্ষেত্রে কেউ যেন ভেবে না বসে যেএ মৌলনীতির মতৈক্যটা ঠিক পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের লোকের রুটি তৈরী করে খাওয়ার মতই একটি ব্যাপার। এরূপ ধারণা হবে এক মস্ত বড় ধোঁকা। কারণএকটি হল প্রকৃতিগত ঐক্যঅপরটি হল বিবেকগত ঐক্য। এ দুটির ভেতরে আকাশ-পাতাল তফাত। মানবিক বিবেকভৌগোলিকধর্মীয়সাংস্কৃতিক সব ব্যবধান ডিংগিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে যেআলোচ্য মৌলনীতিগুলো স্বভাবতই এক হবে। সে মানবিক সহজাত স্বভাব মানুষ হিসেবে মানুষের ভেতরে তা অহরহ ঘটার কারণে এবং মানবিক চরিত্র ও সুস্থ বদ্ধির প্রভাবে সৃষ্ট হয়ে থাকে। 
যদি কোন লোক লোকালয় থেকে দূরে কোন জংগলেও লালিত-পালিত হয়সে যদি লোকালয়ের লোকের অনুসৃত রীতি-নীতি সম্পর্কে কিছুই জানতে না পায়তথাপি তার ক্ষুধা লাগবেপিপাসা সৃষ্টি হবেকামনা-বাসনাও দেখা দেবে। নিঃসন্দেহে তার ভেতরে নারীর প্রতি আকর্ষণ জন্ম নেবে। তারপর সেই সন্তান নিয়ে তারা পারিবারিক জীবন যাপন করবে। ফলে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচার-আচরণ প্রকাশ পাবে। এটাই মানব সমাজ ও রাষ্ট্রের পয়লা স্তর। তারপর যখন তাদের সংখ্যা বাড়বেতখন অবশ্যই তাদের ভেতর মেধাবী ও চরিত্রবান লোক দেখা দেবে। তখন তাদের ভেতর এমন সব কাজ-কারবার হবেযার ফলে ধীরে ধীরে সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তরের রীতি-নীতিই অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।

মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ১০ 
মানব সমাজে প্রচলিত রীতি-নীতি 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...